“মুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার অভিজ্ঞতা বর্ণনা” : একটি দিকনির্দেশনা।

৬ই সেপ্টেম্বর ২০১৫ইং, সন্ধ্যে ৬টা ০৪মিনিট।
জিমেইলের ইনবক্সে এফওএসএস বাংলাদেশের তথ্য ও গবেষণা সচিব সগীর হোসাইন খানের বিশেষ বার্তা পেলাম। :)

প্রিয় সবাই।
সালাম ও শুভেচ্ছা!

এই বছর আমাদের মাঝে অভাবনীয় ভাবে ১৫ জন স্বেচ্ছাসেবী যুক্ত হয়েছেন। শেষ যে ৮জন যুক্ত হয়েছেন তারা নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি এফওএসএস বাংলাদেশ পরিবারকে আরো সমৃদ্ধ করেছেন বলেই আমার বিশ্বাস।
এফওএসএস বাংলাদেশ যে নিয়মিত আয়োজনগুলো করে থাকে সেখানে প্রতিটি স্বেচ্ছাসেবীকে সুযোগ দেওয়া হয় বক্তব্য প্রদান করার জন্য। এটি শুরু হয় ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করার মাধ্যমে। এটি একটি সহজ কাজ। এতে করে বক্তার মাঝে বক্তব্য প্রদানের জড়তা কেটে যায় এবং ভবিষ্যতে আরো ভালো কিছু নিয়ে বলার আগ্রহ এবং যোগ্যতা তৈরী হয়।
এই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করার প্রক্রিয়াটিকে আরো সহজ করতে বেশ কয়েক মাস আগে আমি এবং লোমানী আপু একটা দিকনির্দেশনা তৈরী করেছিলাম। নতুন যারা আমাদের সাথে যুক্ত হয়েছেন তাদের কাথা চিন্তা করে দিকনির্দেশনাটি আবারও ইমেইল করে দিলাম যাতে করে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করার ক্ষেত্রে নিজেদের প্রস্তুত রাখতে পারেন।

==================================

“মুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার অভিজ্ঞতা বর্ণনা”র দিকনির্দেশনা:
১। নিজের পরিচয় — নাম, পড়াশোনা, কাজ
২। প্রথমে কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করতাম?
৩। ওটাতে সুবিধা এবং অসুবিধা কি হতো?
৪। কিভাবে মুক্ত প্রযুক্তি/জিএনইউ লিনাক্স ডিস্ট্রো সম্পর্কে জানলাম?
৫। কার সাহায্যে এবং কবে থেকে মুক্ত প্রযুক্তি/জিএনইউ লিনাক্স ডিস্ট্রো ব্যবহার শুরু করলাম?
৬। ব্যবহার করতে গিয়ে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম এবং কিভাবে সেগুলোর সমাধান করলাম?
৭। অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার পর ব্যবহার করতে কেমন লাগছে?
৮। আমার মতে সবাই মুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার কেন করবে?
৯। মুক্ত প্রযুক্তি/জিএনইউ লিনাক্স ডিস্ট্রো ব্যবহার শুরু করতে গেলে কারা সাহায্য করবে / করতে পারে?

এটা কোন সীমা না যে এর বাইরে কিছু বলা যাবে না। এটি মূলত শুরু করার জন্য এবং কথার প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য সহায়িকা। কারও যদি মনে হয় এর সাথে আরও কিছু যুক্ত করলে বক্তব্য সুন্দর ও সাবলীল হবে তাহলে সানন্দে সেটি/সেগুলো যুক্ত করতে পারবে। তবে সময়ের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সাধারণত এই ধরনের বক্তব্য ৫ মিনিটের চাইতে বেশী শুনতে ভাল লাগে না।

সবার বিশেষ করে নতুন যারা যুক্ত হয়েছেন তাদের কাছ থেকে মতামত আশা করছি!

৭ই সেপ্টেম্বর ২০১৫ইং, রাত ১২টা ০৬মিনিট।
সগীর ভাইয়ের মেইলের প্রশ্নগুলোর জবাব লেখার কাজ মোটামুটি এগিয়েছে। উত্তরগুলোয় কিঞ্চিৎ বাক্যবিন্যাস করেই এফওএসএস বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবকতালিকায় পাঠিয়ে দিলাম যেনো ষাটের কিছু বেশী স্বেচ্ছাসেবী সেগুলো পড়তে-জানতে-বুঝতে পারেন। নিজের ব্লগেও কাজটা তুলে রাখাটা জরুরী মনে হলো। হয়তোবা আগামীতে আরো অনেকের কাজে আসবে বিষয়টা।

“মুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার অভিজ্ঞতা বর্ণনা”র দিকনির্দেশনা:
১। নিজের পরিচয় — নাম, পড়াশোনা, কাজ

আমার নাম সাজেদুর রহিম জোয়ারদার রিং।

পড়াশোনা ইংরেজী সাহিত্যে সম্মান সহ স্নাতক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

কাজ যে কি কি করি তা বলা মুশকিল। তবে বেশ মনে আছে যে প্রতিদিন সকাল বেলা দাঁত ব্রাশ করি। তারপর নাস্তা খাই, কম্পিউটিং করি, আড্ডা পিটাই। দুপুরে আবারো খাই, তারপর আবারো আড্ডা পিটাই, ঘোরাফেরা করি কিঞ্চিৎ। অতঃপর সন্ধ্যায় আবারো হালকা নাস্তা করি। তারপর আবারো আড্ডা পিটাই, কম্পিউটিং করি এবং রাত্রে আবারো খাই, দাঁত ব্রাশ করি আর কম্পিউটিং করি। সবশেষে বিশ্রামে যাই এবং পরের দিন সকাল বেলা আবারো ……।

এসব নিয়মতি কাজের ফাঁকে ফাঁকে সুযোগ পেলে জালাল আহমেদ গ্রুপের আইটি বিভাগে মাঝে মধ্যে বেড়াতে যাই। ওখানে কিঞ্চিৎ খোশগল্প করার মেজাজ থাকলে করি, নাইলে ঝাড়ি যা মারার তা মেরে আসি। বাংলাদেশের অন্যতম একটা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর শিক্ষার্থীদের সাথে আমাকে কিছু সময়ের জন্য একত্রিত হবার সুযোগ করে দিয়েছে। আমি সুযোগ পেলেই ওখানেও জম্পেশ করে আড্ডা পিটাতে চলে যাই। অবাক করা বিষয় হচ্ছে এসব আড্ডা পিটানোয় আমার ব্যাংকিং হিসেবে পয়সাও জমা পড়ে। :)

নিজের আড্ডা পিটানোর বিষয়টার চুড়ান্ত বন্দোবস্ত করেছি কিছুদিন আগেই। “নাটবল্টু” নামে অষ্টকপূর্ণ একটা কারবার চালু করেছি। কাজের কাজ ছেলেরা সবেমিলে করে আমি যেইকার সেই — আড্ডা পিটাই। :D

তবে হ্যাঁ, কাজের কাজ যদি কিছু করেই থাকি তো সেটা এফওএসএস বাংলাদেশ। দেশ আর দেশের জনগনের জন্য প্রযুক্তির সুফল নিশ্চিত করতে, প্রযুক্তিকে নিরাপদ করতে আমার আড্ডা পিটানোর জ্ঞানগুলো এ জায়গায় এসে বাস্তবতার মুখ দেখে।

২। প্রথমে কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করতাম?

প্রযুক্তি জীবনের পথ চলার শুরুতে খিড়কী’৯৫ দেখেছিলাম আমার ফুপাতো ভাইয়ের কম্পিউটারে। সে ১৯৯৬ইং সালের কথা। ২০০০ইং সালে আমার হাতে আসে আমার প্রথম বিবিজান, ইনি পেন্টিয়াম ৩ ৬০০মে.হা প্রসেসর, ৬৪মে.বা মেমরি আর ৩০জিবি কোয়ান্টাম ফায়ারবল হাড্ডিযুক্ত ছিলেন। ঘরে আনবার কালে উকিল আব্বা বা আমার পিসির সিস্টেম ইঞ্জিনসাবে ওনার মগজ ধোলাই করে দিয়েছিলেন খিড়কী ৯৮ দিয়ে।

৩। ওটাতে সুবিধা এবং অসুবিধা কি হতো?

ওরে মামু! আর কইয়েন না। বাসার আইন্যা পরথমবার বিবিজানের খোমা দেখনের আগেই ধরা পড়লো আমার বিবিজান বয়রা/বোবা-কালা। আমার নিজের আব্বাজান তো হুংকার দিয়া বসলেন যে আমি না বুইঝ্যা নকল মাল কিনছি আর ঠগছি। তখনো যদি জানতাম যে বিষয়টার প্যাঁচ অন্যখানে। যাই হোক আমার স্কুল জীবনের এক বড় ভাইরে ধরলে উনি কইলেন যে সাউন্ড ড্রাইভার ফেইল মারছে নতুন করে নাকি খিড়কীরে ইন্সটলাইতে হবে।

ঘন্টা দেড়েকের কারবার শেষে বড় ভাইয়ের পরামর্শের বাস্তবায়নে, আমার প্রথম বিবিজান সাকসেসফুল অপারেশন শেষে সুস্থতায় ফিরে আসারা রোগীর মতো উচ্ছ্বসিত কলরব করে উঠলেন। মাগার মিজাজ বিগড়াইলে এই দেখে যে ঘন্টা খানেক পরেই আমার বিবিজান আবারো বোবাকালা। কি মুসিবত নতুন কম্পু আমার মান-ইজ্জ্বত বইল্যা আর কিছু রাখলো না এলাকার ছোট ভাই-বেরাদরদের সামনে।

৪। কিভাবে মুক্ত প্রযুক্তি/জিএনইউ লিনাক্স ডিস্ট্রো সম্পর্কে জানলাম?

১৯৯৮সালে বিসিআইসি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে থাকাকালীন আমার এক সহপাঠী, ডাকনাম – মামা মতান্তরে কানন মামা মতান্তরে ইয়েচচার প্রথমবারের মতো একটা চকচকে বই দিয়ে গোল বাধালো। হাতে পেলাম কম্পিউটার জগৎ পত্রিকা। ওটা থেকে কম্পিউটিং, বাংলাদেশের কম্পিউটিং, হার্ডওয়্যার বাজার ইত্যাদি নিয়ে বেশ জ্ঞান আহরন করা গেলো। তারপর সেই জ্ঞানের ভারে উল্টে পড়ে যাই যাই এমন অবস্থায় ১৯৯৯ইং সালের জানুয়ারীতে একদিন মিরপুর-১ নম্বরে (বর্তমান জিপি সেন্টারের ঠিক সামনে) পত্রিকার একটা দোকানে নজর কাড়লো পিসি কোয়েস্ট নামের একটা পত্রিকা। ইংরেজি ভাষার পত্রিকাটির প্রথম পাতা জুড়ে থাকা মোহনীয় ভঙ্গিমার এক অবলা নারী আমার প্রজন্মের ঐ সময়কার পোলাপাইনের জন্য বিরাট বিষয়।

মাগার আমি আটকা খাইলাম “পিসির জন্য সঠিক মাদারবোর্ড কিভাবে বাছাই করা উচিত” শিরোনামটা দেখে। দোকানীর কাছ থেকে চেয়ে নিয়ে পড়া শুরু করে দিলাম। তখনকার দিনের ব্যবসায়ীরা আজকালকার মতো অত্ত কাটখোট্টা মার্কা ছিলো না। কিছুক্ষণ পড়তে দিলেন ভদ্রলোক। ঐ সময়ে দশটাকার কম্পিউটার জগৎ কিনতেই আব্বার কাছ থেকে পয়সা বার করতে কুপাকুপি লেগে যেতো আর তো চল্লিশ টাকার ঐ ইংরেজি পত্রিকা। তার উপরে আবার ঐ সংস্করনের সাথে থাকা একটা সফটওয়্যার সিডি এবং ঐ সংখ্যার মূল্য মোটের উপরে আশি টাকা। দোকানীকে অনেক অনুরোধ করে বাসায় ফিরলাম, মনে আশা পয়সার একটা বন্দোবস্ত হবেই হবে।

মা’কে বলতেই অবশ্য কাজের কাজ হয়ে গেলো। এসএসসি’র ফলাফলের জন্য বৃত্তির কিছু টাকা পেতাম। সেখান থেকে মা একশো টাকার একটা নোট দ্রুতই আমার হাতে দিয়ে বললেন পত্রিকাটা কিনে আনতে। টাকাটা শার্টের বুক পকেটে পুরে দে গোল্লাছুটের দৌড়। মিরপুরে চিড়িয়াখানার ঢালের থেকে মিরপুর ১ নম্বরের ঐ দোকান, পাক্কা সাড়ে সাত মিনিটে গেলাম। দোকানী তো পুরাই টাস্কি পোলায় কি পাইছে পত্রিকায় যে একশো টাকার বাতিক উঠে গেলো। পত্রিকা খুলে, পাতাগুলো উল্টেপাল্টে দেখে তারপর আমার হাতে দিলেন।

যাই হোক বাসায় ফিরে এসে সিডিটা চালানোর কোন ব্যবস্থা করতে পারলাম না। কারন আশেপাশের বাসায় ভিসিপি থাকলেও কোন সিডি প্লেয়ার ছিলো তখনো। আমার বাসায় তো সর্বোচ্চ আব্বার টুব্যান্ড রেডিও আর একটা ডবল ডেক ক্যাসেট প্লেয়ার। ১৯৮৫সালে কেনা ফিলিপস ১৪ইঞ্চি’র সাদাকালো টেলিভিশনটা অবশ্য সেই সময়ে বাসায় ছিলো তবে তাতে কথা আসলেও ছবি আসতো না। ১৯৯৯ইং তে অবশ্য বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে সনির ট্রিনিট্রন প্রযুক্তি যুক্ত ২১ইঞ্চি পর্দার কালার নতুন টেলিভিশন আসে বাসায়।

তবে আর কিছু করি আর না করি পত্রিকটার প্রতিটা অক্ষর অবদি মনে গেঁথে ফেলেছিলাম। আর সিডিটার সম্পর্কে জেনেছিলাম যে ওঁর ভেতরে মিলবে পিসিকোয়েষ্ট লিনাক্স নামে একটা নতুন ধরনের অপারেটিং সিস্টেম। কম্পিউটার একটা হাতে পেলে ওটার উপরে পরীক্ষা চলবে নিয়্যত করা থাকলো।

৫। কার সাহায্যে এবং কবে থেকে মুক্ত প্রযুক্তি/জিএনইউ লিনাক্স ডিস্ট্রো ব্যবহার শুরু করলাম?

ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ঠিক উল্টো পাশেই ছিলো আমার কম্পুর দোকানটা, এক্সেল টেকনোলজিস। নতুন কম্পুর হটাৎ হটাৎ বোবাকালা হয়ে যাবার বিষয়টায় মন কষে গিয়েছিলো। শুধুমাত্র সিস্টেমটাকেই হাতে করে মেট্রো লিংকের বাসে চেপে মিরপুর-১ থেকে চলে আসলাম সাইন্সল্যাবের মোড়ে। অতঃপর পদব্রজে যথাস্থানে। হার্ডওয়্যার ইঞ্জিন বা আমার সেই উকিল আব্বা তো দেখেই থ! গতকালকেই নতুন পিসি কিনে আজকেই সার্ভিস সেন্টারে নিয়ে আসছে মানে সিরিয়াস হার্ডওয়্যার ইস্যু। আমাকে বিভিন্নভাবে প্রশ্ন করে জানতে চাইলো আমার বাসায় বিদ্যুৎতের সরবরাহ কিরকম? স্ট্যাবিলাইজার আছে কি না? ইউপিএস ব্যবহার করি কি না ইত্যাদি। তারপরেও যখন আমি তাঁর কোন ফাঁদে আটকা পড়লাম না তখন উনি বসলেন আমার সিস্টেমটা নিয়ে। কিছু কাজ করার পর সিস্টেমটা দাঁড়িয়ে গেলো এবং উনি আমাকে উপদেশ দিলেন যেনো পিসিসিলিন নামের অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করি। কেননা যে ফ্লপি দিয়ে সিস্টেমটাকে বুট করা হচ্ছিলো সেটাতে নাকি ভাইরাস ধরবার সুযোগ ছিলো এবং ওটাই নাকি ক্ষতিগ্রস্ত করে দিচ্ছে আমার নতুন সিস্টেমকে।

পত্রিকালব্ধ জ্ঞানের ভারে টালমাটাল আমি ঐ সময়ে ঐ মূহুর্তেই ঝেড়ে দিলাম নিজের জ্ঞান। সাথে করে নিয়েছিলাম আমার বিবিজানের সাথে যৌতুকের মতো চলে আসা গহনার মতো সব সিডি আর ফ্লপিগুলো এবং প্রায় দুই বছর আগেরকার সেই ম্যাগাজিন সাথে কেনা ডিস্কটা। বলে বসলাম যেনো উনি আমাকে ওখান থেকে ওটা ইন্সটল করে দেন কেননা পত্রিকায় পড়েছিলাম ঐ সিস্টেমে কোন ভাইরাস জনিত সমস্যাই নাকি নেই। কিন্তু উনি আমাকে সেই কাজটা না করে দিয়ে সোজা কাউন্টারে পাঠিয়ে দিলেন এবং কাউন্টার থেকে আমাকে জানানো হলো যে দুই হাজার টাকা অতিরিক্ত দিলে তবেই আমার সেই ডিস্ক থেকে ওএস ইনস্টল করে দেয়া হবে আমার পিসিতে। এমনিতেই আটান্ন হাজার টাকার চুনা লেগেছে তারপরেও যদি আমার বাপ কে বলি এই দুইহাজার টাকার চুনা লাগাতে তাইলে আমি আর আমার প্রথম বিবিজান দুইটাই বাসার বাইরে থেকে যাবার সম্ভাবিলিটি প্রবল!!!!

৬। ব্যবহার করতে গিয়ে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম এবং কিভাবে সেগুলোর সমাধান করলাম?
৭। অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার পর ব্যবহার করতে কেমন লাগছে?
৮। আমার মতে সবাই মুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার কেন করবে?
৯। মুক্ত প্রযুক্তি/জিএনইউ লিনাক্স ডিস্ট্রো ব্যবহার শুরু করতে গেলে কারা সাহায্য করবে/করতে পারে?

আমার ধারনা এটুকু পড়তেই আপনাদের চোখে ক্লান্তি এসে ভর করেছে। আজকে ওটুকুই। বাকীটা না হয় পরে দিবোনি কোন একদিন। :)

এটা কোন সীমা না যে এর বাইরে কিছু বলা যাবে না। এটি মূলত শুরু করার জন্য এবং কথার প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য সহায়িকা। কারও যদি মনে হয় এর সাথে আরও কিছু যুক্ত করলে বক্তব্য সুন্দর ও সাবলীল হবে তাহলে সানন্দে সেটি/সেগুলো যুক্ত করতে পারবে। তবে সময়ের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সাধারণত এই ধরনের বক্তব্য ৫ মিনিটের চাইতে বেশী শুনতে ভাল লাগে না।

হয়ে গেলো তো!! আমার বাকী থাকা কথাগুলো আর বলার সুযোগ কই! :(

সবার বিশেষ করে নতুন যারা যুক্ত হয়েছেন তাদের কাছ থেকে মতামত আশা করছি!

নবীনেরা, একমাত্র নবীনেরাই পারেন এই কথার দম আটকে যাবার বিপদ থেকে আমাকে উদ্ধার করতে। কেউ কি নিজের কান/চোখ বাড়িয়ে দেবেন আমার কথাগুলো শুনতে/পড়তে। :D

৯ই সেপ্টেম্বর ২০১৫ইং, সন্ধ্যে ৬টা ০৪মিনিট।
প্রিয় সবাই
অনেক অনেক ধন্যবাদ নিজ নিজ ব্যস্ততার ফাঁকে আমার লেখাটা পড়ে নেয়ায়। পড়বার পর নিয়মিত জবাব পেলে আমার মতো বুড়ো মানুষগুলো তো বটেই নবীণেরা প্রচন্ডরকমের উৎসাহ পাবে, কথা বলবে, কথা শুনবে।

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ৬:০৪ pm এ তে, সগীর হোসাইন খান লিখেছে:
৫। কার সাহায্যে এবং কবে থেকে মুক্ত প্রযুক্তি/জিএনইউ লিনাক্স ডিস্ট্রো ব্যবহার শুরু করলাম?

বিগত দিনের পর থেকে ….
দুপুরের পরপর বাসায় ফিরলাম ভগ্নমনঃরথে। কারন এই পিসির যন্ত্রনা বাবার সামনে বলাও যাবে না আবার ধরা না খেয়ে থাকবেও না। সিআইএ/কেজিবি/মোসাদ/আইএসআই/র সব গোয়েন্দা এনে হাজির করবে আমার বাবা যদি জানতে পারে যে নুতন সিস্টেমে ঐ রকমের কোন গড়বড় করছে আর আমি দৌড়ের উপরে আছি তো!

বিকালে বসে গেলাম ঐ সেই সিডি নিয়ে আর মাদারবোর্ডের ম্যানুয়াল নিয়ে। এখনো পুরো খেয়াল আছে যে আমার প্রথম বিবিজানের মেরুদন্ড বা সিস্টেম মাদারবোর্ডটা ছিলো ইন্টেল ৪৪০বিএক্স২ মডেলের। ওটার তথ্যকণিকা ঘেঁটে যতটুকু পেলাম তাতে কিভাবে সিস্টেম বুট করতে হয় তা জানা গেলো। আফসোসের বিষয় পুরোটা লেখাই খিড়কী ৯৮ নিয়ে ছিলো। :(

ছোট বেলায় ১৯৮৬-৮৭ইং, বাবা/চাচা/মামা/কাকা/মামাতো-খালাতো ভাই যেই কোন কলম বা খেলনা কিনে দিতো আমার প্রথম দ্বায়িত্ব ছিলো যত্নসহকারে সেটার নাটবল্টু সব খুলে দেখা। কোনটা সবশেষে জোড়া দিয়ে কাজের মতো করা যেতো কোনটা নষ্ট হতো। স্প্রিং লাগানো কাঠের একটা বন্দুক সেই সময় পুরো পাঁচ টাকা। ডানো দুধের খালি টিন বাসার থেকেই ফেরীওয়ালারা তিনটাকায় কিনে নিয়ে যেতেন। আম্মা সেই টিন বেচা টাকায় আমাকে ম্যাকগাইভার আর সাদ্দাম হোসেনের ছবিওয়ালা খাতা, নীল কালির রাইটার আর ক্যাম্পাস বলপেন কিনে দিতেন। ওগুলোর যেটা যেভাবে খোলা যেতো খুলে ফেলতাম। একবার খেয়াল আছে যে রাইটার বলপেনের বল কিভাবে লাগায় তা বুঝে উঠতে গিয়ে দাঁত দিয়ে কামড়ায়ে নিবের সামনে থেকে বল ছুটায়ে ফেললাম। নতুন কলম মাগার বল ছুটানোর পরে তো আর লেখা সহজে হয় না কিংবা হলেও কালি থেবড়ে যায়, মোটা লেখা হয়। বিরাট মুসিবত সামলাতে কালি কমিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত এবং কলমের পেছনের দিকে মুখ লাগিয়ে জোরে নিঃশ্বাসের টান। আর যায় কোথা সব নীল কালিতে মুখ-জিহবা-জামা মাখামাখি করে ফেললাম। পরে এটার জন্যে অবশ্য ধোলাই খাইনি তবে আম্মার হাতের উপরে বেশ কসরৎ গিয়েছে গোটা কয়েক দিন। ৮৮’র বন্যায় ঢাকায়, ইব্রাহিমপুরে দাদার ঢাকার বাড়ির বারান্দা আর সিঁড়ি ঘরের তলায় মশারির জাল পেতে তেলেটাকির ছানাপোনা ধরা, ছাদের কার্নিশ বেয়ে পেয়ারা আর জামরুল গাছের ডালে ডালে লাফিয়ে বেড়ানো আর বিকালে ছাদে বসে বসে পাশের বাড়ির টেকো মল্লিক চাচার মাথায় আখের ছোবড়া দিয়ে নিশানা করা ছিলো অন্যতম কাজ। বেশ ভালো স্মরণ আছে যে ১৯৮৭ইং সালে নারিকেল ছিলবার সময় দা’য়ের কোপে ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুলের নখের অর্ধেকটা সহ আগার অংশ কেটে ঝুলে গেলে সেটা আমি আবার জোড়া দেবার কাজে ব্যস্ত ছিলাম, কান্না করিনি একটুও। আম্মা গোসলখানা গিয়েছিলেন আমাকে নারিকেল কাটায় ব্যস্ত রেখে, ফিরে এসে আমার কান্ড আর রক্তে ভেসে যাওয়া মেঝে দেখে উনিই চাচা-ফুফুদের ডেকে চিল্লিয়ে পুরো বাড়ি মাথায় তুলেছিলেন। পরিশেষে আব্বার চেম্বারের আলমারীর থেকে ওষুধ আর তুলা এনে আঙ্গুলটা ব্যান্ডেজ করে তবে শান্ত হয়েছিলেন আমার মা। আর্নিকা মাদার লাগানোর সময় কাটা অংশে জ্বালা ধরায় প্রচন্ড চেঁচিয়েছিলাম।

ঐ রকমের ত্যাঁদোড় এক বান্দার হাতে পড়ে আমার প্রথম বিবিজানের প্রথম হার্ট অ্যাটাকের দশার শুরু হলো। সিডিরমটার ভেতরে পিসিকোয়েস্ট লিনাক্সের সেই সিডি ঢুকিয়ে দিয়ে সিস্টেম বুট করতে দিলাম। বায়োসের সেটিংসে পরিবর্তন আনবার কথা বলা ছিলো কিন্তু বায়োসে ঢুকে দেখি ওটুকু আগের থেকেই করা। অতএব বায়োসের আরো বিভিন্ন অংশে চুলকে/চিপকে দিয়ে তারপর সিস্টেমের ঐ অংশ থেকে বেরিয়ে আসা, জাস্ট অভিজ্ঞতা সঞ্চয়। :)

কিছুক্ষণের মধ্যেই চালু হতে শুরু করলো নতুন ওএসটা। মনে তো আর আনন্দ ধরে না যে সবার চাইতে ভিন্ন কিছু করতে যাচ্ছি আমি। যে ওএস আমি চালাবো আমার আশে পাশের দশটা বাড়ির কম্পিউটার জানা ভাই-বেরাদরের কম্পুতে তা নাই। তবে ভড়কায়ে দিলো মনিটরের উপরের দিকে একটা পেঙ্গুইনের মার্কা আর তার নিচের দিকে বয়ে চলা হাজারো হিজিবিজি হিজিবিজি লেখার স্রোত। আমি ধরেই নিলাম ঐ সেই সিস্টেম ইঞ্জিন যা বলেছে তাই, আমার পুরো পিসিতে ভাইরাস ধরে নিয়েছে আর এখন পুরোপুরি নষ্ট হবার পথে।

আমাকের আশ্চর্য করে দিয়ে একটা কাটা (x) চিহ্ন ওয়ালা উইন্ডো আসলো মনিটরে আর নিচের দিকে লেখা উঠলো – “টেস্ট ইওর গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেস”।

৬। ব্যবহার করতে গিয়ে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম এবং কিভাবে সেগুলোর সমাধান করলাম?

পিসির স্ক্রিনে নতুন রংয়ের একটা উইন্ডো আর সাথে সুন্দর ঝকঝকে লেখায় বার্তাটুকু দেখে মনের ভেতরে আনন্দের ঠেলায় চিংড়ি/কাঁকড়ার নাচনকোদন(জগিং) চলছিলো। যা আছে কপালে, “বিসমিল্লাহ” বলে শুরু করে দিলাম একটার পর একটা বোতামে চাপ দেয়া।

রোমান হরফের বর্ননাগুলোর কিছুটা পড়ি বাকিটুকু অনুমানে বুঝে নিয়েই পরবর্তী ধাপে ছুটে চলি। একটা সময় সিস্টেমের জন্য ইউজার আইডি আর পাসওয়ার্ড চাইলো, দিয়ে দিলাম। পরে বললো – সিস্টেম ইন্সটল করার জন্য প্রায় তৈরী আমি আর এগোবো কি না? নতুন সিস্টেম চেখে দেখার আনন্দে আর দেরী করি কেন? দে “আগে বাড়ো” বোতামে চাপ। বিটিভিতে দেখা “দি সোর্ড অব টিপু সুলতান” এর হায়দার আলী’র ভূত যে তখন আমার মাথায় চড়ে গিয়েছে। যা হবার হবে, পরে দেখবো, এখন “আগে বাড়ো”।

কিছুক্ষণের মধ্যেই নতুন সিস্টেম ইন্সটলের কাজ শেষ। রিস্টার্ট দিয়ে এসে আবারো সেই হিজিবিজি লেখার একসারি পাহাড়ী স্রোত। তারপর আসলো একটা লালটুপি ওয়ালা পেঙ্গুইনের ছবি আর সেটার পেটের ডান পাশে আমার নামটা যেটা ইন্সটল করার সময়ে দিয়েছিলাম সেইটা ঝকঝক করছে। নামের নীচে পাসওয়ার্ডের জন্য ঘরটা প্রি-হাইলাইটেড ছিলো। নিজের পাসটা চেপে লগইন বোতামটায় চাপ দিতেই স্পীকারে দূর্দান্ত এক আওয়াজ ভেসে আসলো। মনে আর আনন্দ ধরে না। সাউন্ডের ড্রাইভার কিংবা ওএস নতুন করে না দিয়েই কাজ হয়েছে। বার কয়েক রিস্টার্ট দিয়ে আওয়াজ মানে সাউন্ড সিস্টেমটার পরীক্ষা করে ফেললাম।

নিজেরে ম্যাকগাইভারের সাগরেদ বোধ হচ্ছিলো তখন। অতএব আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা…. তুমুল গতিতে চলতে থাকলো। সবচাইতে প্রথম সমস্যাটা ছিলো হার্ডডিস্কের সাইজ কমে ২০জিবি হয়ে যাওয়া। মনে দুরুদুরু ভয় করছিলো কি করতে কি করে ফেলেছি ভেবে? তারপর দেখলাম যে কিছু কিছু ছাড়া বাদবাকী মাল্টিমিডিয়া ফাইলপত্র ঠিকঠাক চলে না। আর বাদবাকী সব ঠিকঠাকই ছিলো। টেক্সট এডিটর, ক্যালকুলেটর, অফিস প্যাকেজ সব একসাথে পেয়ে তো সেইরাম আনন্দ পাচ্ছিলাম! কোন কিছুই আর নিজের থেকে খুঁজতে হবে না, সব দেয়াই আছে।

মিডিয়া ফাইলগুলো কিভাবে চালাবো সেই ধাঁধার জবাব খুঁজতেই প্রথমবার এক ভাগ্নীকে সাথী করে মোহাম্মদপুরে ইকবাল রোডে একটা সাইবার ক্যাফেতে ঢুকলাম। প্রতি ঘন্টা চল্লিশ টাকা হিসেবে একটা কম্পিউটার ব্যবহার করতে হবে জেনে প্রচন্ড দমে গিয়েছিলাম সেদিন। তবে প্রথমবারের মতো ইয়াহু নামের এক আজব জিনিষ দেখেছিলাম। কিছু একটা লিখে দিলেই সুত্র ধরে আরো হাজারো তথ্য এনে দিচ্ছিলো ইয়াহু মামা।

৭। অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার পর ব্যবহার করতে কেমন লাগছে?
৮। আমার মতে সবাই মুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার কেন করবে?
৯। মুক্ত প্রযুক্তি/জিএনইউ লিনাক্স ডিস্ট্রো ব্যবহার শুরু করতে গেলে কারা সাহায্য করবে / করতে পারে?

এই প্রশ্নগুলোর জবাবে আরো লিখবার জন্য আপনাদের থেকে আরো বেশী বেশী অনুপ্রেরণা চাই আমার!!! :)

চলবে ….

মূর্ছনায় মূর্ছিত জীবন


লেখালেখির বিশেষ সুযোগ মিলছিলোনা গত প্রায় দুটো বছর। গত বছরের শেষ দিক থেকে শরীরের অবস্থাও বেশ একটা সুবিধার না। সব মিলিয়ে লিখি-লিখবো-লিখছি করে মনের অনেক ভাব জমতে জমতে প্রায় হিমালয়সম। গত প্রায় দুই দিন সুযোগ পেলাম মনের মতো করে নিজের জ্ঞান সংগ্রহের দুয়ারগুলো খুলে বসার। লিখতে মনে চাইলো হুট করেই তাই ঘুম ঢুলু ঢুলু চোখেই যেটুকু লিখতে পারলাম লিখলাম। আগামীতে আবার কখন সুযোগ মিলবে কে জানে! :) লেখার শুরুতে কোন নাম দেবো বলে ইচ্ছে ছিলো না কিন্তু প্রকাশ করার সময় একটা শব্দ ঘনঘন মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকলো। মগজের অলিগলিতে শব্দের ঘুরপাকটাকে থামিয়ে দিতে বাধ্যগতভাবে এই লেখায় এইরকম একটা বিশালবপু মার্কা শিরোনাম দেয়া। পাঠকের কাছে অগ্রীম ক্ষমাপ্রার্থী

মানুষের জীবনে নানান রকমের অভিজ্ঞতা হয়। সব অভিজ্ঞতা সব সময় ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। কাজের অভিজ্ঞতা, গল্পের বই পড়ার অভিজ্ঞতা, আড্ডায় পাওয়া অভিজ্ঞতা, নাচের অভিজ্ঞতা, নাচতে গিয়ে আছড়ে পড়ার অভিজ্ঞতা এ সব অভিজ্ঞতাই মূলত জ্ঞান আর জ্ঞানের বিকাশকে মানব মস্তিষ্কে স্থায়ী করে রাখে। এবং সময়ে-অসময়ে এসব অভিজ্ঞতা থেকেই মানুষ জীবনের নানান সিদ্ধান্ত নিতে থাকে, আমরণ।

সকাল বেলা ঘুম ভাঙবার কথা ছিলো সকাল আটটায়, আমার ঘুম ভাঙলো প্রায় পৌনে দশটায়। ততক্ষণে আম্মা বেশ কয়েকবার ডেকে গিয়েছেন। বেশিক্ষণ ঘুমিয়ে রক্তের চিনির দোষ আরো বাড়িয়ে তুলছি বলে সতর্কতা জানিয়ে দিয়েছেন। তবু সকালের ঘুমটা বেশ ভালো লাগছিলো। চোখ মুদে পড়ে ছিলাম ঘুম ঘুম ঘোর নিয়েই। ঘুম থেকে পুরোপুরি সজাগ হতেই মাথার ভেতরে বেশ কিছু কাজের তালিকা মুঠোফোনে আসা একটানা ক্ষুদের বার্তার মতো এসে জট পাকিয়ে দিলো। শরীরটাকে পুরোপুরি সজাগ করে উপুড় হতেই মাথার সামনে চালু থাকা ল্যাপটপের পর্দায় ফায়ারফক্স ব্রাউজােরর নোটিফিকেশনে পঁয়ষট্টি সংখ্যাটা দেশেই বেশ বিরক্ত হলাম।

সারা সপ্তাহে এমনিতেই দৈনিক দেড়শোর মতো ইমেইলের উত্তর দিই। তারপরেও ক্রমাগত এই চাপ বেড়ে চলেছে দিনকে দিন। খেয়াল হচ্ছে যে রাত্রি দুইটার সময়ে ঘুমাতে যাবার কালেও ইনবক্সে কাউন্টার শূন্যতে নামিয়ে এনেছিলাম। রাত না পোহাতেই আরো ষাট+ বার্তা বিরক্তির কারন হয়ে উঠলো। যদিও জানি যে একবার ইনবক্সে ঢোকামাত্রই এই বিরক্তিই রূপ নেবে ভালোলাগায়। হুট করেই মগজের কোন একটা কোণে কিছু আলোড়ন ঘটে গেলো। মনে পড়ে গেলো প্রায় আট বছর আগের কথা। কোন এক শীতের শেষ বেলায় হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে শুয়ে চলা কম্পিউটিং দেখে ডাক্তার বলে উঠেছিলেন —
-জীবনটাকে আরো একটু বেশি সময় নিয়ে উপভোগ করতে চাও?
–সে তো সবাই চায়। আমার তো সবে ছাব্বিশ।
-সেজন্যেই তো বলা। জীবনে আরো কিছু দিন যোগ করতে হলে ঐ কোলের উপরে থাকা যন্ত্রটা থেকে দূরে সরে আসো।
–কিন্তু ডাক্তারবাবু এটাই তো আমার জানা একমাত্র কাজ, আমার ভালোলাগা, ভালোবাসা।
-যন্ত্রকে ছেড়ে বাস্তবে আসো। নিজের মতো করে কাউকে গুছিয়ে নাও। রক্ত-মাংসের ভালোবাসা অবশ্যই যান্ত্রিক ভালোবাসার চাইতে মূল্যবান ও উপভোগ্য।

তবে ডাক্তার বাবুর সেই নিষেধাজ্ঞা আজো অবদি আমার মানা হয়নি। বোঝা হয়নি রক্ত-মাংসের ভালোবাসার স্বাদ। যন্ত্র আর যন্ত্রের ভালোবাসাতেই আটকে আছি আজো। হয়তোবা শেষতক এইই থাকতে হবে।

মাথার মধ্যে এসব হাবিজাবি ভাবতে ভাবতেই মাউস দিয়ে চট করে একটা ক্লিক করে দিলাম ইনবক্স মেইল কাউন্টারটাতে। টেলিটকের বিশেষ সাশ্রয়ী থ্রিজি প্যাক ব্যবহার করি তাও আবার ঢাকার অদূরেই এক আমাজনে বসে তাতে আবার এলাকার গোটা দশেক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারকারীর মধ্যে একজন বিধায় নেটের গতি সেইরকম। ক্লিক করার পাঁচ সেকেন্ডের মাথায় চোখের সামনে পসরা সাজিয়ে বসে পড়লো জিমেইলের ইনবক্স আর কুড়ি সেকেন্ড পার না হতেই টপাটপ প্রথম পৃষ্ঠার কুড়িটা মেইলের বিষয়বস্তু পড়া হয়ে গেলো।

প্রথম তিনটা মেইলই ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রশ্ন নিয়ে এসেছে। পরের দুটো অবশ্য ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো কিছু স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের কিছু আয়োজন, কিছু সদস্যদের ব্যক্তিগত বার্তা নিয়ে। বাদবাকী সব বিভিন্ন কাজের বিষয়ে, প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগের গোটা ছয়েক মেইল। এই তো! ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনায় যেনো যেকোন সময়ে শিক্ষক হিসেবে কাছাকাছি থাকতে পারি তাই সেমিষ্টারের শুরুর ক্লাশেই ওঁদের সবার কাছে আমার ইমেইল আর মুঠোফোন নম্বরটা জানিয়ে দিই। যুক্ত করে নিই গ্রুপ মেইলে। আর তাই প্রথমেই শুরু করলাম ওঁদের সেই প্রশ্নভরা মেইল গুলো পড়া আর জবাব দেয়া। এগারোটা অবদি গেলো একের পর এক মেইলৈর জবাব লিখে লিখে। ইনবক্স মেইলগুলো প্রথম পাতা পেরিয়ে দ্বিতীয় পাতায় আসতেই চোখে ছানাবড়া দেখা শুরু হলো। অনেকগুলো বার্তা এসেছে যেগুলো কোন না কোনকালে আমি অনলাইনে কোন কিছু কেনাকাটার সাইটে দিয়ে ছিলাম। আবার কোনটা হয়তোবা

——————–(চলবে)

ভালোবাসা দিবসের অনুকাব্য


অনুকথন: বিগত প্রায় চার বছর ধরেই এই ২রা ফাল্গুনে (১৪ই ফেব্রুয়ারী) একটা করে অনুকাব্য ঝাড়ছি নিজের এই আন্তর্জালিক খেরোখাতাতে। সম্ভবত সে কারনেই আজ এই সাতসকালে, বিছানা ছাড়বার কালে, দুমদাম মগজের দরজাগুলোতে ছন্দের ঝাপটা আর তৎক্ষনাৎ সেটাকে এখানে ঝেড়ে দেয়া।

কচি-কাঁচা, পুলাপান
অকারণে দিনমান
ঘুরে ঘুরে পেরেশান
ফুল আর ফুচকায় হয়রান।

ভালোবাসার প্রকাশে
রিকশা আর পার্কেতে
হাতে হাত রেখে ঘোরাঘুরি
চোখে চোখে কথার ফুলঝুরি।

নিত্য নতুন উপহার
সময়ের দাবীদার
কে কার? কবেকার?
স্বার্থের হাহাকার।

দিন শেষে অবশেষে
রাত্রি নেমে আসে,
কথার কুড়মুড়ি, আলগা সুড়সুড়ি,
সব কিছু দমে আসে।
ভালোবাসা দিবসে।

সাধের ময়না


বছরের শুরুতেই দেশের রাজনীতিতে আকাট অস্থিরতা। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় চরম বিভ্রাট। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উপরে পরীক্ষার খড়গের সাথে সাথে জীবন নাশ এবং নানান অনিশ্চয়তার মরণকামড়। সুযোগে ফায়দা লোটা রক্তচোষাদের কামড়ে কৃষিনির্ভর অর্থনীতির শ্রমকান্ডারি চাষীদের হাহাকার-কান্না-মরণদশা। মাঠে ফসলের দাম কম অথচ বাজারে শীতের সবজি আর মাছে অগ্নিমূল্য। সরকারী চাকুরেদের বেতন বাড়ার সুসংবাদের সাথে সাথেই জ্বালানী-বিদ্যুৎ এর দাম বৃদ্ধি। অর্থমন্ত্রী কর্তৃকই চকলেট কিংবা চুইংগামের সর্বনিম্ন খুচরা মূল্য পাঁচ টাকা নির্ধারন, অর্থাৎ সরকারী সমর্থনে জনগনের অর্থের হরিলুট বা পকেটকাটা চালু। দেশের একজন অতি সাধারণ নাগরিক হিসেবে কিছুতেই অনেকগুলো হিসেব মিলছে না, মিলিয়ে নিতে পারিনি-পারছিনা। বাধ্য হয়েই আঙ্গুলগুলো একটানা কিছুক্ষণ চালিয়ে দিলাম কি-বোর্ডের উপর দিয়ে। আর যা উৎপন্ন হলো —

মনের ময়না
ধরা, দেয়না
যত আশা মনে মনে
কথা হবে তারই সনে
আমি তাঁরে, প্রেম ডোরে
বাঁধবো রে, চিরতরে।

চোখে চোখে রাখবো তাঁরে
দূরে আর যাবে নারে
দিনে-রাতে, একসাথে
হরেক রকম বায়না
আহ রে! সাধের ময়না।

বেলা বয়ে যায়


অনেকগুলো দিন হয়ে গিয়েছিলো ব্লগটাতে কোন নতুন লেখা হচ্ছে না। কাজের চাপে সময়ই তো বের করে উঠতে পারছি না গত মাস ছ’য়েক, লিখবো কি করে। মনটাও বেশ ছন্নছাড়া হয়ে রয়েছিলো। হুট করেই এখন এই সময়ে এসে কী-বোর্ডে আঙ্গুল বসাতেই নীচের কথাগুলো মনের মাঝে ঝড় তুলে দিলো। ব্যস! লিখলাম আর সোজা এখানে ঝেড়ে দিলাম। ;)

শ্রাবণ মেঘের দিন
স্বপ্নরা রঙ্গীন,
খোলা নীল আকাশ
মুক্ত বাতাস,
পাখিদের ডাক
ঢিলে ভাঙ্গা মৌচাক,
তালগাছের ডগায়
বাবুইয়ের বাসা,
পিঁপড়ের ডিমের টোপে
ছিপে মাছের আশা।

বয়ে যাওয়া সময়
ফিরে পাওয়া যাবে না,
ফেরারী মনে একাকী রবে
বারে বারে আর আসা হবে না।

পাঁচমিশেলী রং


মাঝে মাঝেই আমার অদ্ভুত সব খেয়াল চেপে বসে। মাথার ভেতরে হুটহাট কি যেনো ঘটে যায়। খুব করে ইচ্ছে করে ছন্দ নিয়ে, শব্দ নিয়ে, কথা নিয়ে খেলতে। আজকেও তেমনটাই ঘটেছে। প্রকাশ আপনাদের সামনেই করলাম। দেখুন কি মানের জগাখিচুড়ী হলো। :D

লাল-নীল কষ্টগুলো সব
ধূলোয় মেশাও একসাথে
এক ফুঁকেতে উড়িয়ে দাও আজ
মিলিয়ে যাক সব জীবন থেকে।

সৃষ্টি আর কৃষ্টি মাঝে
ডুবাও তুমি জীবনটারে
সৃষ্টি মাঝে হারিয়ে গিয়ে
ফের খুঁজে নাও আপনারে।

হেলায় কেন হারাবে তোমার
জীবনের সব রংগুলো
সৃষ্টি দিয়ে দুঃখ ঢাকো
মনটাকে করো সৃষ্টিভুলো।

বোকা থাকো আর
থাকো শিশু
জানাবার খিদেয় জীবন কাটাও
বাড়তে দিয়ো না, জ্ঞান-পশু।

উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের একটি পাঠ্যবই এবং আমার পাঠক প্রতিক্রিয়া

“হায়! আমার মাথার চতুর্দিকে যদি চোখ বসানো থাকত, তাহলে আচক্রবালবিস্তৃত এই সুন্দরী ধরনীর সম্পূর্ণ সৌন্দর্য একসঙ্গেই দেখতে পেতুম” — আনাতোল ফ্রাঁস, ফরাসী ঔপন্যাসিক।

“সংসারে জ্বালা-যন্ত্রনা এড়াবার প্রধান উপায় হচ্ছে, মনের ভিতর আপন ভুবন সৃষ্টি করে নেয়া এবং বিপদকালে তার ভিতরে ডুব দেয়া। যে যত বেশী ভুবন সৃষ্টি করতে পারে, যন্ত্রনা এড়াবার ক্ষমতা তাঁর ততই বেশী হয়” — বারট্রান্ড রাসেল, ইংরেজ ঔপন্যাসিক।

“মনের চোখ বাড়ানো বা কমানো তো আমার হাতে। নানা জ্ঞানবিজ্ঞান যতই আমি আয়ত্ত করতে থাকি, ততই এক-একটা করে আমার মনের চোখ ফুটতে থাকে। পৃথিবীর আর সব সভ্যজাত যতই চোখের সংখ্যা বাড়াতে ব্যস্ত, আমরা ততই আরব্য উপন্যাসের একচোখা দৈত্যের মতো ঘোঁৎ ঘোঁৎ করি আর চোখ বাড়াবার কথা তুললেই চোখ রাঙ্গাই।” — সৈয়দ মুজতবা আলী, বাঙ্গালি সাহিত্যিক।

সৈয়দ মুজতবা আলী’র রম্যসাহিত্য ‘বই কেনা’ থেকে এই উদ্ধৃতিগুলো দিয়েই আমার আজকের এই লেখার শুরু করছি। আমি নিজে মূলত প্রযুক্তি বিষয়ক সচেনতনার কার্যক্রমে জড়িত থাকি, মুক্তপ্রযুক্তিকে ভালোবাসি, প্রযুক্তিতেই বাঁচি, প্রযুক্তি ব্যবহার করি, প্রযুক্তিতে জগতের মাঝে আটক পড়ে গিয়েছে আমার জীবনের সবটুকু। মুক্তপ্রযুক্তি’র জগতে আমার জ্ঞান-ধারনা-বক্তব্য গুলোকে লিখিত মাধ্যমে ধরে রাখতেই একটা সময়ে ব্লগ লিখতে শুরু করেছিলাম। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে নিজের মাঝে থাকা কিঞ্চিৎ সাহিত্যপ্রেম আর সাহিত্য বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ফসলে ব্লগে কিছু কিছু লেখা লিখেছি যা আমার ব্যক্তিগত আবেগের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। তবে এসব কিছুই কিন্তু করা সেই উদ্ধৃতিগুলোর ধারনা থেকে, মানে মনের চোখের সংখ্যা বাড়াতে। অধিকাংশই নিজের জন্য আবার কখনোবা আমার চারপাশের আমজনতার জন্যেও।

সৈয়দ মুজতবা আলী বলেছিলেন —

“মনের চোখ বাড়াবার পন্থাটা কি? প্রথমত – বই পড়া এবং তার জন্য দরকার বই কেনার প্রবৃত্তি।”

মনের চোখ ফোটানোর এই প্রয়োজনটা প্রতিনিয়তই উপলব্ধি করি। আর তাই নিয়মিত বই কিনি, বই ডাউনলোড করি। আর শুধু পড়ি বললে ভুল হবে, গোগ্রাসে বই গিলে থাকি। মাঝে মাঝে কাগজের ঠোঙ্গা, পুরনো খবরের কাগজ, বাচ্চাদের আঁকিবুকি করা কাগজও আমার কাছে প্রচন্ড আগ্রহের পাঠ্য হয়ে ওঠে।

বিগত ২৬শে মে ২০১৪ইং তারিখে জি+ বা গুগল প্লাসে প্রকৌশলী আদনান কাইয়ুম তানিমের পোষ্ট থেকে জানতে পারলাম যে বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেনীর শিক্ষাপোযোগী হিসেবে “তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি” বিষয়ক পাঠ্যবইটি প্রকাশিত হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা আইসিটি আমার প্রচন্ড আগ্রহের একটি বিষয়। আর তাই মনস্থির করে ফেললাম প্রকৌশলী আদনান কাইয়ুম তানিম কর্তৃক রচিত এই বইটি পড়বো বলে। যথা ভাবনা তথা কাজ। মুঠোফোন প্রযুক্তির সদ্ব্যবহারে বাংলাবাজারে নিজের প্রকাশণা জগতের ভালোবাসা আর আত্মীয়তার সুত্রটাকে খুঁচিয়ে দিলাম, উদ্দেশ্য বইটাকে নিজ হাতে পাওয়া। হাতে পাওয়া মাত্রই বইটা পড়তে শুরু করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বইয়ের বহিঃসজ্জা বা প্রচ্ছদ পরিকল্পনাটা এতটাই সুন্দর হয়েছে যে নজর বেশ কিছুক্ষণ এই বহিঃসজ্জাতেই আটকে ছিলো।

ছোটবেলায় প্রচন্ড বদভ্যাস ছিলো। নতুন বই হাতে পেলেই সেটা পড়ে শেষ না করা অবদি নাওয়া-খাওয়া তো দূর, প্রকৃতির ডাকেও সাড়া দেয়া হতো না। মা জননী আমার পিছনে লেগে লেগে একসময় নিজেই ক্লান্ত হয়ে পড়তেন তবু পড়তে থাকা বইটার শেষ অক্ষরটা না পড়ে আমার কোন নড়নচড়ন হতো না। বইটাকে হাতে পেতেই যেনো আমার সময়কাল হুট করে প্রায় দেড়যুগ পেছনে চলে গেলো। কলেজ জীবনের রঙ্গীন দিনগুলো মনের ভেতরে রঙের ঘূর্নিঝড় তুলে দিলো। স্মৃতিকাতরতাকে পাশ কাটিয়ে একটার পর একটা পাতা উল্টেছি আর বইটির প্রতি চরম আকর্ষন বোধ করেছি। এই মোহবোধটুকু বজায় ছিলো বইয়ের শেষ পাতার শেষ দাড়িটুকু অবদি। প্রচন্ডরকম সুন্দর তথ্য উপস্থাপন, বর্ননার ধারাবাহিকতাটুকু ধরে রাখা আর বর্ননার ফাঁকে ফাঁকে ছবির ব্যবহার বইটাকে অত্যন্ত সহজবোধ্য করেছে। আমার কলেজ জীবনে এমন একটি বইয়ের অভাব এই সময়ে এসে হুট করেই আমাকে প্রচন্ডরকমের কষ্টে ফেলেছে। একই সাথে নতুন দিনের তথ্যপ্রযুক্তি সেনানীদের জীবনগঠনের সময়েই প্রযুক্তিজগতের বর্তমান সময়ের পেক্ষাপটে সঠিক ও সময়োপযোগী তথ্যসমৃদ্ধ, প্রাঞ্জল আর সহজবোধ্য এমন একটি বইয়ের প্রাপ্তিযোগে প্রচন্ডরকমের আনন্দও পাচ্ছি।

বইটির একেবারে শুরুতেই ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম অনুযায়ী একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেনীর সকল শাখার জন্য আবশ্যিক বিষয় হিসেবে “তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি” বিষয়ের সিলেবাসটি দেয়া হয়েছে। মোট ১৪০টি ক্লাস পিরিয়ড বা ৪০মিনিট থেকে ৪৫মিনিট ব্যপী একেকটি ক্লাসের মোট ১৪০টিতে এই বইটির তথ্য সম্পূর্ণরূপে শিক্ষার্থীরা আয়ত্ত করতে পারবেন এই বিশ্বাসটুকু বইটির শুরুতে যেভাবে বিবৃত হয়েছে তার ফলে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ পাঠ পরিকল্পনা চমৎকারভাবে করতে পারবেন বলেই বিশ্বাস করি। একই সাথে শিক্ষকদের জন্য তথ্যটা সময়োপযোগী এবং ব্যবহারবান্ধব হয়েছে বলে মনে করছি।

প্রথম অধ্যায়ে আলোচিত বিষয়গুলো তথ্যপ্রযুক্তির প্রাথমিক বিষয় বিধায় শিক্ষার্থীদের জন্য আবশ্যিক ও জরুরী। লেখক নিজের অনলাইন ফোরাম ও ব্লগে ব্যবহারকারীদের সফটওয়্যার ব্যবহার সহযোগীতা দেবার অভিজ্ঞতায় অত্যন্ত সাবলীল ভাষার ব্যবহারে বিষয়গুলোকে অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাবে উপস্থাপন করেছেন। আশা করি পাঠক-শিক্ষার্থীরা তথ্যগুলো জানবার সাথে সাথে বেশ আগ্রহ ও মজা পাবেন আর নিজেদের মগজের স্মৃতিকোষে তথ্যগুলো ধারনে সফল হবেন। এই অধ্যায়ের সবটুকু চমৎকার হলেও শেষাংশে এসে লেখক কিঞ্চিৎ গুবলেট করেছেন বলেই মনে হয়েছে আমার কাছে। হ্যাকিং আর ক্র্যাকিং বিষয় দুটো পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন না করে লেখক নৈতিকভাবে শিক্ষার্থীদেরকে বিভ্রান্তির মধ্যে রাখবার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। একই সাথে ২০১১ইং সাল থেকে উন্মুক্তপ্রযুক্তি অপারেটিং সিস্টেম হিসেব ডেস্কটপে সর্বাধিক জনপ্রিয় ও ব্যবহারবান্ধব “লিনাক্স মিন্ট”, সার্ভার জগতে ডেবিয়ান এবং সর্বোপরি জিএনইউ-লিনাক্স এর উল্লেখ না থাকাটাও অনেকাংশেই উইন্ডোজের উপরে নির্ভরশীল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদেরকে মুক্তপ্রযুক্তির জগতে আসতে বা তাল মিলিয়ে চলতে কিছুটা হলেও বাধা দেবে বলে আশংকা করছি। এই তথ্যবিভ্রাটগুলো একজন উন্মুক্ত প্রযুক্তি আন্দোলনকারী, মুক্ত পেশাজীবি তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শক হিসেবে আমাকে প্রচন্ড আহত করেছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিষয়বস্তুগুলোও অত্যন্ত সাবলীল ভাষায়, চমৎকারভাবে বর্ননার ফলে শিক্ষার্থীদের মগজের নিউরনে অনুরণন তুলবে বলেই আশা রাখি। তবে তারবিহীন যোগাযোগ প্রযুক্তির অংশ হিসেবে বহুল প্রচলিত ওয়াইফাই প্রযুক্তি’র তথ্যে সাম্প্রতিককালীন ও ব্যবহারিক তথ্যগুলো যুক্ত না থাকায় এই অধ্যায়ের এই অংশটাও তথ্যবিভ্রাটের সৃষ্টি করেছে। একই সাথে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্ক ডিভাইস অংশে প্রাচীন বা বিলীণ হয়ে যাওয়া কিছু যন্ত্রাংশের তথ্য অপ্রয়োজনীয় বা বাহুল্য হিসেবে বোধ হয়েছে আমার কাছে।

তৃতীয় অধ্যায়টা আমার কাছে এই বইয়ের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সবচাইতে কঠিনবোধ্য অধ্যায় বলেই মনে হয়েছে। তবে লেখক নিজের স্বভাবজাত সাবলীল বর্ননায় এই অধ্যায়ের প্রতিটা বিষয়কে এত সুন্দর আর সহজবোধ্য করে তুলেছেন যে লেখার শুরুতে এইরকমের একটা বইয়ের যে অভাববোধের আফসোস আমার মাঝে হয়েছে বলে জানিয়েছিলাম আপনাদেরকে সেটা এইখানেতেই জন্ম নিয়েছে। শুধুমাত্র উচ্চমাধ্যমিক স্তরেই নয় বইটি স্নাতকস্তরের প্রথম সেমিষ্টারের অনেক শিক্ষার্থীদের জন্যেও বিশেষ উপযোগী হবে বলে আমার ধারনা। আমি ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন স্নাতকস্তরের শিক্ষার্থীকে বইয়ের এই অধ্যায়ের বুলিয়ান অ্যালজেব্রা আর গেইট অংশটুকু পড়তে দিয়ে তারপর মন্তব্য করতে বললে তাঁরা নিজেদের শিক্ষকদের ক্লাসে বসে বোঝা জ্ঞানের চাইতে এই বইয়ের বর্ননার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানটাকে বেশ সহজ শিক্ষনীয় ও সহজবোধ্য বলে মতপ্রকাশ করেন।

চতুর্থ অধ্যায়টুকু বর্তমান সময়ে এসে আউটসোর্সিং নেশায় পেয়ে বসা বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও আগামীদিনের তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের জন্যে বিশেষ উপযোগী হয়েছে। শুধুমাত্র এই অধ্যায় থেকে যেটুকু শিখবে একজন শিক্ষার্থী সেটুকুই মুক্তবাজার অর্থনীতির এই বর্তমান সময়ে এসে মুক্ত তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী হিসেবে পথ চলায় তাঁর সহায়ক হতে পারে।

পঞ্চম অধ্যায়ে প্রোগ্রামিং ভাষা সম্পর্কিত আলোচনা আর সাথে কোডব্লকস আইডিইটার পরিচিতি নবীন তথ্যপ্রযুক্তিবিদদের বেড়ে ওঠায় বিশেষ সহযোগীতা দেবে বলেই বিশ্বাস করি।

ষষ্ঠ অধ্যায়ে আলোচিত ডাটাবেজ বা তথ্যভান্ডার সম্পর্কিত আলোচনাগুলো বেশ সহজবোধ্যই হবে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের একজ শিক্ষার্থীর কাছে। উন্মুক্ত প্রযুক্তিভিত্তিক আর ইউনিকোড সাপোর্টেড লিব্রে অফিস বেজ এর ব্যবহারে শিক্ষার্থীরা পাবেন বাংলাতে তথ্য সংরক্ষণ করার আবেগের প্রতিফলিত আনন্দ। ষষ্ঠ অধ্যায়ের শেষে ক্রিপ্টোগ্রাফি অংশে জিএনইউপিজি নিয়ে কিছু তথ্যযোগ করা গেলে আরো ভালো হতো বলেই বিশ্বাস করি।

চতুর্থ, পঞ্চম আর ষষ্ঠ এই তিনটে অধ্যায় থেকে অর্জিত জ্ঞান অর্থনৈতিকভাবে দূর্বল একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষার্জনকালীন খরচ যোগাতে সহায়ক হতে পারে। শিক্ষার পাশাপাশি অবসর সময়ের মেধাশ্রমের মাধ্যমে বেশ ভালো আয়ের উপকরণ হতে পারে এই জ্ঞান।

বইটির প্রতি অধ্যায়ের শেষে রয়েছে অত্যন্ত চমৎকার কিছু সৃজনশীল প্রশ্ন। এই অংশটায় লেখক বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় রচিত প্রতিটা বইয়ের চাইতে বেশ কিছু বাড়তি কিছু উপাদানের যোগ ঘটিয়েছেন, যেমনঃ মুক্তিযুদ্ধকালীন কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক তথ্য এবং দেশপ্রেমী মানসিকতার বিকাশ। যা শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক উভয়ের জন্যেই সমভাবে ব্যবহারবান্ধব ও সময়োপযোগী হয়েছে বলেই আমি মনে করছি।

সম্পূর্ণ উন্মুক্ত প্রযুক্তি ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম এবং সফটওয়্যারের ব্যবহারে রচিত বাংলা ভাষার এই বইটি উচ্চমাধ্যমিক স্তরে সরকারী বা বেসরাকারী কলেজগুলোতে পাঠ্য করা হলে শিক্ষার্থীরা সাম্প্রতিককালীন প্রযুক্তিজগতের সাথে সহজেই তাল মিলিয়ে শিক্ষার্জন করতে পারবেন বলে বিশ্বাস করি। একই সাথে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের নেয়া অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন প্রকল্প থেকে সরকারী স্কুল-কলেজগুলোয় দেয়া কম্পিউটারগুলোয় উবুন্টু তথা জিএনইউ/লিনাক্স তথা উন্মুক্ত প্রযুক্তি ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম তথা সফটওয়্যারগুলোর সাথে শিক্ষার্থীরা পরিচিত ও ব্যবহারবান্ধবতায় অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারবেন বলেই মনে করি। কিছু কিছু বানানের ভুল (মুদ্রনজনিতও হতে পারে) আর মোটা হরফের অক্ষরগুলোর ছাপা ঘোলাটে বা জাবড়ে যাওয়ার ত্রুটিটুকু হিসেবের মধ্যে না নিলেও চলে।

পরিশেষে বলতে চাই উপরের লেখাটুকু বইটির একজন পাঠক হিসেবে আমার তাৎক্ষণিক ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া বা মতামত মাত্র। আর তাই লেখার মধ্যে শব্দের প্রয়োগে বা বাক্যগঠনে অনেক সমস্যা থাকতেই পারে। হয়তোবা লেখক, প্রকাশক এটাকে কোনরূপ সমালোচনা বা মূল্যায়ন হিসেবে নিয়ে আহতবোধ করতে পারেন। তেমনটা হয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আমার এই মতপ্রকাশের উদ্দেশ্য লেখকের কাজের মানের মানোন্নয়ন ঘটাতে সহায়তা করা। বিদ্রুপ করা কিংবা উপহাসের মাধ্যমে লেখকের কর্মস্পৃহাকে ধ্বংস করা কিংবা বাধাগ্রস্ত করার কোনরূপ কিছু আমার লেখনীটুকুতে মনে হলে আন্তরিকভাবে আবারো লেখক ও প্রকাশকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।