ভালোবাসা দিবসের অনুকাব্য


অনুকথন: বিগত প্রায় চার বছর ধরেই এই ২রা ফাল্গুনে (১৪ই ফেব্রুয়ারী) একটা করে অনুকাব্য ঝাড়ছি নিজের এই আন্তর্জালিক খেরোখাতাতে। সম্ভবত সে কারনেই আজ এই সাতসকালে, বিছানা ছাড়বার কালে, দুমদাম মগজের দরজাগুলোতে ছন্দের ঝাপটা আর তৎক্ষনাৎ সেটাকে এখানে ঝেড়ে দেয়া।

কচি-কাঁচা, পুলাপান
অকারণে দিনমান
ঘুরে ঘুরে পেরেশান
ফুল আর ফুচকায় হয়রান।

ভালোবাসার প্রকাশে
রিকশা আর পার্কেতে
হাতে হাত রেখে ঘোরাঘুরি
চোখে চোখে কথার ফুলঝুরি।

নিত্য নতুন উপহার
সময়ের দাবীদার
কে কার? কবেকার?
স্বার্থের হাহাকার।

দিন শেষে অবশেষে
রাত্রি নেমে আসে,
কথার কুড়মুড়ি, আলগা সুড়সুড়ি,
সব কিছু দমে আসে।
ভালোবাসা দিবসে।

সাধের ময়না


বছরের শুরুতেই দেশের রাজনীতিতে আকাট অস্থিরতা। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় চরম বিভ্রাট। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উপরে পরীক্ষার খড়গের সাথে সাথে জীবন নাশ এবং নানান অনিশ্চয়তার মরণকামড়। সুযোগে ফায়দা লোটা রক্তচোষাদের কামড়ে কৃষিনির্ভর অর্থনীতির শ্রমকান্ডারি চাষীদের হাহাকার-কান্না-মরণদশা। মাঠে ফসলের দাম কম অথচ বাজারে শীতের সবজি আর মাছে অগ্নিমূল্য। সরকারী চাকুরেদের বেতন বাড়ার সুসংবাদের সাথে সাথেই জ্বালানী-বিদ্যুৎ এর দাম বৃদ্ধি। অর্থমন্ত্রী কর্তৃকই চকলেট কিংবা চুইংগামের সর্বনিম্ন খুচরা মূল্য পাঁচ টাকা নির্ধারন, অর্থাৎ সরকারী সমর্থনে জনগনের অর্থের হরিলুট বা পকেটকাটা চালু। দেশের একজন অতি সাধারণ নাগরিক হিসেবে কিছুতেই অনেকগুলো হিসেব মিলছে না, মিলিয়ে নিতে পারিনি-পারছিনা। বাধ্য হয়েই আঙ্গুলগুলো একটানা কিছুক্ষণ চালিয়ে দিলাম কি-বোর্ডের উপর দিয়ে। আর যা উৎপন্ন হলো —

মনের ময়না
ধরা, দেয়না
যত আশা মনে মনে
কথা হবে তারই সনে
আমি তাঁরে, প্রেম ডোরে
বাঁধবো রে, চিরতরে।

চোখে চোখে রাখবো তাঁরে
দূরে আর যাবে নারে
দিনে-রাতে, একসাথে
হরেক রকম বায়না
আহ রে! সাধের ময়না।

বেলা বয়ে যায়


অনেকগুলো দিন হয়ে গিয়েছিলো ব্লগটাতে কোন নতুন লেখা হচ্ছে না। কাজের চাপে সময়ই তো বের করে উঠতে পারছি না গত মাস ছ’য়েক, লিখবো কি করে। মনটাও বেশ ছন্নছাড়া হয়ে রয়েছিলো। হুট করেই এখন এই সময়ে এসে কী-বোর্ডে আঙ্গুল বসাতেই নীচের কথাগুলো মনের মাঝে ঝড় তুলে দিলো। ব্যস! লিখলাম আর সোজা এখানে ঝেড়ে দিলাম। ;)

শ্রাবণ মেঘের দিন
স্বপ্নরা রঙ্গীন,
খোলা নীল আকাশ
মুক্ত বাতাস,
পাখিদের ডাক
ঢিলে ভাঙ্গা মৌচাক,
তালগাছের ডগায়
বাবুইয়ের বাসা,
পিঁপড়ের ডিমের টোপে
ছিপে মাছের আশা।

বয়ে যাওয়া সময়
ফিরে পাওয়া যাবে না,
ফেরারী মনে একাকী রবে
বারে বারে আর আসা হবে না।

পাঁচমিশেলী রং


মাঝে মাঝেই আমার অদ্ভুত সব খেয়াল চেপে বসে। মাথার ভেতরে হুটহাট কি যেনো ঘটে যায়। খুব করে ইচ্ছে করে ছন্দ নিয়ে, শব্দ নিয়ে, কথা নিয়ে খেলতে। আজকেও তেমনটাই ঘটেছে। প্রকাশ আপনাদের সামনেই করলাম। দেখুন কি মানের জগাখিচুড়ী হলো। :D

লাল-নীল কষ্টগুলো সব
ধূলোয় মেশাও একসাথে
এক ফুঁকেতে উড়িয়ে দাও আজ
মিলিয়ে যাক সব জীবন থেকে।

সৃষ্টি আর কৃষ্টি মাঝে
ডুবাও তুমি জীবনটারে
সৃষ্টি মাঝে হারিয়ে গিয়ে
ফের খুঁজে নাও আপনারে।

হেলায় কেন হারাবে তোমার
জীবনের সব রংগুলো
সৃষ্টি দিয়ে দুঃখ ঢাকো
মনটাকে করো সৃষ্টিভুলো।

বোকা থাকো আর
থাকো শিশু
জানাবার খিদেয় জীবন কাটাও
বাড়তে দিয়ো না, জ্ঞান-পশু।

উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের একটি পাঠ্যবই এবং আমার পাঠক প্রতিক্রিয়া

“হায়! আমার মাথার চতুর্দিকে যদি চোখ বসানো থাকত, তাহলে আচক্রবালবিস্তৃত এই সুন্দরী ধরনীর সম্পূর্ণ সৌন্দর্য একসঙ্গেই দেখতে পেতুম” — আনাতোল ফ্রাঁস, ফরাসী ঔপন্যাসিক।

“সংসারে জ্বালা-যন্ত্রনা এড়াবার প্রধান উপায় হচ্ছে, মনের ভিতর আপন ভুবন সৃষ্টি করে নেয়া এবং বিপদকালে তার ভিতরে ডুব দেয়া। যে যত বেশী ভুবন সৃষ্টি করতে পারে, যন্ত্রনা এড়াবার ক্ষমতা তাঁর ততই বেশী হয়” — বারট্রান্ড রাসেল, ইংরেজ ঔপন্যাসিক।

“মনের চোখ বাড়ানো বা কমানো তো আমার হাতে। নানা জ্ঞানবিজ্ঞান যতই আমি আয়ত্ত করতে থাকি, ততই এক-একটা করে আমার মনের চোখ ফুটতে থাকে। পৃথিবীর আর সব সভ্যজাত যতই চোখের সংখ্যা বাড়াতে ব্যস্ত, আমরা ততই আরব্য উপন্যাসের একচোখা দৈত্যের মতো ঘোঁৎ ঘোঁৎ করি আর চোখ বাড়াবার কথা তুললেই চোখ রাঙ্গাই।” — সৈয়দ মুজতবা আলী, বাঙ্গালি সাহিত্যিক।

সৈয়দ মুজতবা আলী’র রম্যসাহিত্য ‘বই কেনা’ থেকে এই উদ্ধৃতিগুলো দিয়েই আমার আজকের এই লেখার শুরু করছি। আমি নিজে মূলত প্রযুক্তি বিষয়ক সচেনতনার কার্যক্রমে জড়িত থাকি, মুক্তপ্রযুক্তিকে ভালোবাসি, প্রযুক্তিতেই বাঁচি, প্রযুক্তি ব্যবহার করি, প্রযুক্তিতে জগতের মাঝে আটক পড়ে গিয়েছে আমার জীবনের সবটুকু। মুক্তপ্রযুক্তি’র জগতে আমার জ্ঞান-ধারনা-বক্তব্য গুলোকে লিখিত মাধ্যমে ধরে রাখতেই একটা সময়ে ব্লগ লিখতে শুরু করেছিলাম। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে নিজের মাঝে থাকা কিঞ্চিৎ সাহিত্যপ্রেম আর সাহিত্য বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ফসলে ব্লগে কিছু কিছু লেখা লিখেছি যা আমার ব্যক্তিগত আবেগের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। তবে এসব কিছুই কিন্তু করা সেই উদ্ধৃতিগুলোর ধারনা থেকে, মানে মনের চোখের সংখ্যা বাড়াতে। অধিকাংশই নিজের জন্য আবার কখনোবা আমার চারপাশের আমজনতার জন্যেও।

সৈয়দ মুজতবা আলী বলেছিলেন —

“মনের চোখ বাড়াবার পন্থাটা কি? প্রথমত – বই পড়া এবং তার জন্য দরকার বই কেনার প্রবৃত্তি।”

মনের চোখ ফোটানোর এই প্রয়োজনটা প্রতিনিয়তই উপলব্ধি করি। আর তাই নিয়মিত বই কিনি, বই ডাউনলোড করি। আর শুধু পড়ি বললে ভুল হবে, গোগ্রাসে বই গিলে থাকি। মাঝে মাঝে কাগজের ঠোঙ্গা, পুরনো খবরের কাগজ, বাচ্চাদের আঁকিবুকি করা কাগজও আমার কাছে প্রচন্ড আগ্রহের পাঠ্য হয়ে ওঠে।

বিগত ২৬শে মে ২০১৪ইং তারিখে জি+ বা গুগল প্লাসে প্রকৌশলী আদনান কাইয়ুম তানিমের পোষ্ট থেকে জানতে পারলাম যে বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেনীর শিক্ষাপোযোগী হিসেবে “তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি” বিষয়ক পাঠ্যবইটি প্রকাশিত হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা আইসিটি আমার প্রচন্ড আগ্রহের একটি বিষয়। আর তাই মনস্থির করে ফেললাম প্রকৌশলী আদনান কাইয়ুম তানিম কর্তৃক রচিত এই বইটি পড়বো বলে। যথা ভাবনা তথা কাজ। মুঠোফোন প্রযুক্তির সদ্ব্যবহারে বাংলাবাজারে নিজের প্রকাশণা জগতের ভালোবাসা আর আত্মীয়তার সুত্রটাকে খুঁচিয়ে দিলাম, উদ্দেশ্য বইটাকে নিজ হাতে পাওয়া। হাতে পাওয়া মাত্রই বইটা পড়তে শুরু করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বইয়ের বহিঃসজ্জা বা প্রচ্ছদ পরিকল্পনাটা এতটাই সুন্দর হয়েছে যে নজর বেশ কিছুক্ষণ এই বহিঃসজ্জাতেই আটকে ছিলো।

ছোটবেলায় প্রচন্ড বদভ্যাস ছিলো। নতুন বই হাতে পেলেই সেটা পড়ে শেষ না করা অবদি নাওয়া-খাওয়া তো দূর, প্রকৃতির ডাকেও সাড়া দেয়া হতো না। মা জননী আমার পিছনে লেগে লেগে একসময় নিজেই ক্লান্ত হয়ে পড়তেন তবু পড়তে থাকা বইটার শেষ অক্ষরটা না পড়ে আমার কোন নড়নচড়ন হতো না। বইটাকে হাতে পেতেই যেনো আমার সময়কাল হুট করে প্রায় দেড়যুগ পেছনে চলে গেলো। কলেজ জীবনের রঙ্গীন দিনগুলো মনের ভেতরে রঙের ঘূর্নিঝড় তুলে দিলো। স্মৃতিকাতরতাকে পাশ কাটিয়ে একটার পর একটা পাতা উল্টেছি আর বইটির প্রতি চরম আকর্ষন বোধ করেছি। এই মোহবোধটুকু বজায় ছিলো বইয়ের শেষ পাতার শেষ দাড়িটুকু অবদি। প্রচন্ডরকম সুন্দর তথ্য উপস্থাপন, বর্ননার ধারাবাহিকতাটুকু ধরে রাখা আর বর্ননার ফাঁকে ফাঁকে ছবির ব্যবহার বইটাকে অত্যন্ত সহজবোধ্য করেছে। আমার কলেজ জীবনে এমন একটি বইয়ের অভাব এই সময়ে এসে হুট করেই আমাকে প্রচন্ডরকমের কষ্টে ফেলেছে। একই সাথে নতুন দিনের তথ্যপ্রযুক্তি সেনানীদের জীবনগঠনের সময়েই প্রযুক্তিজগতের বর্তমান সময়ের পেক্ষাপটে সঠিক ও সময়োপযোগী তথ্যসমৃদ্ধ, প্রাঞ্জল আর সহজবোধ্য এমন একটি বইয়ের প্রাপ্তিযোগে প্রচন্ডরকমের আনন্দও পাচ্ছি।

বইটির একেবারে শুরুতেই ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম অনুযায়ী একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেনীর সকল শাখার জন্য আবশ্যিক বিষয় হিসেবে “তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি” বিষয়ের সিলেবাসটি দেয়া হয়েছে। মোট ১৪০টি ক্লাস পিরিয়ড বা ৪০মিনিট থেকে ৪৫মিনিট ব্যপী একেকটি ক্লাসের মোট ১৪০টিতে এই বইটির তথ্য সম্পূর্ণরূপে শিক্ষার্থীরা আয়ত্ত করতে পারবেন এই বিশ্বাসটুকু বইটির শুরুতে যেভাবে বিবৃত হয়েছে তার ফলে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ পাঠ পরিকল্পনা চমৎকারভাবে করতে পারবেন বলেই বিশ্বাস করি। একই সাথে শিক্ষকদের জন্য তথ্যটা সময়োপযোগী এবং ব্যবহারবান্ধব হয়েছে বলে মনে করছি।

প্রথম অধ্যায়ে আলোচিত বিষয়গুলো তথ্যপ্রযুক্তির প্রাথমিক বিষয় বিধায় শিক্ষার্থীদের জন্য আবশ্যিক ও জরুরী। লেখক নিজের অনলাইন ফোরাম ও ব্লগে ব্যবহারকারীদের সফটওয়্যার ব্যবহার সহযোগীতা দেবার অভিজ্ঞতায় অত্যন্ত সাবলীল ভাষার ব্যবহারে বিষয়গুলোকে অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাবে উপস্থাপন করেছেন। আশা করি পাঠক-শিক্ষার্থীরা তথ্যগুলো জানবার সাথে সাথে বেশ আগ্রহ ও মজা পাবেন আর নিজেদের মগজের স্মৃতিকোষে তথ্যগুলো ধারনে সফল হবেন। এই অধ্যায়ের সবটুকু চমৎকার হলেও শেষাংশে এসে লেখক কিঞ্চিৎ গুবলেট করেছেন বলেই মনে হয়েছে আমার কাছে। হ্যাকিং আর ক্র্যাকিং বিষয় দুটো পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন না করে লেখক নৈতিকভাবে শিক্ষার্থীদেরকে বিভ্রান্তির মধ্যে রাখবার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। একই সাথে ২০১১ইং সাল থেকে উন্মুক্তপ্রযুক্তি অপারেটিং সিস্টেম হিসেব ডেস্কটপে সর্বাধিক জনপ্রিয় ও ব্যবহারবান্ধব “লিনাক্স মিন্ট”, সার্ভার জগতে ডেবিয়ান এবং সর্বোপরি জিএনইউ-লিনাক্স এর উল্লেখ না থাকাটাও অনেকাংশেই উইন্ডোজের উপরে নির্ভরশীল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদেরকে মুক্তপ্রযুক্তির জগতে আসতে বা তাল মিলিয়ে চলতে কিছুটা হলেও বাধা দেবে বলে আশংকা করছি। এই তথ্যবিভ্রাটগুলো একজন উন্মুক্ত প্রযুক্তি আন্দোলনকারী, মুক্ত পেশাজীবি তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শক হিসেবে আমাকে প্রচন্ড আহত করেছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিষয়বস্তুগুলোও অত্যন্ত সাবলীল ভাষায়, চমৎকারভাবে বর্ননার ফলে শিক্ষার্থীদের মগজের নিউরনে অনুরণন তুলবে বলেই আশা রাখি। তবে তারবিহীন যোগাযোগ প্রযুক্তির অংশ হিসেবে বহুল প্রচলিত ওয়াইফাই প্রযুক্তি’র তথ্যে সাম্প্রতিককালীন ও ব্যবহারিক তথ্যগুলো যুক্ত না থাকায় এই অধ্যায়ের এই অংশটাও তথ্যবিভ্রাটের সৃষ্টি করেছে। একই সাথে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্ক ডিভাইস অংশে প্রাচীন বা বিলীণ হয়ে যাওয়া কিছু যন্ত্রাংশের তথ্য অপ্রয়োজনীয় বা বাহুল্য হিসেবে বোধ হয়েছে আমার কাছে।

তৃতীয় অধ্যায়টা আমার কাছে এই বইয়ের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সবচাইতে কঠিনবোধ্য অধ্যায় বলেই মনে হয়েছে। তবে লেখক নিজের স্বভাবজাত সাবলীল বর্ননায় এই অধ্যায়ের প্রতিটা বিষয়কে এত সুন্দর আর সহজবোধ্য করে তুলেছেন যে লেখার শুরুতে এইরকমের একটা বইয়ের যে অভাববোধের আফসোস আমার মাঝে হয়েছে বলে জানিয়েছিলাম আপনাদেরকে সেটা এইখানেতেই জন্ম নিয়েছে। শুধুমাত্র উচ্চমাধ্যমিক স্তরেই নয় বইটি স্নাতকস্তরের প্রথম সেমিষ্টারের অনেক শিক্ষার্থীদের জন্যেও বিশেষ উপযোগী হবে বলে আমার ধারনা। আমি ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন স্নাতকস্তরের শিক্ষার্থীকে বইয়ের এই অধ্যায়ের বুলিয়ান অ্যালজেব্রা আর গেইট অংশটুকু পড়তে দিয়ে তারপর মন্তব্য করতে বললে তাঁরা নিজেদের শিক্ষকদের ক্লাসে বসে বোঝা জ্ঞানের চাইতে এই বইয়ের বর্ননার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানটাকে বেশ সহজ শিক্ষনীয় ও সহজবোধ্য বলে মতপ্রকাশ করেন।

চতুর্থ অধ্যায়টুকু বর্তমান সময়ে এসে আউটসোর্সিং নেশায় পেয়ে বসা বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও আগামীদিনের তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের জন্যে বিশেষ উপযোগী হয়েছে। শুধুমাত্র এই অধ্যায় থেকে যেটুকু শিখবে একজন শিক্ষার্থী সেটুকুই মুক্তবাজার অর্থনীতির এই বর্তমান সময়ে এসে মুক্ত তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী হিসেবে পথ চলায় তাঁর সহায়ক হতে পারে।

পঞ্চম অধ্যায়ে প্রোগ্রামিং ভাষা সম্পর্কিত আলোচনা আর সাথে কোডব্লকস আইডিইটার পরিচিতি নবীন তথ্যপ্রযুক্তিবিদদের বেড়ে ওঠায় বিশেষ সহযোগীতা দেবে বলেই বিশ্বাস করি।

ষষ্ঠ অধ্যায়ে আলোচিত ডাটাবেজ বা তথ্যভান্ডার সম্পর্কিত আলোচনাগুলো বেশ সহজবোধ্যই হবে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের একজ শিক্ষার্থীর কাছে। উন্মুক্ত প্রযুক্তিভিত্তিক আর ইউনিকোড সাপোর্টেড লিব্রে অফিস বেজ এর ব্যবহারে শিক্ষার্থীরা পাবেন বাংলাতে তথ্য সংরক্ষণ করার আবেগের প্রতিফলিত আনন্দ। ষষ্ঠ অধ্যায়ের শেষে ক্রিপ্টোগ্রাফি অংশে জিএনইউপিজি নিয়ে কিছু তথ্যযোগ করা গেলে আরো ভালো হতো বলেই বিশ্বাস করি।

চতুর্থ, পঞ্চম আর ষষ্ঠ এই তিনটে অধ্যায় থেকে অর্জিত জ্ঞান অর্থনৈতিকভাবে দূর্বল একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষার্জনকালীন খরচ যোগাতে সহায়ক হতে পারে। শিক্ষার পাশাপাশি অবসর সময়ের মেধাশ্রমের মাধ্যমে বেশ ভালো আয়ের উপকরণ হতে পারে এই জ্ঞান।

বইটির প্রতি অধ্যায়ের শেষে রয়েছে অত্যন্ত চমৎকার কিছু সৃজনশীল প্রশ্ন। এই অংশটায় লেখক বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় রচিত প্রতিটা বইয়ের চাইতে বেশ কিছু বাড়তি কিছু উপাদানের যোগ ঘটিয়েছেন, যেমনঃ মুক্তিযুদ্ধকালীন কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক তথ্য এবং দেশপ্রেমী মানসিকতার বিকাশ। যা শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক উভয়ের জন্যেই সমভাবে ব্যবহারবান্ধব ও সময়োপযোগী হয়েছে বলেই আমি মনে করছি।

সম্পূর্ণ উন্মুক্ত প্রযুক্তি ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম এবং সফটওয়্যারের ব্যবহারে রচিত বাংলা ভাষার এই বইটি উচ্চমাধ্যমিক স্তরে সরকারী বা বেসরাকারী কলেজগুলোতে পাঠ্য করা হলে শিক্ষার্থীরা সাম্প্রতিককালীন প্রযুক্তিজগতের সাথে সহজেই তাল মিলিয়ে শিক্ষার্জন করতে পারবেন বলে বিশ্বাস করি। একই সাথে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের নেয়া অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন প্রকল্প থেকে সরকারী স্কুল-কলেজগুলোয় দেয়া কম্পিউটারগুলোয় উবুন্টু তথা জিএনইউ/লিনাক্স তথা উন্মুক্ত প্রযুক্তি ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম তথা সফটওয়্যারগুলোর সাথে শিক্ষার্থীরা পরিচিত ও ব্যবহারবান্ধবতায় অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারবেন বলেই মনে করি। কিছু কিছু বানানের ভুল (মুদ্রনজনিতও হতে পারে) আর মোটা হরফের অক্ষরগুলোর ছাপা ঘোলাটে বা জাবড়ে যাওয়ার ত্রুটিটুকু হিসেবের মধ্যে না নিলেও চলে।

পরিশেষে বলতে চাই উপরের লেখাটুকু বইটির একজন পাঠক হিসেবে আমার তাৎক্ষণিক ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া বা মতামত মাত্র। আর তাই লেখার মধ্যে শব্দের প্রয়োগে বা বাক্যগঠনে অনেক সমস্যা থাকতেই পারে। হয়তোবা লেখক, প্রকাশক এটাকে কোনরূপ সমালোচনা বা মূল্যায়ন হিসেবে নিয়ে আহতবোধ করতে পারেন। তেমনটা হয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আমার এই মতপ্রকাশের উদ্দেশ্য লেখকের কাজের মানের মানোন্নয়ন ঘটাতে সহায়তা করা। বিদ্রুপ করা কিংবা উপহাসের মাধ্যমে লেখকের কর্মস্পৃহাকে ধ্বংস করা কিংবা বাধাগ্রস্ত করার কোনরূপ কিছু আমার লেখনীটুকুতে মনে হলে আন্তরিকভাবে আবারো লেখক ও প্রকাশকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।

ভালোবাসা দিবসের অনুকাব্য


অনুকথন: মুক্তপ্রযুক্তির প্রসারে দেশের আনাচে-কানাচে ছোটাছুটি করা, ব্যক্তিজীবনের ব্যস্ততা, শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার মধ্য দিয়ে জীবনটাকে টেনে নেয়া এসব মিলিয়ে ২০১৩ইং সালে এই লেখাটার পর আর কিছুই লেখা হয়নি আমার ব্লগটায়। আজকের এই বিশেষ দিবসকে উদ্দেশ্য করে মননের ছন্দপ্রেমিক পোকাটা নিউরনে আবারো কুটকুট করে কামড়াতে শুরু করে আর পুটপুট পুটপুট করে কী-বোর্ডের বোতামগুলোর উপর আঙ্গুল চালিয়ে দিয়ে নিচের লেখাটুকু ঝেড়ে দিলাম। :)

মনের টানেতে
কারনে কিবা অকারনে
কাছে টানি তোমায়।
ভুল বুঝে, রাগেতে
ইচ্ছেয় কিবা অনিচ্ছায়
দূরে রাখা বড় দায়।

চোখের পলকে, ঠোঁটের দোলকে
কত না কথার ফুলঝুড়ি
হালকা ছোঁয়াতে, শিহরিত মনেতে
আনন্দের ছড়াছড়ি।

ভালোবাসা দিবসেই শুধু
ভালোবাসি বলি কেন
সারাবেলা সারাক্ষন
অধরারেই ধরি, যেনো।

ভালোবাসা দিবসের অনুকাব্য


অনুকথন: মস্তিষ্ক, চোখ, কান সহ শারীরিক বিভিন্ন সমস্যায় বিরাট যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি বিগত দু’মাস যাবৎ। সেই কারনে এটা আমার ২০১৩ইং সালের প্রথম ব্লগ প্রকাশনা। বিগত বছরে (২০১২ইং) এই লেখাটা লিখেছিলাম আজকের এই বিশেষ দিবসকে উদ্দেশ্য করে। দিন দু’য়েক আগে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পথে, ট্রেনে বসে, মননের ছন্দপ্রেমিক পোকাটা নিউরনে আবারো কুটকুট করে কামড়াতে শুরু করে দিলো আর হাতে ধরে থাকা ট্রেনের টিকিটের উপরেই নিচের লেখাটুকু ঝেড়ে দিলাম। :)

ভালোবাসা ভালোবাসা
অজানা অচেনা আশা
পেতে চেয়ে আরাধনা,
সময়ের আনাগোনা।

ভালোবাসা ভালোবাসা
চামে-চিকনে কাছে আসা,
বিভ্রান্তিতে?
সর্বানাশা!

ভালোবাসা ভালোবাসা
যুক্তিতে বিরহ… দূরাশা,
আবেগে ঠাসা,
চিকিমিকি স্বপ্নে ভাসা।

ভালোবাসা ভালোবাসা
পূর্ণতা, আনন্দ, আশা,
ভ্যালেন্টাইন দিবসে তোমাকেই,
একান্তে পাশে পাওয়া।