Posted in খেয়াল করুন, জেনে রাখুন, দেশ ও জাতির প্রতি দ্বায়বদ্ধতা, ভালো লাগা, ভালোবাসা

বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ৭[ক])


তারিখ: ৩১শে-মার্চ-২০১২ইং

অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে “উইন্ডোজ” অপারেটিং সিস্টেম কে আমি “খিড়কী” বা “জানালা” নামে ডাকতেই স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করি। আমার এ লেখায়ও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। ব্যক্তিগতভাবে কেউ যদি লেখাটা পড়ে আহত হোন বা কষ্ট পেয়ে থাকেন তো সেইজন্যে আমি আন্তরিকভাবেই দুঃখিত। কিন্তু করার ও তো কিছু নেই। আমার লেখায় যদি আমিই শান্তি না পাই তো লিখবো কি করে‍‍? এই কাজটুকু করাই হতো না যদি না “প্রজন্ম ফোরাম” আর “উবুন্টু বাংলাদেশ” এর মেইলিং লিস্টে কিছু মানুষের ভুল ধারনা কে ভেঙ্গে দিতে কিছু কঠিন মন্তব্য না করতাম আর সেখানে আমাদের গৌতম দা আমাকে এই বিষয়ে বিশদভাবে লেখার জন্য উৎসাহ না দিতেন। গৌতম রয় কে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার ভেতরের আমি কে টেনে-হেঁচড়ে বের করে নিয়ে আসবার জন্য।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এই লেখাটি আমি পর্ব আকারে বিগত ২৯শে ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী প্রতিটি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে প্রকাশ করে আসছিলাম। হৃদযন্ত্রে গোলোযোগ আর মস্তিষ্কের জমাট বেঁধে থাকা রক্তের কারনে শারীরিকভাবে কিছুটা দূর্বল থাকায় কিছু পঞ্চম পর্ব থেকেই পূর্বের স্বনির্ধারিত সূচী অনুযায়ী লেখাগুলো প্রকাশ করতে পারিনি। এমনকি বিগত ১৬ই ফেব্রুয়ারীতে এই লেখার ষষ্ঠ পর্ব প্রকাশ করে আপনাদেরকে জানিয়েছিলাম যত দ্রুত পারি বাকী পর্বগুলো (সপ্তম ও অষ্টম) প্রকাশ করবো। কিন্তু আমার “ময়ূরপঙ্খী নাও” আমাকে যে নির্দিষ্ট ঘাটে নোঙ্গর করতেই দিচ্ছে না। আর তাই এই দীর্ঘ সময় আপনাদেরকে অপেক্ষায় রেখে দেয়ায় আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ২৭শে ফেব্রুয়ারীতে প্রকাশিত হবার অপেক্ষায় থাকা সেই সপ্তম পর্বের লেখাটির প্রথম খন্ড (৭[ক])আজ প্রকাশ করতে পারলাম। আপনার আগ্রহ থাকলে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ পর্বের লেখাগুলো একটু সময় করে পড়ে নিতে পারেন।

আজকের লেখায় আমি, মাইক্রোসফট কর্তৃক ৭। ব্যবহারকারীর নিরাপত্তার প্রতি হুমকি (Threatening user security)নিয়ে যথা সম্ভব সহজ এবং বোধগম্য ভাষায় কিছু বিষয় সকল প্রযুক্তিপ্রেমিক আর প্রযুক্তি পন্য ব্যবহারকারীদের সামনে তুলে ধরতে চেষ্টা করছি। আশা রাখি আজকের এ পর্বের লেখার মাধ্যমে কিছু বিষয়ে আপনাদের মনে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারবো এবং আগামীদিনে প্রযুক্তি জীবনের পথ চলায় এটা আপনার পাথেয় হবে।

প্রযুক্তি জগতে প্রযুক্তি’র ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা বলতে একজন সাধারন ব্যবহারকারীর তথ্যের নিরাপত্তাকেই বোঝায়। সহজ ভাষায় আরেকটু বিস্তারিত আকারে বলতে গেলে আমরা প্রতিনিয়ত কম্পিউটার সহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি পন্যে যে সকল সফটওয়্যার/অপারেটিং সিস্টেম/টুলস ব্যবহার করি সেগুলো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে ব্যবহারকারীর বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহ/ব্যবহার করে থাকে। সেই তথ্যগুলো যদি নিরাপদে সংরক্ষিত/ব্যবহৃত হয় এবং প্রযুক্ত পন্য ব্যবহারে ব্যবহারকারীর স্বাধীনতা কে কোনভাবে খর্ব না করে তো সেটাই হলো প্রযুক্তি জগতে একজন ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা।

প্রযুক্তি জগতে প্রযুক্তি’র ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা কে দেবে? তা নিশ্চয়ই এখন আপনাদের কাছে পরিষ্কার হয়েছে। একেবারে সোজা সাপ্টা বললে এই নিরাপত্তা বিধান করার সর্বময় ক্ষমতাটুকু রয়েছে প্রযুক্তি পন্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে। যেহেতু একটি প্রযুক্তি পন্যের ভোক্তা হলেন সাধারন ব্যবহারকারীগন তাই তাঁরা এটাকে শুধুমাত্র ব্যবহারই করে থাকেন। এর বাইরে খুব সহজে তাঁদের কিছু করার থাকে না। আর ব্যবহার করার সময় প্রযুক্তি পন্যের আচরন বা কাজের ধরনটুকু পূর্বনির্ধারিতই থাকে। আর সেই নির্ধারনের কাজটুকু সম্পাদিত হয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে। তাই প্রযুক্তিপন্যের সফটওয়্যার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটিই মূলত এই নিরাপত্তা বিধানের কাজের নিশ্চয়তাটুকু দিয়ে থাকে সাধারন ব্যবহারকারীদের। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য হার্ডওয়্যার বা যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানেরও কিছু দ্বায়িত্ব থেকে থাকে সাধারন ব্যবহারকারীদের প্রযুক্তি পন্যের ব্যবহারে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

নিরাপত্তার প্রতি হুমকিতে মাইক্রোসফট কেন/কিভাবে শীর্ষে? প্রশ্নটার উত্তর জানতে হলে আপনাকে খুব সতর্কভাবে কিছু বিষয়ের প্রতি নজর দিতে হবে। প্রযুক্তির পন্যের নিরাপত্তায় যেহেতু সফটওয়্যারের ভূমিকাই মূখ্য এবং এক্ষেত্রে সফটওয়্যার জগতে মাইক্রোসফট কে আমরা তালিকার শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেই পাচ্ছি। কিন্তু আর দশটা প্রতিষ্ঠানের দিকে আঙ্গুল না তুলে আমার লেখা মাইক্রোসফটের প্রতিই নির্দেশ করছে কেন? কারন এই প্রতিষ্ঠানের জনপ্রিয় পন্যগুলোর মধ্যে অপারেটিং সিস্টেম ঘরানার পন্যগুলো ব্যবহারকারীর তথ্য নিরাপত্তায় এক বিরাট হুমকিস্বরূপ। কিভাবে তা জানতে হলে আসুন আমরা কিছু বিষয়ে সচেতন এবং সতর্কভাবে মনোযোগী হই।

‘খিড়কী’ ঘরানায় মাইক্রোসফটের প্রথম জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম ছিলো “খিড়কী ৯৮” বা “জানালা ৯৮” বা “উইন্ডোজ’৯৮”। নামকরনের স্বার্থকতা পূর্ন একশত ভাগ রয়েছে এই ওএসটিতে। সিস্টেম সেটাপ করে চালু হবার পরপরই মজার খেলা দেখতে পারবেন। যদি আপনি লগইন স্ক্রীনে আপনার সুরক্ষা পাসওয়ার্ড দেন তো লগিইন করতে পারবেন আবার যদি পাসওয়ার্ড না দেন তো তবুও সিস্টেমের পূর্ন ব্যবহার করবার অধিকার পাবেন। মানে যে দরজা দিযে আপনাকে সিস্টেমে আপনাকে প্রবেশ করতে নির্দেশনা দেয়া আছে তা মেনে চলবার কোনই দরকার নাই। কেননা দরজার সাথে সাথে এই বাড়ীতে প্রবেশের জন্য আপনারা পাচ্ছেন “৯৮টি জানালা”। এঁর যে কোনটি দিয়েই আপনি যখন খুশি, যেভাবে খুশি এই বাড়ীতে প্রবেশ করতে পারবেন এবং যা মনে চায় তাই করতে পারবেন। মানে আপনার কম্পিউটারে আপনার সকল তথ্যের নিরাপত্তায় মাইক্রোসফটের এই মহান উদ্যোগ কোনক্রমেই আপনি ভুলতে পারবেন না। আর যদি একান্তই মন ভোলা হয়ে থাকেন তো নিশ্চিত থাকেন যে, কোন ক্র্যাকার আপনার সিস্টেমকে এইরূপ কড়া সুরক্ষা বুহ্যের আড়ালে দেখতে পেলে আনন্দেই তাঁর হৃদযন্ত্রের দু’একটা বিট মিস হয়ে যাবে। 😀 😀 😀

“জানালা ৯৮” বা “উইন্ডোজ ৯৮” এর পরপরই বাজারে আসে মাইক্রোসফটের “খিড়কী নেংটি” বা “উইন্ডোজ এনটি”। বাচ্চাদের নেংটি যেমন বারে বারে বদলাতে হয় এই ওএসটি তারচাইতে ঘনঘন সিস্টেমের সমস্যা সমাধান করতে করতে প্রযুক্তিবিদদের দফারফা হয়ে গিয়েছিলো। বিদ্যুৎজনিত সমস্যায় দুমদাম এর কার্নেল লোডার (ntldr) সিস্টেমের রেফারেন্স থেকে হারিয়ে যেতো। সাথে বিটকেলে এক সমস্যা — FAT32 ফাইলসিস্টেম নিয়ে কাজ করতে না পারলেও এই সিস্টেম FAT16 ও NTFS ফাইলসিস্টেম নিয়ে কাজ করতে পারতো। ফলে “৯৮টি জানালা”র ব্যবহারকারীরা এই সংস্করনের অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতে এসে “দরজা-জানালা” সব হারিয়ে বসে। এর কিছুদিন পরেই “মিলেনিয়াম খিড়কী” বা “উইন্ডোজ এমই” নিয়ে এসেছিলো মাইক্রোসফট তবে এটাও এই নেংটির মতোই ঘনঘন অদল-বদল এবং গন্ডগোল করায় ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে সাড়া পেতে ব্যর্থ হয়। তবে যাই করুক আর তাই করুক নিরাপত্তাজনিত ত্রুটিগুলো কিন্তু বজায় রাখতে ভোলেনি মাইক্রোসফট। 😉

এরপর মাইক্রোসফট “এক্সপি” শিরোনামে নিয়ে আসে নতুন এক ওএস। ফলাফল কিন্তু যেই লাউ সেই কদুই। যেহেতু “এক্সপি” শিরোনামে এই ওএস এর নামকরন তাই আগের মতো জানালাগুলো আর দৃশ্যমান নেই। তবে এবারে সে গোপন কিছু জানালা খুলে রাখলো নিজের সিস্টেমের অভ্যন্তরীন ব্যবস্থায়। যেগুলোর মাধ্যমে মাইক্রোসফট নিজে আপনার পিসি ইন্টারনেটে যুক্ত হওয়া মাত্র আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরির কাজ করতে পারে। দুর্ভাগ্য হলেও সত্যি যে মাইক্রোসফটের এহেন নীচ কর্মকান্ড প্রযুক্তিবিদদের নজর এড়ালো না এবং এই অপরাধটায় আদালতে দোষী প্রমানিত হওয়ায় মাইক্রোসফটকে জরিমানাও করা হলো। তবে তাঁর এই অপরাধ প্রবনতা কিন্তু তাতেও রহিত করা যায়নি। বরংচ ভিন্ন নামে ভিন্ন আঙ্গিকে “জানালা” সিস্টেমের ভেতরের জানালা চালু রাখায় মাইক্রোসফটকে নিজের সংসদ থেকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিতে বাধ্য হলো জার্মানীর সরকার। ফরাসী পুলিশ কর্তৃপক্ষ ও একই পথে হাঁটলো। তাঁদের এই দৃষ্টান্ত অনুসরন করলো পশ্চিমা বিশ্বের প্রায় সবগুলো দেশই। আরো জানতে চাইলে দেখতে পারেন — http://www.suaju.com/software-news/german-government-warns-not-to-use-internet-explorer-until-microsoft-issues-a-patch/198 এবং http://news.bbc.co.uk/2/hi/8463516.stm লিংক দুটি।

এরপরে মাইক্রোসফট নতুন এক চেহারায় নতুন আঙ্গিকে বাজারে নিয়ে আসলো “উইন্ডোজ ভিস্তা” বা “ভেস্তে যাওয়া জানালা”। আসলে ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাপলকে টেক্কা দেবার সর্বোচ্চ আশা নিয়ে মাইক্রোসফট এই পন্যটা বাজারে আনে। যদিও পন্যের মান কিংবা গুন কোনটাই অ্যাপলের ধারে কাছে ছিলো না। এবং খুব অল্প সময়েই মাইক্রোসফটের এই নতুন পন্য বাজারে মুখ থুবড়ে পড়ে। আর এই কারনেই এঁকে আমি “ভেস্তে যাওয়া জানালা” বলে থাকি। বিশেষ লক্ষনীয় যে এই “জানলা” সিস্টেমের মধ্যে মাইক্রোসফট অতি সন্তর্পনে নিজের সেই ব্যবহারকারীর তথ্য চুরির নেশা ত্যাগ না করে বরংচ আরো বর্ধিত আকারে বিস্তার করতে চেষ্টা করে এবং চুরি করার প্রযুক্তিটির নামে পরিবর্তন আনে। আগের NSA_Key এবারে প্রযুক্তিবিদদের সার্চ লাইটে ধরা পড়ে যায় key2 নামে।

“সপ্তম জানালা” বা “উইন্ডোজ ৭” । যতই মনভোলা আর গালফোলা নামকরনই হোক না কেন কাজের ধরন কিন্তু সেই পুরোনোই। এবং সিস্টেমের সিকিউরিটি যতই উচ্চমার্গীয় বলে মাইক্রোসফট প্রচার করুক না কেন এই পন্য মাইক্রোসফটের অাগের পন্যগুলোর মতোই ত্রুটিপূর্ন বলে ধরা পড়ে। মজার বিষয় হলো আগের সিস্টেমগুলো FAT ফাইল সিস্টেমে সাপোর্ট দিলেও এই “খিড়কী” কোনমতেই NTFS ছাড়া সিস্টেম লোড করতে পারে না। মানে বাধ্যতামূলকভাবে একজন ব্যবহারকারীকে নিজের পূর্বের সফটওয়্যারগুলোর মায়া কাটিয়ে বাধ্যতামূলকভাবেই ঐ সফটওয়্যারগুলোর নতুন সংস্করনে আপগ্রেড করে আসতে হয়।

এই সবগুলো ওএস এই কিন্তু প্রচুর ‘ব্যাকডোর’ যুক্ত করা ছিলো যেগুলোর ব্যবহারে ক্র্যাকাররা বিশ্বের প্রচুর ব্যবহারকারীর তথ্যের ক্ষতিসাধন করেছেন। বর্তমান সময়ে (ভেস্তে যাওয়া জানালা এবং সপ্তম জানালা) মাইক্রোসফট নিজের ওএস পন্যের সাথে সাথে “উইন্ডোজ ডিফেন্ডার” বা “জানালা রক্ষাকারী” নামের টুলস দিয়ে দিচ্ছে। যদিওবা এইটিকে মনভোলা নামে ডাকা হচ্ছে কিন্তু এঁর লাইসেন্সটুকু পড়লেই বুঝতে পারবেন যে কিভাবে এইটি আপনার কাছ থেকে আপনার সকল ব্যক্তিগত তথ্যের অধিকার নিয়ে নিচ্ছে এবং পরবর্তীতে সিস্টেমের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আড়ালে আপনার ঐ তথ্যগুলো ট্র্যাক বা খুঁজে নিয়ে আর্কাইভ করে যাচ্ছে। এছাড়াও দেখুন http://www.focus.com/fyi/50-places-linux-running-you-might-not-expect লিংক দুটি। এছাড়াও উইকিপিডিয়াতেও বেশ কিছু তথ্য পাবেন।

প্রযুক্তি জগতের নিয়মনীতি কে থোড়াই কেয়ার করে ফাইল ব্রাউজারের সাথে ওয়েব ব্রাউজারকে ইন্টিগ্রেট করার কারনেই অতি সহজেই ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমে ক্র্যাকাররা এই সিস্টেমের দখল নিতে পারে। কিন্তু তবুও একটার পর একটা সংস্করনে একই ব্যবসায়িক নীতি ধরে রেখে এগুচ্ছে মাইক্রোসফট এবং এর খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারন ব্যবহারকারীরাই। একইভাবে ওয়েবব্রাউজারের দুনিয়ায় একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে গিয়ে মাইক্রোসফট পন্যের বিপননে যে শঠতার আশ্রয় নিচ্ছে সেইজন্যে মাইক্রোসফটকে আদালতে শাস্তিও পেতে হয়েছে।

আর চরম মজার কাহিনী হলো এই যে এই খিড়কী গুলোর প্রতিটিতেই ফাইল সিস্টেমের সাপোর্ট আপগ্রেড হয়ে এসেছে কিন্তু পূর্ববর্তী ফাইলসিস্টেমটিতেই নতুন সিস্টেমটি ব্যবহারের কোন ব্যবস্থাই ফলপ্রসুভাবে কার্যকরী ছিলো না। ফলে ব্যবহারকারীকে নিজ গুরুত্বপূর্ন তথ্য/নথিপত্রের ক্ষতির সাথে সাথে অনেক তথ্য/নথিপত্র হারাতেও হয়েছে। মাইক্রোসফটের এন্ড ইউজার লাইসেন্স এগ্রিমেন্ট বা EULA তে মাইক্রোসফট আপনাকে কি সুবিধা দিচ্ছে বা নিরাপত্তা দিচ্ছে সেক্ষেত্রে একটু মনোযোগ দিলেই দেখতে পাবেন ফ্রী ওয়্যার বা বিনামূল্যে যে সফটগুলো পাওয়া যায় (উন্মুক্ত বা মুক্ত নয় কেননা সোর্স কোড সহ অন্যান্য শর্ত গুলো পূরন করে না এগুলো) সেগুলোর মতোই মোটামুটি ভাষার ব্যবহার করেছে মাইক্রোসফট। অর্থাৎ আপনাকে নিজ দ্বায়িত্বেই এই ওএসগুলো ব্যবহার করতে হবে কোন রূপ তথ্য হারানো কিংবা বিকৃতির জন্য মাইক্রোসফটকে আপনি কোনমতেই দায়ী করতে পারবেন না।

এবার নিশ্চয়ই আর ছেলেখেলা বা নিছক আনন্দচ্ছলে নিচ্ছেন না বিষয়গুলোকে। নিশ্চয়ই বোধের মূলে খটাখট আঘাত হানছে চিন্তা বা বিবেক কুড়াল? আশা করি কিছুটা হলেও বুঝতে পারছেন যে ব্যবহারকারীর তথ্যের নিরাপত্তায় হুমকি স্বরূপ কেন মাইক্রোসফটের নামটাকে এত বেশী উচ্চারন করে যাচ্ছি।

. . . . . এই পর্বটি “পর্ব – ৭[খ]” তে সমাপ্য . . .

বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ৭[খ]) প্রকাশিত হবে শীঘ্রই।

বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ১) প্রকাশিত হয়েছিলো বিগত ২৯শে ডিসেম্বর ২০১১ইং, বৃহস্পতিবার রাত্রে।
বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ২) প্রকাশিত হয়েছিলো বিগত ৫ই জানুয়ারী ২০১২ইং, বৃহস্পতিবার রাত্রে।
বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ৩) প্রকাশিত হয়েছিলো বিগত ১২ই জানুয়ারী ২০১২ইং, বৃহস্পতিবার রাত্রে।
বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ৪) প্রকাশিত হয়েছিলো বিগত ১৯শে জানুয়ারী ২০১২ইং, বৃহস্পতিবার রাত্রে।
বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ৫) প্রকাশিত হয়েছিলো বিগত ৩১শে জানুয়ারী ২০১২ইং, মঙ্গলবার রাত্রে।
বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ৬) প্রকাশিত হয়েছিলো বিগত ১৬ই ফেব্রুয়ারী ২০১২ইং, শুক্রবার রাত্রে।

Advertisements