Posted in কিভাবে কিভাবে যেন লিখে ফেললাম, খেয়াল করুন, জেনে রাখুন, দেশ ও জাতির প্রতি দ্বায়বদ্ধতা, পরিচয় পর্ব, প্রযুক্তি নিয়ে আউলা চিন্তা, ভালো লাগা, ভালোবাসা

“মুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার অভিজ্ঞতা বর্ণনা” : একটি দিকনির্দেশনা।

৬ই সেপ্টেম্বর ২০১৫ইং, সন্ধ্যে ৬টা ০৪মিনিট।
জিমেইলের ইনবক্সে এফওএসএস বাংলাদেশের তথ্য ও গবেষণা সচিব সগীর হোসাইন খানের বিশেষ বার্তা পেলাম। 🙂

প্রিয় সবাই।
সালাম ও শুভেচ্ছা!

এই বছর আমাদের মাঝে অভাবনীয় ভাবে ১৫ জন স্বেচ্ছাসেবী যুক্ত হয়েছেন। শেষ যে ৮জন যুক্ত হয়েছেন তারা নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি এফওএসএস বাংলাদেশ পরিবারকে আরো সমৃদ্ধ করেছেন বলেই আমার বিশ্বাস।
এফওএসএস বাংলাদেশ যে নিয়মিত আয়োজনগুলো করে থাকে সেখানে প্রতিটি স্বেচ্ছাসেবীকে সুযোগ দেওয়া হয় বক্তব্য প্রদান করার জন্য। এটি শুরু হয় ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করার মাধ্যমে। এটি একটি সহজ কাজ। এতে করে বক্তার মাঝে বক্তব্য প্রদানের জড়তা কেটে যায় এবং ভবিষ্যতে আরো ভালো কিছু নিয়ে বলার আগ্রহ এবং যোগ্যতা তৈরী হয়।
এই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করার প্রক্রিয়াটিকে আরো সহজ করতে বেশ কয়েক মাস আগে আমি এবং লোমানী আপু একটা দিকনির্দেশনা তৈরী করেছিলাম। নতুন যারা আমাদের সাথে যুক্ত হয়েছেন তাদের কাথা চিন্তা করে দিকনির্দেশনাটি আবারও ইমেইল করে দিলাম যাতে করে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করার ক্ষেত্রে নিজেদের প্রস্তুত রাখতে পারেন।

==================================

“মুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার অভিজ্ঞতা বর্ণনা”র দিকনির্দেশনা:
১। নিজের পরিচয় — নাম, পড়াশোনা, কাজ
২। প্রথমে কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করতাম?
৩। ওটাতে সুবিধা এবং অসুবিধা কি হতো?
৪। কিভাবে মুক্ত প্রযুক্তি/জিএনইউ লিনাক্স ডিস্ট্রো সম্পর্কে জানলাম?
৫। কার সাহায্যে এবং কবে থেকে মুক্ত প্রযুক্তি/জিএনইউ লিনাক্স ডিস্ট্রো ব্যবহার শুরু করলাম?
৬। ব্যবহার করতে গিয়ে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম এবং কিভাবে সেগুলোর সমাধান করলাম?
৭। অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার পর ব্যবহার করতে কেমন লাগছে?
৮। আমার মতে সবাই মুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার কেন করবে?
৯। মুক্ত প্রযুক্তি/জিএনইউ লিনাক্স ডিস্ট্রো ব্যবহার শুরু করতে গেলে কারা সাহায্য করবে / করতে পারে?

এটা কোন সীমা না যে এর বাইরে কিছু বলা যাবে না। এটি মূলত শুরু করার জন্য এবং কথার প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য সহায়িকা। কারও যদি মনে হয় এর সাথে আরও কিছু যুক্ত করলে বক্তব্য সুন্দর ও সাবলীল হবে তাহলে সানন্দে সেটি/সেগুলো যুক্ত করতে পারবে। তবে সময়ের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সাধারণত এই ধরনের বক্তব্য ৫ মিনিটের চাইতে বেশী শুনতে ভাল লাগে না।

সবার বিশেষ করে নতুন যারা যুক্ত হয়েছেন তাদের কাছ থেকে মতামত আশা করছি!

৭ই সেপ্টেম্বর ২০১৫ইং, রাত ১২টা ০৬মিনিট।
সগীর ভাইয়ের মেইলের প্রশ্নগুলোর জবাব লেখার কাজ মোটামুটি এগিয়েছে। উত্তরগুলোয় কিঞ্চিৎ বাক্যবিন্যাস করেই এফওএসএস বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবকতালিকায় পাঠিয়ে দিলাম যেনো ষাটের কিছু বেশী স্বেচ্ছাসেবী সেগুলো পড়তে-জানতে-বুঝতে পারেন। নিজের ব্লগেও কাজটা তুলে রাখাটা জরুরী মনে হলো। হয়তোবা আগামীতে আরো অনেকের কাজে আসবে বিষয়টা।

“মুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার অভিজ্ঞতা বর্ণনা”র দিকনির্দেশনা:
১। নিজের পরিচয় — নাম, পড়াশোনা, কাজ

আমার নাম সাজেদুর রহিম জোয়ারদার রিং।

পড়াশোনা ইংরেজী সাহিত্যে সম্মান সহ স্নাতক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

কাজ যে কি কি করি তা বলা মুশকিল। তবে বেশ মনে আছে যে প্রতিদিন সকাল বেলা দাঁত ব্রাশ করি। তারপর নাস্তা খাই, কম্পিউটিং করি, আড্ডা পিটাই। দুপুরে আবারো খাই, তারপর আবারো আড্ডা পিটাই, ঘোরাফেরা করি কিঞ্চিৎ। অতঃপর সন্ধ্যায় আবারো হালকা নাস্তা করি। তারপর আবারো আড্ডা পিটাই, কম্পিউটিং করি এবং রাত্রে আবারো খাই, দাঁত ব্রাশ করি আর কম্পিউটিং করি। সবশেষে বিশ্রামে যাই এবং পরের দিন সকাল বেলা আবারো ……।

এসব নিয়মতি কাজের ফাঁকে ফাঁকে সুযোগ পেলে জালাল আহমেদ গ্রুপের আইটি বিভাগে মাঝে মধ্যে বেড়াতে যাই। ওখানে কিঞ্চিৎ খোশগল্প করার মেজাজ থাকলে করি, নাইলে ঝাড়ি যা মারার তা মেরে আসি। বাংলাদেশের অন্যতম একটা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর শিক্ষার্থীদের সাথে আমাকে কিছু সময়ের জন্য একত্রিত হবার সুযোগ করে দিয়েছে। আমি সুযোগ পেলেই ওখানেও জম্পেশ করে আড্ডা পিটাতে চলে যাই। অবাক করা বিষয় হচ্ছে এসব আড্ডা পিটানোয় আমার ব্যাংকিং হিসেবে পয়সাও জমা পড়ে। 🙂

নিজের আড্ডা পিটানোর বিষয়টার চুড়ান্ত বন্দোবস্ত করেছি কিছুদিন আগেই। “নাটবল্টু” নামে অষ্টকপূর্ণ একটা কারবার চালু করেছি। কাজের কাজ ছেলেরা সবেমিলে করে আমি যেইকার সেই — আড্ডা পিটাই। 😀

তবে হ্যাঁ, কাজের কাজ যদি কিছু করেই থাকি তো সেটা এফওএসএস বাংলাদেশ। দেশ আর দেশের জনগনের জন্য প্রযুক্তির সুফল নিশ্চিত করতে, প্রযুক্তিকে নিরাপদ করতে আমার আড্ডা পিটানোর জ্ঞানগুলো এ জায়গায় এসে বাস্তবতার মুখ দেখে।

২। প্রথমে কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করতাম?

প্রযুক্তি জীবনের পথ চলার শুরুতে খিড়কী’৯৫ দেখেছিলাম আমার ফুপাতো ভাইয়ের কম্পিউটারে। সে ১৯৯৬ইং সালের কথা। ২০০০ইং সালে আমার হাতে আসে আমার প্রথম বিবিজান, ইনি পেন্টিয়াম ৩ ৬০০মে.হা প্রসেসর, ৬৪মে.বা মেমরি আর ৩০জিবি কোয়ান্টাম ফায়ারবল হাড্ডিযুক্ত ছিলেন। ঘরে আনবার কালে উকিল আব্বা বা আমার পিসির সিস্টেম ইঞ্জিনসাবে ওনার মগজ ধোলাই করে দিয়েছিলেন খিড়কী ৯৮ দিয়ে।

৩। ওটাতে সুবিধা এবং অসুবিধা কি হতো?

ওরে মামু! আর কইয়েন না। বাসার আইন্যা পরথমবার বিবিজানের খোমা দেখনের আগেই ধরা পড়লো আমার বিবিজান বয়রা/বোবা-কালা। আমার নিজের আব্বাজান তো হুংকার দিয়া বসলেন যে আমি না বুইঝ্যা নকল মাল কিনছি আর ঠগছি। তখনো যদি জানতাম যে বিষয়টার প্যাঁচ অন্যখানে। যাই হোক আমার স্কুল জীবনের এক বড় ভাইরে ধরলে উনি কইলেন যে সাউন্ড ড্রাইভার ফেইল মারছে নতুন করে নাকি খিড়কীরে ইন্সটলাইতে হবে।

ঘন্টা দেড়েকের কারবার শেষে বড় ভাইয়ের পরামর্শের বাস্তবায়নে, আমার প্রথম বিবিজান সাকসেসফুল অপারেশন শেষে সুস্থতায় ফিরে আসারা রোগীর মতো উচ্ছ্বসিত কলরব করে উঠলেন। মাগার মিজাজ বিগড়াইলে এই দেখে যে ঘন্টা খানেক পরেই আমার বিবিজান আবারো বোবাকালা। কি মুসিবত নতুন কম্পু আমার মান-ইজ্জ্বত বইল্যা আর কিছু রাখলো না এলাকার ছোট ভাই-বেরাদরদের সামনে।

৪। কিভাবে মুক্ত প্রযুক্তি/জিএনইউ লিনাক্স ডিস্ট্রো সম্পর্কে জানলাম?

১৯৯৮সালে বিসিআইসি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে থাকাকালীন আমার এক সহপাঠী, ডাকনাম – মামা মতান্তরে কানন মামা মতান্তরে ইয়েচচার প্রথমবারের মতো একটা চকচকে বই দিয়ে গোল বাধালো। হাতে পেলাম কম্পিউটার জগৎ পত্রিকা। ওটা থেকে কম্পিউটিং, বাংলাদেশের কম্পিউটিং, হার্ডওয়্যার বাজার ইত্যাদি নিয়ে বেশ জ্ঞান আহরন করা গেলো। তারপর সেই জ্ঞানের ভারে উল্টে পড়ে যাই যাই এমন অবস্থায় ১৯৯৯ইং সালের জানুয়ারীতে একদিন মিরপুর-১ নম্বরে (বর্তমান জিপি সেন্টারের ঠিক সামনে) পত্রিকার একটা দোকানে নজর কাড়লো পিসি কোয়েস্ট নামের একটা পত্রিকা। ইংরেজি ভাষার পত্রিকাটির প্রথম পাতা জুড়ে থাকা মোহনীয় ভঙ্গিমার এক অবলা নারী আমার প্রজন্মের ঐ সময়কার পোলাপাইনের জন্য বিরাট বিষয়।

মাগার আমি আটকা খাইলাম “পিসির জন্য সঠিক মাদারবোর্ড কিভাবে বাছাই করা উচিত” শিরোনামটা দেখে। দোকানীর কাছ থেকে চেয়ে নিয়ে পড়া শুরু করে দিলাম। তখনকার দিনের ব্যবসায়ীরা আজকালকার মতো অত্ত কাটখোট্টা মার্কা ছিলো না। কিছুক্ষণ পড়তে দিলেন ভদ্রলোক। ঐ সময়ে দশটাকার কম্পিউটার জগৎ কিনতেই আব্বার কাছ থেকে পয়সা বার করতে কুপাকুপি লেগে যেতো আর তো চল্লিশ টাকার ঐ ইংরেজি পত্রিকা। তার উপরে আবার ঐ সংস্করনের সাথে থাকা একটা সফটওয়্যার সিডি এবং ঐ সংখ্যার মূল্য মোটের উপরে আশি টাকা। দোকানীকে অনেক অনুরোধ করে বাসায় ফিরলাম, মনে আশা পয়সার একটা বন্দোবস্ত হবেই হবে।

মা’কে বলতেই অবশ্য কাজের কাজ হয়ে গেলো। এসএসসি’র ফলাফলের জন্য বৃত্তির কিছু টাকা পেতাম। সেখান থেকে মা একশো টাকার একটা নোট দ্রুতই আমার হাতে দিয়ে বললেন পত্রিকাটা কিনে আনতে। টাকাটা শার্টের বুক পকেটে পুরে দে গোল্লাছুটের দৌড়। মিরপুরে চিড়িয়াখানার ঢালের থেকে মিরপুর ১ নম্বরের ঐ দোকান, পাক্কা সাড়ে সাত মিনিটে গেলাম। দোকানী তো পুরাই টাস্কি পোলায় কি পাইছে পত্রিকায় যে একশো টাকার বাতিক উঠে গেলো। পত্রিকা খুলে, পাতাগুলো উল্টেপাল্টে দেখে তারপর আমার হাতে দিলেন।

যাই হোক বাসায় ফিরে এসে সিডিটা চালানোর কোন ব্যবস্থা করতে পারলাম না। কারন আশেপাশের বাসায় ভিসিপি থাকলেও কোন সিডি প্লেয়ার ছিলো তখনো। আমার বাসায় তো সর্বোচ্চ আব্বার টুব্যান্ড রেডিও আর একটা ডবল ডেক ক্যাসেট প্লেয়ার। ১৯৮৫সালে কেনা ফিলিপস ১৪ইঞ্চি’র সাদাকালো টেলিভিশনটা অবশ্য সেই সময়ে বাসায় ছিলো তবে তাতে কথা আসলেও ছবি আসতো না। ১৯৯৯ইং তে অবশ্য বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে সনির ট্রিনিট্রন প্রযুক্তি যুক্ত ২১ইঞ্চি পর্দার কালার নতুন টেলিভিশন আসে বাসায়।

তবে আর কিছু করি আর না করি পত্রিকটার প্রতিটা অক্ষর অবদি মনে গেঁথে ফেলেছিলাম। আর সিডিটার সম্পর্কে জেনেছিলাম যে ওঁর ভেতরে মিলবে পিসিকোয়েষ্ট লিনাক্স নামে একটা নতুন ধরনের অপারেটিং সিস্টেম। কম্পিউটার একটা হাতে পেলে ওটার উপরে পরীক্ষা চলবে নিয়্যত করা থাকলো।

৫। কার সাহায্যে এবং কবে থেকে মুক্ত প্রযুক্তি/জিএনইউ লিনাক্স ডিস্ট্রো ব্যবহার শুরু করলাম?

ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ঠিক উল্টো পাশেই ছিলো আমার কম্পুর দোকানটা, এক্সেল টেকনোলজিস। নতুন কম্পুর হটাৎ হটাৎ বোবাকালা হয়ে যাবার বিষয়টায় মন কষে গিয়েছিলো। শুধুমাত্র সিস্টেমটাকেই হাতে করে মেট্রো লিংকের বাসে চেপে মিরপুর-১ থেকে চলে আসলাম সাইন্সল্যাবের মোড়ে। অতঃপর পদব্রজে যথাস্থানে। হার্ডওয়্যার ইঞ্জিন বা আমার সেই উকিল আব্বা তো দেখেই থ! গতকালকেই নতুন পিসি কিনে আজকেই সার্ভিস সেন্টারে নিয়ে আসছে মানে সিরিয়াস হার্ডওয়্যার ইস্যু। আমাকে বিভিন্নভাবে প্রশ্ন করে জানতে চাইলো আমার বাসায় বিদ্যুৎতের সরবরাহ কিরকম? স্ট্যাবিলাইজার আছে কি না? ইউপিএস ব্যবহার করি কি না ইত্যাদি। তারপরেও যখন আমি তাঁর কোন ফাঁদে আটকা পড়লাম না তখন উনি বসলেন আমার সিস্টেমটা নিয়ে। কিছু কাজ করার পর সিস্টেমটা দাঁড়িয়ে গেলো এবং উনি আমাকে উপদেশ দিলেন যেনো পিসিসিলিন নামের অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করি। কেননা যে ফ্লপি দিয়ে সিস্টেমটাকে বুট করা হচ্ছিলো সেটাতে নাকি ভাইরাস ধরবার সুযোগ ছিলো এবং ওটাই নাকি ক্ষতিগ্রস্ত করে দিচ্ছে আমার নতুন সিস্টেমকে।

পত্রিকালব্ধ জ্ঞানের ভারে টালমাটাল আমি ঐ সময়ে ঐ মূহুর্তেই ঝেড়ে দিলাম নিজের জ্ঞান। সাথে করে নিয়েছিলাম আমার বিবিজানের সাথে যৌতুকের মতো চলে আসা গহনার মতো সব সিডি আর ফ্লপিগুলো এবং প্রায় দুই বছর আগেরকার সেই ম্যাগাজিন সাথে কেনা ডিস্কটা। বলে বসলাম যেনো উনি আমাকে ওখান থেকে ওটা ইন্সটল করে দেন কেননা পত্রিকায় পড়েছিলাম ঐ সিস্টেমে কোন ভাইরাস জনিত সমস্যাই নাকি নেই। কিন্তু উনি আমাকে সেই কাজটা না করে দিয়ে সোজা কাউন্টারে পাঠিয়ে দিলেন এবং কাউন্টার থেকে আমাকে জানানো হলো যে দুই হাজার টাকা অতিরিক্ত দিলে তবেই আমার সেই ডিস্ক থেকে ওএস ইনস্টল করে দেয়া হবে আমার পিসিতে। এমনিতেই আটান্ন হাজার টাকার চুনা লেগেছে তারপরেও যদি আমার বাপ কে বলি এই দুইহাজার টাকার চুনা লাগাতে তাইলে আমি আর আমার প্রথম বিবিজান দুইটাই বাসার বাইরে থেকে যাবার সম্ভাবিলিটি প্রবল!!!!

৬। ব্যবহার করতে গিয়ে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম এবং কিভাবে সেগুলোর সমাধান করলাম?
৭। অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার পর ব্যবহার করতে কেমন লাগছে?
৮। আমার মতে সবাই মুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার কেন করবে?
৯। মুক্ত প্রযুক্তি/জিএনইউ লিনাক্স ডিস্ট্রো ব্যবহার শুরু করতে গেলে কারা সাহায্য করবে/করতে পারে?

আমার ধারনা এটুকু পড়তেই আপনাদের চোখে ক্লান্তি এসে ভর করেছে। আজকে ওটুকুই। বাকীটা না হয় পরে দিবোনি কোন একদিন। 🙂

এটা কোন সীমা না যে এর বাইরে কিছু বলা যাবে না। এটি মূলত শুরু করার জন্য এবং কথার প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য সহায়িকা। কারও যদি মনে হয় এর সাথে আরও কিছু যুক্ত করলে বক্তব্য সুন্দর ও সাবলীল হবে তাহলে সানন্দে সেটি/সেগুলো যুক্ত করতে পারবে। তবে সময়ের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সাধারণত এই ধরনের বক্তব্য ৫ মিনিটের চাইতে বেশী শুনতে ভাল লাগে না।

হয়ে গেলো তো!! আমার বাকী থাকা কথাগুলো আর বলার সুযোগ কই! 😦

সবার বিশেষ করে নতুন যারা যুক্ত হয়েছেন তাদের কাছ থেকে মতামত আশা করছি!

নবীনেরা, একমাত্র নবীনেরাই পারেন এই কথার দম আটকে যাবার বিপদ থেকে আমাকে উদ্ধার করতে। কেউ কি নিজের কান/চোখ বাড়িয়ে দেবেন আমার কথাগুলো শুনতে/পড়তে। 😀

৯ই সেপ্টেম্বর ২০১৫ইং, সন্ধ্যে ৬টা ০৪মিনিট।
প্রিয় সবাই
অনেক অনেক ধন্যবাদ নিজ নিজ ব্যস্ততার ফাঁকে আমার লেখাটা পড়ে নেয়ায়। পড়বার পর নিয়মিত জবাব পেলে আমার মতো বুড়ো মানুষগুলো তো বটেই নবীণেরা প্রচন্ডরকমের উৎসাহ পাবে, কথা বলবে, কথা শুনবে।

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ৬:০৪ pm এ তে, সগীর হোসাইন খান লিখেছে:
৫। কার সাহায্যে এবং কবে থেকে মুক্ত প্রযুক্তি/জিএনইউ লিনাক্স ডিস্ট্রো ব্যবহার শুরু করলাম?

বিগত দিনের পর থেকে ….
দুপুরের পরপর বাসায় ফিরলাম ভগ্নমনঃরথে। কারন এই পিসির যন্ত্রনা বাবার সামনে বলাও যাবে না আবার ধরা না খেয়ে থাকবেও না। সিআইএ/কেজিবি/মোসাদ/আইএসআই/র সব গোয়েন্দা এনে হাজির করবে আমার বাবা যদি জানতে পারে যে নুতন সিস্টেমে ঐ রকমের কোন গড়বড় করছে আর আমি দৌড়ের উপরে আছি তো!

বিকালে বসে গেলাম ঐ সেই সিডি নিয়ে আর মাদারবোর্ডের ম্যানুয়াল নিয়ে। এখনো পুরো খেয়াল আছে যে আমার প্রথম বিবিজানের মেরুদন্ড বা সিস্টেম মাদারবোর্ডটা ছিলো ইন্টেল ৪৪০বিএক্স২ মডেলের। ওটার তথ্যকণিকা ঘেঁটে যতটুকু পেলাম তাতে কিভাবে সিস্টেম বুট করতে হয় তা জানা গেলো। আফসোসের বিষয় পুরোটা লেখাই খিড়কী ৯৮ নিয়ে ছিলো। 😦

ছোট বেলায় ১৯৮৬-৮৭ইং, বাবা/চাচা/মামা/কাকা/মামাতো-খালাতো ভাই যেই কোন কলম বা খেলনা কিনে দিতো আমার প্রথম দ্বায়িত্ব ছিলো যত্নসহকারে সেটার নাটবল্টু সব খুলে দেখা। কোনটা সবশেষে জোড়া দিয়ে কাজের মতো করা যেতো কোনটা নষ্ট হতো। স্প্রিং লাগানো কাঠের একটা বন্দুক সেই সময় পুরো পাঁচ টাকা। ডানো দুধের খালি টিন বাসার থেকেই ফেরীওয়ালারা তিনটাকায় কিনে নিয়ে যেতেন। আম্মা সেই টিন বেচা টাকায় আমাকে ম্যাকগাইভার আর সাদ্দাম হোসেনের ছবিওয়ালা খাতা, নীল কালির রাইটার আর ক্যাম্পাস বলপেন কিনে দিতেন। ওগুলোর যেটা যেভাবে খোলা যেতো খুলে ফেলতাম। একবার খেয়াল আছে যে রাইটার বলপেনের বল কিভাবে লাগায় তা বুঝে উঠতে গিয়ে দাঁত দিয়ে কামড়ায়ে নিবের সামনে থেকে বল ছুটায়ে ফেললাম। নতুন কলম মাগার বল ছুটানোর পরে তো আর লেখা সহজে হয় না কিংবা হলেও কালি থেবড়ে যায়, মোটা লেখা হয়। বিরাট মুসিবত সামলাতে কালি কমিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত এবং কলমের পেছনের দিকে মুখ লাগিয়ে জোরে নিঃশ্বাসের টান। আর যায় কোথা সব নীল কালিতে মুখ-জিহবা-জামা মাখামাখি করে ফেললাম। পরে এটার জন্যে অবশ্য ধোলাই খাইনি তবে আম্মার হাতের উপরে বেশ কসরৎ গিয়েছে গোটা কয়েক দিন। ৮৮’র বন্যায় ঢাকায়, ইব্রাহিমপুরে দাদার ঢাকার বাড়ির বারান্দা আর সিঁড়ি ঘরের তলায় মশারির জাল পেতে তেলেটাকির ছানাপোনা ধরা, ছাদের কার্নিশ বেয়ে পেয়ারা আর জামরুল গাছের ডালে ডালে লাফিয়ে বেড়ানো আর বিকালে ছাদে বসে বসে পাশের বাড়ির টেকো মল্লিক চাচার মাথায় আখের ছোবড়া দিয়ে নিশানা করা ছিলো অন্যতম কাজ। বেশ ভালো স্মরণ আছে যে ১৯৮৭ইং সালে নারিকেল ছিলবার সময় দা’য়ের কোপে ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুলের নখের অর্ধেকটা সহ আগার অংশ কেটে ঝুলে গেলে সেটা আমি আবার জোড়া দেবার কাজে ব্যস্ত ছিলাম, কান্না করিনি একটুও। আম্মা গোসলখানা গিয়েছিলেন আমাকে নারিকেল কাটায় ব্যস্ত রেখে, ফিরে এসে আমার কান্ড আর রক্তে ভেসে যাওয়া মেঝে দেখে উনিই চাচা-ফুফুদের ডেকে চিল্লিয়ে পুরো বাড়ি মাথায় তুলেছিলেন। পরিশেষে আব্বার চেম্বারের আলমারীর থেকে ওষুধ আর তুলা এনে আঙ্গুলটা ব্যান্ডেজ করে তবে শান্ত হয়েছিলেন আমার মা। আর্নিকা মাদার লাগানোর সময় কাটা অংশে জ্বালা ধরায় প্রচন্ড চেঁচিয়েছিলাম।

ঐ রকমের ত্যাঁদোড় এক বান্দার হাতে পড়ে আমার প্রথম বিবিজানের প্রথম হার্ট অ্যাটাকের দশার শুরু হলো। সিডিরমটার ভেতরে পিসিকোয়েস্ট লিনাক্সের সেই সিডি ঢুকিয়ে দিয়ে সিস্টেম বুট করতে দিলাম। বায়োসের সেটিংসে পরিবর্তন আনবার কথা বলা ছিলো কিন্তু বায়োসে ঢুকে দেখি ওটুকু আগের থেকেই করা। অতএব বায়োসের আরো বিভিন্ন অংশে চুলকে/চিপকে দিয়ে তারপর সিস্টেমের ঐ অংশ থেকে বেরিয়ে আসা, জাস্ট অভিজ্ঞতা সঞ্চয়। 🙂

কিছুক্ষণের মধ্যেই চালু হতে শুরু করলো নতুন ওএসটা। মনে তো আর আনন্দ ধরে না যে সবার চাইতে ভিন্ন কিছু করতে যাচ্ছি আমি। যে ওএস আমি চালাবো আমার আশে পাশের দশটা বাড়ির কম্পিউটার জানা ভাই-বেরাদরের কম্পুতে তা নাই। তবে ভড়কায়ে দিলো মনিটরের উপরের দিকে একটা পেঙ্গুইনের মার্কা আর তার নিচের দিকে বয়ে চলা হাজারো হিজিবিজি হিজিবিজি লেখার স্রোত। আমি ধরেই নিলাম ঐ সেই সিস্টেম ইঞ্জিন যা বলেছে তাই, আমার পুরো পিসিতে ভাইরাস ধরে নিয়েছে আর এখন পুরোপুরি নষ্ট হবার পথে।

আমাকের আশ্চর্য করে দিয়ে একটা কাটা (x) চিহ্ন ওয়ালা উইন্ডো আসলো মনিটরে আর নিচের দিকে লেখা উঠলো – “টেস্ট ইওর গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেস”।

৬। ব্যবহার করতে গিয়ে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম এবং কিভাবে সেগুলোর সমাধান করলাম?

পিসির স্ক্রিনে নতুন রংয়ের একটা উইন্ডো আর সাথে সুন্দর ঝকঝকে লেখায় বার্তাটুকু দেখে মনের ভেতরে আনন্দের ঠেলায় চিংড়ি/কাঁকড়ার নাচনকোদন(জগিং) চলছিলো। যা আছে কপালে, “বিসমিল্লাহ” বলে শুরু করে দিলাম একটার পর একটা বোতামে চাপ দেয়া।

রোমান হরফের বর্ননাগুলোর কিছুটা পড়ি বাকিটুকু অনুমানে বুঝে নিয়েই পরবর্তী ধাপে ছুটে চলি। একটা সময় সিস্টেমের জন্য ইউজার আইডি আর পাসওয়ার্ড চাইলো, দিয়ে দিলাম। পরে বললো – সিস্টেম ইন্সটল করার জন্য প্রায় তৈরী আমি আর এগোবো কি না? নতুন সিস্টেম চেখে দেখার আনন্দে আর দেরী করি কেন? দে “আগে বাড়ো” বোতামে চাপ। বিটিভিতে দেখা “দি সোর্ড অব টিপু সুলতান” এর হায়দার আলী’র ভূত যে তখন আমার মাথায় চড়ে গিয়েছে। যা হবার হবে, পরে দেখবো, এখন “আগে বাড়ো”।

কিছুক্ষণের মধ্যেই নতুন সিস্টেম ইন্সটলের কাজ শেষ। রিস্টার্ট দিয়ে এসে আবারো সেই হিজিবিজি লেখার একসারি পাহাড়ী স্রোত। তারপর আসলো একটা লালটুপি ওয়ালা পেঙ্গুইনের ছবি আর সেটার পেটের ডান পাশে আমার নামটা যেটা ইন্সটল করার সময়ে দিয়েছিলাম সেইটা ঝকঝক করছে। নামের নীচে পাসওয়ার্ডের জন্য ঘরটা প্রি-হাইলাইটেড ছিলো। নিজের পাসটা চেপে লগইন বোতামটায় চাপ দিতেই স্পীকারে দূর্দান্ত এক আওয়াজ ভেসে আসলো। মনে আর আনন্দ ধরে না। সাউন্ডের ড্রাইভার কিংবা ওএস নতুন করে না দিয়েই কাজ হয়েছে। বার কয়েক রিস্টার্ট দিয়ে আওয়াজ মানে সাউন্ড সিস্টেমটার পরীক্ষা করে ফেললাম।

নিজেরে ম্যাকগাইভারের সাগরেদ বোধ হচ্ছিলো তখন। অতএব আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা…. তুমুল গতিতে চলতে থাকলো। সবচাইতে প্রথম সমস্যাটা ছিলো হার্ডডিস্কের সাইজ কমে ২০জিবি হয়ে যাওয়া। মনে দুরুদুরু ভয় করছিলো কি করতে কি করে ফেলেছি ভেবে? তারপর দেখলাম যে কিছু কিছু ছাড়া বাদবাকী মাল্টিমিডিয়া ফাইলপত্র ঠিকঠাক চলে না। আর বাদবাকী সব ঠিকঠাকই ছিলো। টেক্সট এডিটর, ক্যালকুলেটর, অফিস প্যাকেজ সব একসাথে পেয়ে তো সেইরাম আনন্দ পাচ্ছিলাম! কোন কিছুই আর নিজের থেকে খুঁজতে হবে না, সব দেয়াই আছে।

মিডিয়া ফাইলগুলো কিভাবে চালাবো সেই ধাঁধার জবাব খুঁজতেই প্রথমবার এক ভাগ্নীকে সাথী করে মোহাম্মদপুরে ইকবাল রোডে একটা সাইবার ক্যাফেতে ঢুকলাম। প্রতি ঘন্টা চল্লিশ টাকা হিসেবে একটা কম্পিউটার ব্যবহার করতে হবে জেনে প্রচন্ড দমে গিয়েছিলাম সেদিন। তবে প্রথমবারের মতো ইয়াহু নামের এক আজব জিনিষ দেখেছিলাম। কিছু একটা লিখে দিলেই সুত্র ধরে আরো হাজারো তথ্য এনে দিচ্ছিলো ইয়াহু মামা।

৭। অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার পর ব্যবহার করতে কেমন লাগছে?
৮। আমার মতে সবাই মুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার কেন করবে?
৯। মুক্ত প্রযুক্তি/জিএনইউ লিনাক্স ডিস্ট্রো ব্যবহার শুরু করতে গেলে কারা সাহায্য করবে / করতে পারে?

এই প্রশ্নগুলোর জবাবে আরো লিখবার জন্য আপনাদের থেকে আরো বেশী বেশী অনুপ্রেরণা চাই আমার!!! 🙂

চলবে ….

Posted in খেয়াল করুন, জেনে রাখুন, দেশ ও জাতির প্রতি দ্বায়বদ্ধতা, প্রযুক্তি নিয়ে আউলা চিন্তা, ভালো লাগা, ভালোবাসা

“মুক্তপ্রযুক্তি” ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান


পাইরেসির কালিমামুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে লিনাক্স এবং ওপেন সোর্স ভিত্তিক সফটওয়্যারগুলোকে ছড়িয়ে দেয়ার প্রত্যয়ে বিভিন্ন পেশাজীবি, কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবীর সংগঠন ”ফাউন্ডেশন ফর ওপেন সোর্স সলিউশনস বাংলাদেশ” বা সংক্ষেপে ”এফওএসএস বাংলাদেশ” এর আয়োজনে আগামী ১১ই অক্টোবর, মঙ্গলবার আমাদের সাংগঠনিক ফোরাম ”মুক্তপ্রযুক্তি”র উদ্বোধন হতে যাচ্ছে ।

বিকাল সাড়ে চারটা থেকে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক, বাংলাদেশের প্রযুক্তিপ্রেমীগণ মিলিত হবেন এ আয়োজনে এবং ছোট্ট একটা আলোচনা অনুষ্ঠান ও মত বিনিময় সভা শেষে সন্ধ্যে ছয়টায় কেক কেটে ফোরামের উদ্বোধনী আয়োজন পালন করা হবে।

আমাদের এ আয়োজনে আপনাকে স্ব-বান্ধবে উপস্থিত হতে আমন্ত্রন জানাচ্ছি।


রিং
মহাসচিব
ফাউন্ডেশন ফর ওপেন সোর্স সলিউশনস বাংলাদেশ

আপডেট: আয়োজনের কিছু ছবি

Posted in খেয়াল করুন, জেনে রাখুন, প্রযুক্তি নিয়ে আউলা চিন্তা, ভালো লাগা, ভালোবাসা

“সফটওয়্যার মুক্তি দিবস – ২০১১” তে বাংলাদেশে উৎসব আয়োজন


মুক্ত সফটওয়্যার আন্দোলন একটি সামাজিক আন্দোলন যার উদ্দেশ্য কম্পিউটার ব্যবহারকারীর অধিকার সংরক্ষণ করা। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মুক্ত সফটওয়্যার আন্দোলন, মুক্ত সফটওয়্যার তৈরি করতে, ব্যবহার করতে এবং মানোন্নয়ন করতে উৎসাহ প্রদান করে। ১৯৮৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসের কোন একদিনে রিচার্ড স্টলম্যান নামের এক বদ্ধ উন্মাদ সফটওয়্যারের যাদুকর নিজের মর্জিতে মোটা মাইনের চাকুরী ছেড়ে দিয়ে শুরু করেছিলেন মানবতার জন্য সফটওয়্যার উন্মুক্ত করার কাজ – “প্রজেক্ট গ্নু (GNU)”। এজন্যেই তাঁকে এই আন্দোলনের প্রবক্তা হিসাবে গণ্য করা হয়। তাঁর সেই ব্যক্তিগত পাগলামো আজ পৌঁছে গেছে সামগ্রিক ”সফটওয়্যার মুক্তি” আন্দোলনে। প্রতিষ্ঠা পেয়েছে ”মুক্ত সফটওয়্যার ফাউন্ডেশন” (Free Software Foundation বা FSF)। বিশ্বের বাঘা বাঘা সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সহ অনেকেই যোগ দিয়েছে এঁর সহযোগী হিসেবে। উদাহরন স্বরূপ বলা যায় – ক্যানোনিক্যাল, গুগল, রেডহ্যাট, ইন্টেল, এএমডি কিংবা লিনাক্স ফাউন্ডেশনের নাম। এই আন্দোলন কে তরাণ্বিত করতে ২০০৪ সাল থেকে প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় শনিবারে পালন করা হচ্ছে “সফটওয়্যার মুক্তি দিবস”। ২০১১ সালে এই দিনটি হলো ১৭ই সেপ্টেম্বর।

আরো বিস্তারিত জানতে ঘুরে আসুন – http://wiki.softwarefreedomday.org থেকে। সারা পৃথিবীতে কারা কারা এই দিনটি উদযাপন করছে তা দেখতে হলে এখানে ঘুরে আসুন http://wiki.softwarefreedomday.org/CategoryTeam2011।

বাংলাদেশে এই আন্দোলনের কিছু ঐতিহাসিক গুরুত্ব আর প্রযুক্তিখাতে এই আন্দোলনের অবদান সবার সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যে ফাউন্ডেশন ফর ওপেন সোর্স সলিউশনস বাংলাদেশ (Foundation for Open Source Solutions Bangladesh) বা সংক্ষেপে এফওএসএস বাংলাদেশ (FOSS Bangladesh) আগামী ১৭ই সেপ্টেম্বর শনিবারে এ বছর সকল উন্মুক্ত সফটওয়্যারপ্রেমীকে সাথে নিয়ে ”সফটওয়্যার মুক্তি দিবস – ২০১১, বাংলাদেশ” পালন করতে যাচ্ছে।

আয়োজনের তারিখ ও সময়: ১৭ই শে সেপ্টেম্বর ২০১১ইং, শনিবার। সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে আয়োজন।
আয়োজন স্থল: প্রেসিডেন্সী বিশ্ববিদ্যালয়, বনানী ক্যাম্পাস।
আয়োজনের বিস্তারিত সূচী:
১। সকাল ১০টায় আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে নিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী ঘোষনা করা হবে এবং সাথে কিছু স্বাগত বক্তব্য দেবেন আয়োজক এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
২। সকাল সাড়ে দশটা থেকে শুরু হয়ে দিনব্যাপী আয়োজনে বিভিন্ন ধরনের মুক্ত সফটওয়্যার ও লিনাক্স ডিস্ট্রোর ইতিহাস আর চিত্রসহ ডঙ্গল, ফেস্টুন, ব্যানার নিয়ে প্রদর্শনী চলবে।
৩। দিনব্যাপী এ আয়োজনে আরো থাকছে ”সফটওয়্যার মুক্তি আন্দোলন” নিয়ে তথ্যভিত্তিক ভিডিও চিত্র প্রদর্শনী।
৪। থাকছে ”লিনাক্স ইন্সটলেশন বুথ”। যেখানে আমাদের স্বেচ্ছাসেবকগণ আয়োজনে অংশগ্রহনকারীর পছন্দ অনুসারে তাঁদের ল্যাপটপ কিংবা নেটবুকে লিনাক্স ভিত্তিক বিভিন্ন ডিস্ট্রো ইন্সটল এবং ইন্সটল পরবর্তী নিত্য প্রয়োজনীয় সেটিংসগুলো করে দেবেন। (অনলাইনে ফর্মপূরনকারীরা অগ্রাধিকার পাবেন।)
৫। এছাড়াও আয়োজনস্থলে থাকবে বিভিন্ন জনপ্রিয় লিনাক্স ডিস্ট্রোগুলোর পেনড্রাইভে, পছন্দের মিডিয়াতে এবং সিডি/ডিভিডিতে বিতরনের ব্যবস্থা।


“সফটওয়্যার মুক্তি দিবস – ২০১১, বাংলাদেশ” উদযাপন পরিষদ

আয়োজনে আপনার যোগদান নিশ্চিত করতে এই ফর্মে আপনার তথ্য যুক্ত করে দিন।

আয়োজনস্থলের ম্যাপ: রাস্তা কিংবা এলাকাটা চিনতে কষ্ট হলে, এখানে টোকা মারুন।
আপডেট: আয়োজনের কিছু ছবি