Posted in কিভাবে কিভাবে যেন লিখে ফেললাম, খেয়াল করুন, জেনে রাখুন, দেশ ও জাতির প্রতি দ্বায়বদ্ধতা, পরিচয় পর্ব, প্রযুক্তি নিয়ে আউলা চিন্তা, ভালো লাগা, ভালোবাসা

“মুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার অভিজ্ঞতা বর্ণনা” : একটি দিকনির্দেশনা।

৬ই সেপ্টেম্বর ২০১৫ইং, সন্ধ্যে ৬টা ০৪মিনিট।
জিমেইলের ইনবক্সে এফওএসএস বাংলাদেশের তথ্য ও গবেষণা সচিব সগীর হোসাইন খানের বিশেষ বার্তা পেলাম। 🙂

প্রিয় সবাই।
সালাম ও শুভেচ্ছা!

এই বছর আমাদের মাঝে অভাবনীয় ভাবে ১৫ জন স্বেচ্ছাসেবী যুক্ত হয়েছেন। শেষ যে ৮জন যুক্ত হয়েছেন তারা নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি এফওএসএস বাংলাদেশ পরিবারকে আরো সমৃদ্ধ করেছেন বলেই আমার বিশ্বাস।
এফওএসএস বাংলাদেশ যে নিয়মিত আয়োজনগুলো করে থাকে সেখানে প্রতিটি স্বেচ্ছাসেবীকে সুযোগ দেওয়া হয় বক্তব্য প্রদান করার জন্য। এটি শুরু হয় ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করার মাধ্যমে। এটি একটি সহজ কাজ। এতে করে বক্তার মাঝে বক্তব্য প্রদানের জড়তা কেটে যায় এবং ভবিষ্যতে আরো ভালো কিছু নিয়ে বলার আগ্রহ এবং যোগ্যতা তৈরী হয়।
এই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করার প্রক্রিয়াটিকে আরো সহজ করতে বেশ কয়েক মাস আগে আমি এবং লোমানী আপু একটা দিকনির্দেশনা তৈরী করেছিলাম। নতুন যারা আমাদের সাথে যুক্ত হয়েছেন তাদের কাথা চিন্তা করে দিকনির্দেশনাটি আবারও ইমেইল করে দিলাম যাতে করে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করার ক্ষেত্রে নিজেদের প্রস্তুত রাখতে পারেন।

==================================

“মুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার অভিজ্ঞতা বর্ণনা”র দিকনির্দেশনা:
১। নিজের পরিচয় — নাম, পড়াশোনা, কাজ
২। প্রথমে কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করতাম?
৩। ওটাতে সুবিধা এবং অসুবিধা কি হতো?
৪। কিভাবে মুক্ত প্রযুক্তি/জিএনইউ লিনাক্স ডিস্ট্রো সম্পর্কে জানলাম?
৫। কার সাহায্যে এবং কবে থেকে মুক্ত প্রযুক্তি/জিএনইউ লিনাক্স ডিস্ট্রো ব্যবহার শুরু করলাম?
৬। ব্যবহার করতে গিয়ে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম এবং কিভাবে সেগুলোর সমাধান করলাম?
৭। অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার পর ব্যবহার করতে কেমন লাগছে?
৮। আমার মতে সবাই মুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার কেন করবে?
৯। মুক্ত প্রযুক্তি/জিএনইউ লিনাক্স ডিস্ট্রো ব্যবহার শুরু করতে গেলে কারা সাহায্য করবে / করতে পারে?

এটা কোন সীমা না যে এর বাইরে কিছু বলা যাবে না। এটি মূলত শুরু করার জন্য এবং কথার প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য সহায়িকা। কারও যদি মনে হয় এর সাথে আরও কিছু যুক্ত করলে বক্তব্য সুন্দর ও সাবলীল হবে তাহলে সানন্দে সেটি/সেগুলো যুক্ত করতে পারবে। তবে সময়ের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সাধারণত এই ধরনের বক্তব্য ৫ মিনিটের চাইতে বেশী শুনতে ভাল লাগে না।

সবার বিশেষ করে নতুন যারা যুক্ত হয়েছেন তাদের কাছ থেকে মতামত আশা করছি!

৭ই সেপ্টেম্বর ২০১৫ইং, রাত ১২টা ০৬মিনিট।
সগীর ভাইয়ের মেইলের প্রশ্নগুলোর জবাব লেখার কাজ মোটামুটি এগিয়েছে। উত্তরগুলোয় কিঞ্চিৎ বাক্যবিন্যাস করেই এফওএসএস বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবকতালিকায় পাঠিয়ে দিলাম যেনো ষাটের কিছু বেশী স্বেচ্ছাসেবী সেগুলো পড়তে-জানতে-বুঝতে পারেন। নিজের ব্লগেও কাজটা তুলে রাখাটা জরুরী মনে হলো। হয়তোবা আগামীতে আরো অনেকের কাজে আসবে বিষয়টা।

“মুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার অভিজ্ঞতা বর্ণনা”র দিকনির্দেশনা:
১। নিজের পরিচয় — নাম, পড়াশোনা, কাজ

আমার নাম সাজেদুর রহিম জোয়ারদার রিং।

পড়াশোনা ইংরেজী সাহিত্যে সম্মান সহ স্নাতক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

কাজ যে কি কি করি তা বলা মুশকিল। তবে বেশ মনে আছে যে প্রতিদিন সকাল বেলা দাঁত ব্রাশ করি। তারপর নাস্তা খাই, কম্পিউটিং করি, আড্ডা পিটাই। দুপুরে আবারো খাই, তারপর আবারো আড্ডা পিটাই, ঘোরাফেরা করি কিঞ্চিৎ। অতঃপর সন্ধ্যায় আবারো হালকা নাস্তা করি। তারপর আবারো আড্ডা পিটাই, কম্পিউটিং করি এবং রাত্রে আবারো খাই, দাঁত ব্রাশ করি আর কম্পিউটিং করি। সবশেষে বিশ্রামে যাই এবং পরের দিন সকাল বেলা আবারো ……।

এসব নিয়মতি কাজের ফাঁকে ফাঁকে সুযোগ পেলে জালাল আহমেদ গ্রুপের আইটি বিভাগে মাঝে মধ্যে বেড়াতে যাই। ওখানে কিঞ্চিৎ খোশগল্প করার মেজাজ থাকলে করি, নাইলে ঝাড়ি যা মারার তা মেরে আসি। বাংলাদেশের অন্যতম একটা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর শিক্ষার্থীদের সাথে আমাকে কিছু সময়ের জন্য একত্রিত হবার সুযোগ করে দিয়েছে। আমি সুযোগ পেলেই ওখানেও জম্পেশ করে আড্ডা পিটাতে চলে যাই। অবাক করা বিষয় হচ্ছে এসব আড্ডা পিটানোয় আমার ব্যাংকিং হিসেবে পয়সাও জমা পড়ে। 🙂

নিজের আড্ডা পিটানোর বিষয়টার চুড়ান্ত বন্দোবস্ত করেছি কিছুদিন আগেই। “নাটবল্টু” নামে অষ্টকপূর্ণ একটা কারবার চালু করেছি। কাজের কাজ ছেলেরা সবেমিলে করে আমি যেইকার সেই — আড্ডা পিটাই। 😀

তবে হ্যাঁ, কাজের কাজ যদি কিছু করেই থাকি তো সেটা এফওএসএস বাংলাদেশ। দেশ আর দেশের জনগনের জন্য প্রযুক্তির সুফল নিশ্চিত করতে, প্রযুক্তিকে নিরাপদ করতে আমার আড্ডা পিটানোর জ্ঞানগুলো এ জায়গায় এসে বাস্তবতার মুখ দেখে।

২। প্রথমে কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করতাম?

প্রযুক্তি জীবনের পথ চলার শুরুতে খিড়কী’৯৫ দেখেছিলাম আমার ফুপাতো ভাইয়ের কম্পিউটারে। সে ১৯৯৬ইং সালের কথা। ২০০০ইং সালে আমার হাতে আসে আমার প্রথম বিবিজান, ইনি পেন্টিয়াম ৩ ৬০০মে.হা প্রসেসর, ৬৪মে.বা মেমরি আর ৩০জিবি কোয়ান্টাম ফায়ারবল হাড্ডিযুক্ত ছিলেন। ঘরে আনবার কালে উকিল আব্বা বা আমার পিসির সিস্টেম ইঞ্জিনসাবে ওনার মগজ ধোলাই করে দিয়েছিলেন খিড়কী ৯৮ দিয়ে।

৩। ওটাতে সুবিধা এবং অসুবিধা কি হতো?

ওরে মামু! আর কইয়েন না। বাসার আইন্যা পরথমবার বিবিজানের খোমা দেখনের আগেই ধরা পড়লো আমার বিবিজান বয়রা/বোবা-কালা। আমার নিজের আব্বাজান তো হুংকার দিয়া বসলেন যে আমি না বুইঝ্যা নকল মাল কিনছি আর ঠগছি। তখনো যদি জানতাম যে বিষয়টার প্যাঁচ অন্যখানে। যাই হোক আমার স্কুল জীবনের এক বড় ভাইরে ধরলে উনি কইলেন যে সাউন্ড ড্রাইভার ফেইল মারছে নতুন করে নাকি খিড়কীরে ইন্সটলাইতে হবে।

ঘন্টা দেড়েকের কারবার শেষে বড় ভাইয়ের পরামর্শের বাস্তবায়নে, আমার প্রথম বিবিজান সাকসেসফুল অপারেশন শেষে সুস্থতায় ফিরে আসারা রোগীর মতো উচ্ছ্বসিত কলরব করে উঠলেন। মাগার মিজাজ বিগড়াইলে এই দেখে যে ঘন্টা খানেক পরেই আমার বিবিজান আবারো বোবাকালা। কি মুসিবত নতুন কম্পু আমার মান-ইজ্জ্বত বইল্যা আর কিছু রাখলো না এলাকার ছোট ভাই-বেরাদরদের সামনে।

৪। কিভাবে মুক্ত প্রযুক্তি/জিএনইউ লিনাক্স ডিস্ট্রো সম্পর্কে জানলাম?

১৯৯৮সালে বিসিআইসি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে থাকাকালীন আমার এক সহপাঠী, ডাকনাম – মামা মতান্তরে কানন মামা মতান্তরে ইয়েচচার প্রথমবারের মতো একটা চকচকে বই দিয়ে গোল বাধালো। হাতে পেলাম কম্পিউটার জগৎ পত্রিকা। ওটা থেকে কম্পিউটিং, বাংলাদেশের কম্পিউটিং, হার্ডওয়্যার বাজার ইত্যাদি নিয়ে বেশ জ্ঞান আহরন করা গেলো। তারপর সেই জ্ঞানের ভারে উল্টে পড়ে যাই যাই এমন অবস্থায় ১৯৯৯ইং সালের জানুয়ারীতে একদিন মিরপুর-১ নম্বরে (বর্তমান জিপি সেন্টারের ঠিক সামনে) পত্রিকার একটা দোকানে নজর কাড়লো পিসি কোয়েস্ট নামের একটা পত্রিকা। ইংরেজি ভাষার পত্রিকাটির প্রথম পাতা জুড়ে থাকা মোহনীয় ভঙ্গিমার এক অবলা নারী আমার প্রজন্মের ঐ সময়কার পোলাপাইনের জন্য বিরাট বিষয়।

মাগার আমি আটকা খাইলাম “পিসির জন্য সঠিক মাদারবোর্ড কিভাবে বাছাই করা উচিত” শিরোনামটা দেখে। দোকানীর কাছ থেকে চেয়ে নিয়ে পড়া শুরু করে দিলাম। তখনকার দিনের ব্যবসায়ীরা আজকালকার মতো অত্ত কাটখোট্টা মার্কা ছিলো না। কিছুক্ষণ পড়তে দিলেন ভদ্রলোক। ঐ সময়ে দশটাকার কম্পিউটার জগৎ কিনতেই আব্বার কাছ থেকে পয়সা বার করতে কুপাকুপি লেগে যেতো আর তো চল্লিশ টাকার ঐ ইংরেজি পত্রিকা। তার উপরে আবার ঐ সংস্করনের সাথে থাকা একটা সফটওয়্যার সিডি এবং ঐ সংখ্যার মূল্য মোটের উপরে আশি টাকা। দোকানীকে অনেক অনুরোধ করে বাসায় ফিরলাম, মনে আশা পয়সার একটা বন্দোবস্ত হবেই হবে।

মা’কে বলতেই অবশ্য কাজের কাজ হয়ে গেলো। এসএসসি’র ফলাফলের জন্য বৃত্তির কিছু টাকা পেতাম। সেখান থেকে মা একশো টাকার একটা নোট দ্রুতই আমার হাতে দিয়ে বললেন পত্রিকাটা কিনে আনতে। টাকাটা শার্টের বুক পকেটে পুরে দে গোল্লাছুটের দৌড়। মিরপুরে চিড়িয়াখানার ঢালের থেকে মিরপুর ১ নম্বরের ঐ দোকান, পাক্কা সাড়ে সাত মিনিটে গেলাম। দোকানী তো পুরাই টাস্কি পোলায় কি পাইছে পত্রিকায় যে একশো টাকার বাতিক উঠে গেলো। পত্রিকা খুলে, পাতাগুলো উল্টেপাল্টে দেখে তারপর আমার হাতে দিলেন।

যাই হোক বাসায় ফিরে এসে সিডিটা চালানোর কোন ব্যবস্থা করতে পারলাম না। কারন আশেপাশের বাসায় ভিসিপি থাকলেও কোন সিডি প্লেয়ার ছিলো তখনো। আমার বাসায় তো সর্বোচ্চ আব্বার টুব্যান্ড রেডিও আর একটা ডবল ডেক ক্যাসেট প্লেয়ার। ১৯৮৫সালে কেনা ফিলিপস ১৪ইঞ্চি’র সাদাকালো টেলিভিশনটা অবশ্য সেই সময়ে বাসায় ছিলো তবে তাতে কথা আসলেও ছবি আসতো না। ১৯৯৯ইং তে অবশ্য বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে সনির ট্রিনিট্রন প্রযুক্তি যুক্ত ২১ইঞ্চি পর্দার কালার নতুন টেলিভিশন আসে বাসায়।

তবে আর কিছু করি আর না করি পত্রিকটার প্রতিটা অক্ষর অবদি মনে গেঁথে ফেলেছিলাম। আর সিডিটার সম্পর্কে জেনেছিলাম যে ওঁর ভেতরে মিলবে পিসিকোয়েষ্ট লিনাক্স নামে একটা নতুন ধরনের অপারেটিং সিস্টেম। কম্পিউটার একটা হাতে পেলে ওটার উপরে পরীক্ষা চলবে নিয়্যত করা থাকলো।

৫। কার সাহায্যে এবং কবে থেকে মুক্ত প্রযুক্তি/জিএনইউ লিনাক্স ডিস্ট্রো ব্যবহার শুরু করলাম?

ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ঠিক উল্টো পাশেই ছিলো আমার কম্পুর দোকানটা, এক্সেল টেকনোলজিস। নতুন কম্পুর হটাৎ হটাৎ বোবাকালা হয়ে যাবার বিষয়টায় মন কষে গিয়েছিলো। শুধুমাত্র সিস্টেমটাকেই হাতে করে মেট্রো লিংকের বাসে চেপে মিরপুর-১ থেকে চলে আসলাম সাইন্সল্যাবের মোড়ে। অতঃপর পদব্রজে যথাস্থানে। হার্ডওয়্যার ইঞ্জিন বা আমার সেই উকিল আব্বা তো দেখেই থ! গতকালকেই নতুন পিসি কিনে আজকেই সার্ভিস সেন্টারে নিয়ে আসছে মানে সিরিয়াস হার্ডওয়্যার ইস্যু। আমাকে বিভিন্নভাবে প্রশ্ন করে জানতে চাইলো আমার বাসায় বিদ্যুৎতের সরবরাহ কিরকম? স্ট্যাবিলাইজার আছে কি না? ইউপিএস ব্যবহার করি কি না ইত্যাদি। তারপরেও যখন আমি তাঁর কোন ফাঁদে আটকা পড়লাম না তখন উনি বসলেন আমার সিস্টেমটা নিয়ে। কিছু কাজ করার পর সিস্টেমটা দাঁড়িয়ে গেলো এবং উনি আমাকে উপদেশ দিলেন যেনো পিসিসিলিন নামের অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করি। কেননা যে ফ্লপি দিয়ে সিস্টেমটাকে বুট করা হচ্ছিলো সেটাতে নাকি ভাইরাস ধরবার সুযোগ ছিলো এবং ওটাই নাকি ক্ষতিগ্রস্ত করে দিচ্ছে আমার নতুন সিস্টেমকে।

পত্রিকালব্ধ জ্ঞানের ভারে টালমাটাল আমি ঐ সময়ে ঐ মূহুর্তেই ঝেড়ে দিলাম নিজের জ্ঞান। সাথে করে নিয়েছিলাম আমার বিবিজানের সাথে যৌতুকের মতো চলে আসা গহনার মতো সব সিডি আর ফ্লপিগুলো এবং প্রায় দুই বছর আগেরকার সেই ম্যাগাজিন সাথে কেনা ডিস্কটা। বলে বসলাম যেনো উনি আমাকে ওখান থেকে ওটা ইন্সটল করে দেন কেননা পত্রিকায় পড়েছিলাম ঐ সিস্টেমে কোন ভাইরাস জনিত সমস্যাই নাকি নেই। কিন্তু উনি আমাকে সেই কাজটা না করে দিয়ে সোজা কাউন্টারে পাঠিয়ে দিলেন এবং কাউন্টার থেকে আমাকে জানানো হলো যে দুই হাজার টাকা অতিরিক্ত দিলে তবেই আমার সেই ডিস্ক থেকে ওএস ইনস্টল করে দেয়া হবে আমার পিসিতে। এমনিতেই আটান্ন হাজার টাকার চুনা লেগেছে তারপরেও যদি আমার বাপ কে বলি এই দুইহাজার টাকার চুনা লাগাতে তাইলে আমি আর আমার প্রথম বিবিজান দুইটাই বাসার বাইরে থেকে যাবার সম্ভাবিলিটি প্রবল!!!!

৬। ব্যবহার করতে গিয়ে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম এবং কিভাবে সেগুলোর সমাধান করলাম?
৭। অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার পর ব্যবহার করতে কেমন লাগছে?
৮। আমার মতে সবাই মুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার কেন করবে?
৯। মুক্ত প্রযুক্তি/জিএনইউ লিনাক্স ডিস্ট্রো ব্যবহার শুরু করতে গেলে কারা সাহায্য করবে/করতে পারে?

আমার ধারনা এটুকু পড়তেই আপনাদের চোখে ক্লান্তি এসে ভর করেছে। আজকে ওটুকুই। বাকীটা না হয় পরে দিবোনি কোন একদিন। 🙂

এটা কোন সীমা না যে এর বাইরে কিছু বলা যাবে না। এটি মূলত শুরু করার জন্য এবং কথার প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য সহায়িকা। কারও যদি মনে হয় এর সাথে আরও কিছু যুক্ত করলে বক্তব্য সুন্দর ও সাবলীল হবে তাহলে সানন্দে সেটি/সেগুলো যুক্ত করতে পারবে। তবে সময়ের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সাধারণত এই ধরনের বক্তব্য ৫ মিনিটের চাইতে বেশী শুনতে ভাল লাগে না।

হয়ে গেলো তো!! আমার বাকী থাকা কথাগুলো আর বলার সুযোগ কই! 😦

সবার বিশেষ করে নতুন যারা যুক্ত হয়েছেন তাদের কাছ থেকে মতামত আশা করছি!

নবীনেরা, একমাত্র নবীনেরাই পারেন এই কথার দম আটকে যাবার বিপদ থেকে আমাকে উদ্ধার করতে। কেউ কি নিজের কান/চোখ বাড়িয়ে দেবেন আমার কথাগুলো শুনতে/পড়তে। 😀

৯ই সেপ্টেম্বর ২০১৫ইং, সন্ধ্যে ৬টা ০৪মিনিট।
প্রিয় সবাই
অনেক অনেক ধন্যবাদ নিজ নিজ ব্যস্ততার ফাঁকে আমার লেখাটা পড়ে নেয়ায়। পড়বার পর নিয়মিত জবাব পেলে আমার মতো বুড়ো মানুষগুলো তো বটেই নবীণেরা প্রচন্ডরকমের উৎসাহ পাবে, কথা বলবে, কথা শুনবে।

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ৬:০৪ pm এ তে, সগীর হোসাইন খান লিখেছে:
৫। কার সাহায্যে এবং কবে থেকে মুক্ত প্রযুক্তি/জিএনইউ লিনাক্স ডিস্ট্রো ব্যবহার শুরু করলাম?

বিগত দিনের পর থেকে ….
দুপুরের পরপর বাসায় ফিরলাম ভগ্নমনঃরথে। কারন এই পিসির যন্ত্রনা বাবার সামনে বলাও যাবে না আবার ধরা না খেয়ে থাকবেও না। সিআইএ/কেজিবি/মোসাদ/আইএসআই/র সব গোয়েন্দা এনে হাজির করবে আমার বাবা যদি জানতে পারে যে নুতন সিস্টেমে ঐ রকমের কোন গড়বড় করছে আর আমি দৌড়ের উপরে আছি তো!

বিকালে বসে গেলাম ঐ সেই সিডি নিয়ে আর মাদারবোর্ডের ম্যানুয়াল নিয়ে। এখনো পুরো খেয়াল আছে যে আমার প্রথম বিবিজানের মেরুদন্ড বা সিস্টেম মাদারবোর্ডটা ছিলো ইন্টেল ৪৪০বিএক্স২ মডেলের। ওটার তথ্যকণিকা ঘেঁটে যতটুকু পেলাম তাতে কিভাবে সিস্টেম বুট করতে হয় তা জানা গেলো। আফসোসের বিষয় পুরোটা লেখাই খিড়কী ৯৮ নিয়ে ছিলো। 😦

ছোট বেলায় ১৯৮৬-৮৭ইং, বাবা/চাচা/মামা/কাকা/মামাতো-খালাতো ভাই যেই কোন কলম বা খেলনা কিনে দিতো আমার প্রথম দ্বায়িত্ব ছিলো যত্নসহকারে সেটার নাটবল্টু সব খুলে দেখা। কোনটা সবশেষে জোড়া দিয়ে কাজের মতো করা যেতো কোনটা নষ্ট হতো। স্প্রিং লাগানো কাঠের একটা বন্দুক সেই সময় পুরো পাঁচ টাকা। ডানো দুধের খালি টিন বাসার থেকেই ফেরীওয়ালারা তিনটাকায় কিনে নিয়ে যেতেন। আম্মা সেই টিন বেচা টাকায় আমাকে ম্যাকগাইভার আর সাদ্দাম হোসেনের ছবিওয়ালা খাতা, নীল কালির রাইটার আর ক্যাম্পাস বলপেন কিনে দিতেন। ওগুলোর যেটা যেভাবে খোলা যেতো খুলে ফেলতাম। একবার খেয়াল আছে যে রাইটার বলপেনের বল কিভাবে লাগায় তা বুঝে উঠতে গিয়ে দাঁত দিয়ে কামড়ায়ে নিবের সামনে থেকে বল ছুটায়ে ফেললাম। নতুন কলম মাগার বল ছুটানোর পরে তো আর লেখা সহজে হয় না কিংবা হলেও কালি থেবড়ে যায়, মোটা লেখা হয়। বিরাট মুসিবত সামলাতে কালি কমিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত এবং কলমের পেছনের দিকে মুখ লাগিয়ে জোরে নিঃশ্বাসের টান। আর যায় কোথা সব নীল কালিতে মুখ-জিহবা-জামা মাখামাখি করে ফেললাম। পরে এটার জন্যে অবশ্য ধোলাই খাইনি তবে আম্মার হাতের উপরে বেশ কসরৎ গিয়েছে গোটা কয়েক দিন। ৮৮’র বন্যায় ঢাকায়, ইব্রাহিমপুরে দাদার ঢাকার বাড়ির বারান্দা আর সিঁড়ি ঘরের তলায় মশারির জাল পেতে তেলেটাকির ছানাপোনা ধরা, ছাদের কার্নিশ বেয়ে পেয়ারা আর জামরুল গাছের ডালে ডালে লাফিয়ে বেড়ানো আর বিকালে ছাদে বসে বসে পাশের বাড়ির টেকো মল্লিক চাচার মাথায় আখের ছোবড়া দিয়ে নিশানা করা ছিলো অন্যতম কাজ। বেশ ভালো স্মরণ আছে যে ১৯৮৭ইং সালে নারিকেল ছিলবার সময় দা’য়ের কোপে ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুলের নখের অর্ধেকটা সহ আগার অংশ কেটে ঝুলে গেলে সেটা আমি আবার জোড়া দেবার কাজে ব্যস্ত ছিলাম, কান্না করিনি একটুও। আম্মা গোসলখানা গিয়েছিলেন আমাকে নারিকেল কাটায় ব্যস্ত রেখে, ফিরে এসে আমার কান্ড আর রক্তে ভেসে যাওয়া মেঝে দেখে উনিই চাচা-ফুফুদের ডেকে চিল্লিয়ে পুরো বাড়ি মাথায় তুলেছিলেন। পরিশেষে আব্বার চেম্বারের আলমারীর থেকে ওষুধ আর তুলা এনে আঙ্গুলটা ব্যান্ডেজ করে তবে শান্ত হয়েছিলেন আমার মা। আর্নিকা মাদার লাগানোর সময় কাটা অংশে জ্বালা ধরায় প্রচন্ড চেঁচিয়েছিলাম।

ঐ রকমের ত্যাঁদোড় এক বান্দার হাতে পড়ে আমার প্রথম বিবিজানের প্রথম হার্ট অ্যাটাকের দশার শুরু হলো। সিডিরমটার ভেতরে পিসিকোয়েস্ট লিনাক্সের সেই সিডি ঢুকিয়ে দিয়ে সিস্টেম বুট করতে দিলাম। বায়োসের সেটিংসে পরিবর্তন আনবার কথা বলা ছিলো কিন্তু বায়োসে ঢুকে দেখি ওটুকু আগের থেকেই করা। অতএব বায়োসের আরো বিভিন্ন অংশে চুলকে/চিপকে দিয়ে তারপর সিস্টেমের ঐ অংশ থেকে বেরিয়ে আসা, জাস্ট অভিজ্ঞতা সঞ্চয়। 🙂

কিছুক্ষণের মধ্যেই চালু হতে শুরু করলো নতুন ওএসটা। মনে তো আর আনন্দ ধরে না যে সবার চাইতে ভিন্ন কিছু করতে যাচ্ছি আমি। যে ওএস আমি চালাবো আমার আশে পাশের দশটা বাড়ির কম্পিউটার জানা ভাই-বেরাদরের কম্পুতে তা নাই। তবে ভড়কায়ে দিলো মনিটরের উপরের দিকে একটা পেঙ্গুইনের মার্কা আর তার নিচের দিকে বয়ে চলা হাজারো হিজিবিজি হিজিবিজি লেখার স্রোত। আমি ধরেই নিলাম ঐ সেই সিস্টেম ইঞ্জিন যা বলেছে তাই, আমার পুরো পিসিতে ভাইরাস ধরে নিয়েছে আর এখন পুরোপুরি নষ্ট হবার পথে।

আমাকের আশ্চর্য করে দিয়ে একটা কাটা (x) চিহ্ন ওয়ালা উইন্ডো আসলো মনিটরে আর নিচের দিকে লেখা উঠলো – “টেস্ট ইওর গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেস”।

৬। ব্যবহার করতে গিয়ে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম এবং কিভাবে সেগুলোর সমাধান করলাম?

পিসির স্ক্রিনে নতুন রংয়ের একটা উইন্ডো আর সাথে সুন্দর ঝকঝকে লেখায় বার্তাটুকু দেখে মনের ভেতরে আনন্দের ঠেলায় চিংড়ি/কাঁকড়ার নাচনকোদন(জগিং) চলছিলো। যা আছে কপালে, “বিসমিল্লাহ” বলে শুরু করে দিলাম একটার পর একটা বোতামে চাপ দেয়া।

রোমান হরফের বর্ননাগুলোর কিছুটা পড়ি বাকিটুকু অনুমানে বুঝে নিয়েই পরবর্তী ধাপে ছুটে চলি। একটা সময় সিস্টেমের জন্য ইউজার আইডি আর পাসওয়ার্ড চাইলো, দিয়ে দিলাম। পরে বললো – সিস্টেম ইন্সটল করার জন্য প্রায় তৈরী আমি আর এগোবো কি না? নতুন সিস্টেম চেখে দেখার আনন্দে আর দেরী করি কেন? দে “আগে বাড়ো” বোতামে চাপ। বিটিভিতে দেখা “দি সোর্ড অব টিপু সুলতান” এর হায়দার আলী’র ভূত যে তখন আমার মাথায় চড়ে গিয়েছে। যা হবার হবে, পরে দেখবো, এখন “আগে বাড়ো”।

কিছুক্ষণের মধ্যেই নতুন সিস্টেম ইন্সটলের কাজ শেষ। রিস্টার্ট দিয়ে এসে আবারো সেই হিজিবিজি লেখার একসারি পাহাড়ী স্রোত। তারপর আসলো একটা লালটুপি ওয়ালা পেঙ্গুইনের ছবি আর সেটার পেটের ডান পাশে আমার নামটা যেটা ইন্সটল করার সময়ে দিয়েছিলাম সেইটা ঝকঝক করছে। নামের নীচে পাসওয়ার্ডের জন্য ঘরটা প্রি-হাইলাইটেড ছিলো। নিজের পাসটা চেপে লগইন বোতামটায় চাপ দিতেই স্পীকারে দূর্দান্ত এক আওয়াজ ভেসে আসলো। মনে আর আনন্দ ধরে না। সাউন্ডের ড্রাইভার কিংবা ওএস নতুন করে না দিয়েই কাজ হয়েছে। বার কয়েক রিস্টার্ট দিয়ে আওয়াজ মানে সাউন্ড সিস্টেমটার পরীক্ষা করে ফেললাম।

নিজেরে ম্যাকগাইভারের সাগরেদ বোধ হচ্ছিলো তখন। অতএব আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা…. তুমুল গতিতে চলতে থাকলো। সবচাইতে প্রথম সমস্যাটা ছিলো হার্ডডিস্কের সাইজ কমে ২০জিবি হয়ে যাওয়া। মনে দুরুদুরু ভয় করছিলো কি করতে কি করে ফেলেছি ভেবে? তারপর দেখলাম যে কিছু কিছু ছাড়া বাদবাকী মাল্টিমিডিয়া ফাইলপত্র ঠিকঠাক চলে না। আর বাদবাকী সব ঠিকঠাকই ছিলো। টেক্সট এডিটর, ক্যালকুলেটর, অফিস প্যাকেজ সব একসাথে পেয়ে তো সেইরাম আনন্দ পাচ্ছিলাম! কোন কিছুই আর নিজের থেকে খুঁজতে হবে না, সব দেয়াই আছে।

মিডিয়া ফাইলগুলো কিভাবে চালাবো সেই ধাঁধার জবাব খুঁজতেই প্রথমবার এক ভাগ্নীকে সাথী করে মোহাম্মদপুরে ইকবাল রোডে একটা সাইবার ক্যাফেতে ঢুকলাম। প্রতি ঘন্টা চল্লিশ টাকা হিসেবে একটা কম্পিউটার ব্যবহার করতে হবে জেনে প্রচন্ড দমে গিয়েছিলাম সেদিন। তবে প্রথমবারের মতো ইয়াহু নামের এক আজব জিনিষ দেখেছিলাম। কিছু একটা লিখে দিলেই সুত্র ধরে আরো হাজারো তথ্য এনে দিচ্ছিলো ইয়াহু মামা।

৭। অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার পর ব্যবহার করতে কেমন লাগছে?
৮। আমার মতে সবাই মুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার কেন করবে?
৯। মুক্ত প্রযুক্তি/জিএনইউ লিনাক্স ডিস্ট্রো ব্যবহার শুরু করতে গেলে কারা সাহায্য করবে / করতে পারে?

এই প্রশ্নগুলোর জবাবে আরো লিখবার জন্য আপনাদের থেকে আরো বেশী বেশী অনুপ্রেরণা চাই আমার!!! 🙂

চলবে ….

Advertisements
Posted in খেয়াল করুন, জেনে রাখুন, দেশ ও জাতির প্রতি দ্বায়বদ্ধতা, প্রযুক্তি নিয়ে আউলা চিন্তা, ভালো লাগা, ভালোবাসা

উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের একটি পাঠ্যবই এবং আমার পাঠক প্রতিক্রিয়া

“হায়! আমার মাথার চতুর্দিকে যদি চোখ বসানো থাকত, তাহলে আচক্রবালবিস্তৃত এই সুন্দরী ধরনীর সম্পূর্ণ সৌন্দর্য একসঙ্গেই দেখতে পেতুম” — আনাতোল ফ্রাঁস, ফরাসী ঔপন্যাসিক।

“সংসারে জ্বালা-যন্ত্রনা এড়াবার প্রধান উপায় হচ্ছে, মনের ভিতর আপন ভুবন সৃষ্টি করে নেয়া এবং বিপদকালে তার ভিতরে ডুব দেয়া। যে যত বেশী ভুবন সৃষ্টি করতে পারে, যন্ত্রনা এড়াবার ক্ষমতা তাঁর ততই বেশী হয়” — বারট্রান্ড রাসেল, ইংরেজ ঔপন্যাসিক।

“মনের চোখ বাড়ানো বা কমানো তো আমার হাতে। নানা জ্ঞানবিজ্ঞান যতই আমি আয়ত্ত করতে থাকি, ততই এক-একটা করে আমার মনের চোখ ফুটতে থাকে। পৃথিবীর আর সব সভ্যজাত যতই চোখের সংখ্যা বাড়াতে ব্যস্ত, আমরা ততই আরব্য উপন্যাসের একচোখা দৈত্যের মতো ঘোঁৎ ঘোঁৎ করি আর চোখ বাড়াবার কথা তুললেই চোখ রাঙ্গাই।” — সৈয়দ মুজতবা আলী, বাঙ্গালি সাহিত্যিক।

সৈয়দ মুজতবা আলী’র রম্যসাহিত্য ‘বই কেনা’ থেকে এই উদ্ধৃতিগুলো দিয়েই আমার আজকের এই লেখার শুরু করছি। আমি নিজে মূলত প্রযুক্তি বিষয়ক সচেনতনার কার্যক্রমে জড়িত থাকি, মুক্তপ্রযুক্তিকে ভালোবাসি, প্রযুক্তিতেই বাঁচি, প্রযুক্তি ব্যবহার করি, প্রযুক্তিতে জগতের মাঝে আটক পড়ে গিয়েছে আমার জীবনের সবটুকু। মুক্তপ্রযুক্তি’র জগতে আমার জ্ঞান-ধারনা-বক্তব্য গুলোকে লিখিত মাধ্যমে ধরে রাখতেই একটা সময়ে ব্লগ লিখতে শুরু করেছিলাম। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে নিজের মাঝে থাকা কিঞ্চিৎ সাহিত্যপ্রেম আর সাহিত্য বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ফসলে ব্লগে কিছু কিছু লেখা লিখেছি যা আমার ব্যক্তিগত আবেগের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। তবে এসব কিছুই কিন্তু করা সেই উদ্ধৃতিগুলোর ধারনা থেকে, মানে মনের চোখের সংখ্যা বাড়াতে। অধিকাংশই নিজের জন্য আবার কখনোবা আমার চারপাশের আমজনতার জন্যেও।

সৈয়দ মুজতবা আলী বলেছিলেন —

“মনের চোখ বাড়াবার পন্থাটা কি? প্রথমত – বই পড়া এবং তার জন্য দরকার বই কেনার প্রবৃত্তি।”

মনের চোখ ফোটানোর এই প্রয়োজনটা প্রতিনিয়তই উপলব্ধি করি। আর তাই নিয়মিত বই কিনি, বই ডাউনলোড করি। আর শুধু পড়ি বললে ভুল হবে, গোগ্রাসে বই গিলে থাকি। মাঝে মাঝে কাগজের ঠোঙ্গা, পুরনো খবরের কাগজ, বাচ্চাদের আঁকিবুকি করা কাগজও আমার কাছে প্রচন্ড আগ্রহের পাঠ্য হয়ে ওঠে।

বিগত ২৬শে মে ২০১৪ইং তারিখে জি+ বা গুগল প্লাসে প্রকৌশলী আদনান কাইয়ুম তানিমের পোষ্ট থেকে জানতে পারলাম যে বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেনীর শিক্ষাপোযোগী হিসেবে “তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি” বিষয়ক পাঠ্যবইটি প্রকাশিত হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা আইসিটি আমার প্রচন্ড আগ্রহের একটি বিষয়। আর তাই মনস্থির করে ফেললাম প্রকৌশলী আদনান কাইয়ুম তানিম কর্তৃক রচিত এই বইটি পড়বো বলে। যথা ভাবনা তথা কাজ। মুঠোফোন প্রযুক্তির সদ্ব্যবহারে বাংলাবাজারে নিজের প্রকাশণা জগতের ভালোবাসা আর আত্মীয়তার সুত্রটাকে খুঁচিয়ে দিলাম, উদ্দেশ্য বইটাকে নিজ হাতে পাওয়া। হাতে পাওয়া মাত্রই বইটা পড়তে শুরু করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বইয়ের বহিঃসজ্জা বা প্রচ্ছদ পরিকল্পনাটা এতটাই সুন্দর হয়েছে যে নজর বেশ কিছুক্ষণ এই বহিঃসজ্জাতেই আটকে ছিলো।

ছোটবেলায় প্রচন্ড বদভ্যাস ছিলো। নতুন বই হাতে পেলেই সেটা পড়ে শেষ না করা অবদি নাওয়া-খাওয়া তো দূর, প্রকৃতির ডাকেও সাড়া দেয়া হতো না। মা জননী আমার পিছনে লেগে লেগে একসময় নিজেই ক্লান্ত হয়ে পড়তেন তবু পড়তে থাকা বইটার শেষ অক্ষরটা না পড়ে আমার কোন নড়নচড়ন হতো না। বইটাকে হাতে পেতেই যেনো আমার সময়কাল হুট করে প্রায় দেড়যুগ পেছনে চলে গেলো। কলেজ জীবনের রঙ্গীন দিনগুলো মনের ভেতরে রঙের ঘূর্নিঝড় তুলে দিলো। স্মৃতিকাতরতাকে পাশ কাটিয়ে একটার পর একটা পাতা উল্টেছি আর বইটির প্রতি চরম আকর্ষন বোধ করেছি। এই মোহবোধটুকু বজায় ছিলো বইয়ের শেষ পাতার শেষ দাড়িটুকু অবদি। প্রচন্ডরকম সুন্দর তথ্য উপস্থাপন, বর্ননার ধারাবাহিকতাটুকু ধরে রাখা আর বর্ননার ফাঁকে ফাঁকে ছবির ব্যবহার বইটাকে অত্যন্ত সহজবোধ্য করেছে। আমার কলেজ জীবনে এমন একটি বইয়ের অভাব এই সময়ে এসে হুট করেই আমাকে প্রচন্ডরকমের কষ্টে ফেলেছে। একই সাথে নতুন দিনের তথ্যপ্রযুক্তি সেনানীদের জীবনগঠনের সময়েই প্রযুক্তিজগতের বর্তমান সময়ের পেক্ষাপটে সঠিক ও সময়োপযোগী তথ্যসমৃদ্ধ, প্রাঞ্জল আর সহজবোধ্য এমন একটি বইয়ের প্রাপ্তিযোগে প্রচন্ডরকমের আনন্দও পাচ্ছি।

বইটির একেবারে শুরুতেই ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম অনুযায়ী একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেনীর সকল শাখার জন্য আবশ্যিক বিষয় হিসেবে “তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি” বিষয়ের সিলেবাসটি দেয়া হয়েছে। মোট ১৪০টি ক্লাস পিরিয়ড বা ৪০মিনিট থেকে ৪৫মিনিট ব্যপী একেকটি ক্লাসের মোট ১৪০টিতে এই বইটির তথ্য সম্পূর্ণরূপে শিক্ষার্থীরা আয়ত্ত করতে পারবেন এই বিশ্বাসটুকু বইটির শুরুতে যেভাবে বিবৃত হয়েছে তার ফলে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ পাঠ পরিকল্পনা চমৎকারভাবে করতে পারবেন বলেই বিশ্বাস করি। একই সাথে শিক্ষকদের জন্য তথ্যটা সময়োপযোগী এবং ব্যবহারবান্ধব হয়েছে বলে মনে করছি।

প্রথম অধ্যায়ে আলোচিত বিষয়গুলো তথ্যপ্রযুক্তির প্রাথমিক বিষয় বিধায় শিক্ষার্থীদের জন্য আবশ্যিক ও জরুরী। লেখক নিজের অনলাইন ফোরাম ও ব্লগে ব্যবহারকারীদের সফটওয়্যার ব্যবহার সহযোগীতা দেবার অভিজ্ঞতায় অত্যন্ত সাবলীল ভাষার ব্যবহারে বিষয়গুলোকে অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাবে উপস্থাপন করেছেন। আশা করি পাঠক-শিক্ষার্থীরা তথ্যগুলো জানবার সাথে সাথে বেশ আগ্রহ ও মজা পাবেন আর নিজেদের মগজের স্মৃতিকোষে তথ্যগুলো ধারনে সফল হবেন। এই অধ্যায়ের সবটুকু চমৎকার হলেও শেষাংশে এসে লেখক কিঞ্চিৎ গুবলেট করেছেন বলেই মনে হয়েছে আমার কাছে। হ্যাকিং আর ক্র্যাকিং বিষয় দুটো পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন না করে লেখক নৈতিকভাবে শিক্ষার্থীদেরকে বিভ্রান্তির মধ্যে রাখবার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। একই সাথে ২০১১ইং সাল থেকে উন্মুক্তপ্রযুক্তি অপারেটিং সিস্টেম হিসেব ডেস্কটপে সর্বাধিক জনপ্রিয় ও ব্যবহারবান্ধব “লিনাক্স মিন্ট”, সার্ভার জগতে ডেবিয়ান এবং সর্বোপরি জিএনইউ-লিনাক্স এর উল্লেখ না থাকাটাও অনেকাংশেই উইন্ডোজের উপরে নির্ভরশীল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদেরকে মুক্তপ্রযুক্তির জগতে আসতে বা তাল মিলিয়ে চলতে কিছুটা হলেও বাধা দেবে বলে আশংকা করছি। এই তথ্যবিভ্রাটগুলো একজন উন্মুক্ত প্রযুক্তি আন্দোলনকারী, মুক্ত পেশাজীবি তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শক হিসেবে আমাকে প্রচন্ড আহত করেছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিষয়বস্তুগুলোও অত্যন্ত সাবলীল ভাষায়, চমৎকারভাবে বর্ননার ফলে শিক্ষার্থীদের মগজের নিউরনে অনুরণন তুলবে বলেই আশা রাখি। তবে তারবিহীন যোগাযোগ প্রযুক্তির অংশ হিসেবে বহুল প্রচলিত ওয়াইফাই প্রযুক্তি’র তথ্যে সাম্প্রতিককালীন ও ব্যবহারিক তথ্যগুলো যুক্ত না থাকায় এই অধ্যায়ের এই অংশটাও তথ্যবিভ্রাটের সৃষ্টি করেছে। একই সাথে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্ক ডিভাইস অংশে প্রাচীন বা বিলীণ হয়ে যাওয়া কিছু যন্ত্রাংশের তথ্য অপ্রয়োজনীয় বা বাহুল্য হিসেবে বোধ হয়েছে আমার কাছে।

তৃতীয় অধ্যায়টা আমার কাছে এই বইয়ের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সবচাইতে কঠিনবোধ্য অধ্যায় বলেই মনে হয়েছে। তবে লেখক নিজের স্বভাবজাত সাবলীল বর্ননায় এই অধ্যায়ের প্রতিটা বিষয়কে এত সুন্দর আর সহজবোধ্য করে তুলেছেন যে লেখার শুরুতে এইরকমের একটা বইয়ের যে অভাববোধের আফসোস আমার মাঝে হয়েছে বলে জানিয়েছিলাম আপনাদেরকে সেটা এইখানেতেই জন্ম নিয়েছে। শুধুমাত্র উচ্চমাধ্যমিক স্তরেই নয় বইটি স্নাতকস্তরের প্রথম সেমিষ্টারের অনেক শিক্ষার্থীদের জন্যেও বিশেষ উপযোগী হবে বলে আমার ধারনা। আমি ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন স্নাতকস্তরের শিক্ষার্থীকে বইয়ের এই অধ্যায়ের বুলিয়ান অ্যালজেব্রা আর গেইট অংশটুকু পড়তে দিয়ে তারপর মন্তব্য করতে বললে তাঁরা নিজেদের শিক্ষকদের ক্লাসে বসে বোঝা জ্ঞানের চাইতে এই বইয়ের বর্ননার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানটাকে বেশ সহজ শিক্ষনীয় ও সহজবোধ্য বলে মতপ্রকাশ করেন।

চতুর্থ অধ্যায়টুকু বর্তমান সময়ে এসে আউটসোর্সিং নেশায় পেয়ে বসা বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও আগামীদিনের তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের জন্যে বিশেষ উপযোগী হয়েছে। শুধুমাত্র এই অধ্যায় থেকে যেটুকু শিখবে একজন শিক্ষার্থী সেটুকুই মুক্তবাজার অর্থনীতির এই বর্তমান সময়ে এসে মুক্ত তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী হিসেবে পথ চলায় তাঁর সহায়ক হতে পারে।

পঞ্চম অধ্যায়ে প্রোগ্রামিং ভাষা সম্পর্কিত আলোচনা আর সাথে কোডব্লকস আইডিইটার পরিচিতি নবীন তথ্যপ্রযুক্তিবিদদের বেড়ে ওঠায় বিশেষ সহযোগীতা দেবে বলেই বিশ্বাস করি।

ষষ্ঠ অধ্যায়ে আলোচিত ডাটাবেজ বা তথ্যভান্ডার সম্পর্কিত আলোচনাগুলো বেশ সহজবোধ্যই হবে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের একজ শিক্ষার্থীর কাছে। উন্মুক্ত প্রযুক্তিভিত্তিক আর ইউনিকোড সাপোর্টেড লিব্রে অফিস বেজ এর ব্যবহারে শিক্ষার্থীরা পাবেন বাংলাতে তথ্য সংরক্ষণ করার আবেগের প্রতিফলিত আনন্দ। ষষ্ঠ অধ্যায়ের শেষে ক্রিপ্টোগ্রাফি অংশে জিএনইউপিজি নিয়ে কিছু তথ্যযোগ করা গেলে আরো ভালো হতো বলেই বিশ্বাস করি।

চতুর্থ, পঞ্চম আর ষষ্ঠ এই তিনটে অধ্যায় থেকে অর্জিত জ্ঞান অর্থনৈতিকভাবে দূর্বল একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষার্জনকালীন খরচ যোগাতে সহায়ক হতে পারে। শিক্ষার পাশাপাশি অবসর সময়ের মেধাশ্রমের মাধ্যমে বেশ ভালো আয়ের উপকরণ হতে পারে এই জ্ঞান।

বইটির প্রতি অধ্যায়ের শেষে রয়েছে অত্যন্ত চমৎকার কিছু সৃজনশীল প্রশ্ন। এই অংশটায় লেখক বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় রচিত প্রতিটা বইয়ের চাইতে বেশ কিছু বাড়তি কিছু উপাদানের যোগ ঘটিয়েছেন, যেমনঃ মুক্তিযুদ্ধকালীন কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক তথ্য এবং দেশপ্রেমী মানসিকতার বিকাশ। যা শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক উভয়ের জন্যেই সমভাবে ব্যবহারবান্ধব ও সময়োপযোগী হয়েছে বলেই আমি মনে করছি।

সম্পূর্ণ উন্মুক্ত প্রযুক্তি ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম এবং সফটওয়্যারের ব্যবহারে রচিত বাংলা ভাষার এই বইটি উচ্চমাধ্যমিক স্তরে সরকারী বা বেসরাকারী কলেজগুলোতে পাঠ্য করা হলে শিক্ষার্থীরা সাম্প্রতিককালীন প্রযুক্তিজগতের সাথে সহজেই তাল মিলিয়ে শিক্ষার্জন করতে পারবেন বলে বিশ্বাস করি। একই সাথে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের নেয়া অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন প্রকল্প থেকে সরকারী স্কুল-কলেজগুলোয় দেয়া কম্পিউটারগুলোয় উবুন্টু তথা জিএনইউ/লিনাক্স তথা উন্মুক্ত প্রযুক্তি ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম তথা সফটওয়্যারগুলোর সাথে শিক্ষার্থীরা পরিচিত ও ব্যবহারবান্ধবতায় অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারবেন বলেই মনে করি। কিছু কিছু বানানের ভুল (মুদ্রনজনিতও হতে পারে) আর মোটা হরফের অক্ষরগুলোর ছাপা ঘোলাটে বা জাবড়ে যাওয়ার ত্রুটিটুকু হিসেবের মধ্যে না নিলেও চলে।

পরিশেষে বলতে চাই উপরের লেখাটুকু বইটির একজন পাঠক হিসেবে আমার তাৎক্ষণিক ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া বা মতামত মাত্র। আর তাই লেখার মধ্যে শব্দের প্রয়োগে বা বাক্যগঠনে অনেক সমস্যা থাকতেই পারে। হয়তোবা লেখক, প্রকাশক এটাকে কোনরূপ সমালোচনা বা মূল্যায়ন হিসেবে নিয়ে আহতবোধ করতে পারেন। তেমনটা হয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আমার এই মতপ্রকাশের উদ্দেশ্য লেখকের কাজের মানের মানোন্নয়ন ঘটাতে সহায়তা করা। বিদ্রুপ করা কিংবা উপহাসের মাধ্যমে লেখকের কর্মস্পৃহাকে ধ্বংস করা কিংবা বাধাগ্রস্ত করার কোনরূপ কিছু আমার লেখনীটুকুতে মনে হলে আন্তরিকভাবে আবারো লেখক ও প্রকাশকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।

Posted in খেয়াল করুন, জেনে রাখুন, দেশ ও জাতির প্রতি দ্বায়বদ্ধতা, প্রযুক্তি নিয়ে আউলা চিন্তা, ভালো লাগা, ভালোবাসা

ছিঃ ছিঃ ছিঃ! আমরা এত্তো .. .. .. !!!


পর্ব-১ : অতঃপর বারবণিতা

বিগত বছরের এই সময়টাতেই একটা ভয়াবহ ধারাবাহিক লেখার শুরু করেছিলাম। ধারাবাহিকটাতে দেশের প্রযুক্তি জগতের বর্তমান অবস্থা আর আগামীর ভয়াবহতাকে জ্ঞানের দৃষ্টিতে দৃশ্যায়ন করবার একটা ক্ষুদ্র প্রয়াস ছিলো। হয়তোবা আমার লেখার হাত তেমনটা নয় বিধায় আমার বক্তব্যগুলো অনেকেই বুঝে উঠতে পারেননি আবার যাঁরা বুঝেছেন তাঁদের অনেকেই হয়তোবা নিজের মানসিকতার কারনে কিংবা অন্য যে কোন কারনেই হোক এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন। কিছু কিছু মানুষ ছিলেন যাঁরা সচেতনভাবেই আমার লেখাটার গূঢ়ার্থ বোঝবার প্রয়াসে আরো বেশী পড়াশুনা করেছেন এবং নিজেরা নিজেদের প্রযুক্তিগত স্বাধীনতাকে সঠিকভাবে নিশ্চিত করতে/বজায় রাখতে সচেষ্ট হয়েছেন।

পূর্বের ধারাবাহিক লেখাটায় আমি বারংবার মাইক্রোসফট সহ অন্যান্য সফটওয়্যার জায়ান্টদের অনৈতিক আচরনের কথাগুলো তুলে ধরেছিলাম আর এবারকার এই লেখায় সেই আচরনের শিকার বা লক্ষ্যবস্তু হবার নিদারুন কাহিনীগুলো কার্যকারন সহই প্রকাশ করতে চেষ্টা করবো।

দেশের প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের জগৎটায় বিশাল এক সুনামী বয়ে গেলো এইতো মাত্র কিছুদিন আগেই। কিন্তু আসন্ন আগামীতে এই সুনামী থেকে নিজেদেরকে বাঁচাবার জন্যেই “ইচ্ছামাফিক শ্রম বিক্রয়” করবার ফাঁকে ফাঁকে লেখাটা লিখতে হাতের আঙ্গুলগুলো নিষপিষ করছিলো। কিন্তু সময়ই জোটাতে পারছিলাম না। একটা লেখা লিখে ফেলা সহজ কিন্তু তার সাথে উপস্থাপনা, তথ্যের যাচাই-বাছাই, উপযুক্ততা সব মিলিয়ে যে বিশাল হ্যাপা তা সামলে ওঠার মতো সময় কি যে কষ্টকর বিষয় তা আমাদের মতো “চিরায়ত বেকার”রা ভালোই উপলব্ধি করবেন।

যে বিষয়টা নিয়ে লিখবো সেটা শুধুই যে ব্যক্তিগত আবেগ আর প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়েই এমনটা নয়। এঁর সাথে এই দেশ তথা বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী প্রায় সকল প্রযুক্তি পন্য/সেবা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিতথ্য নিরাপত্তা জড়িয়ে আছে। আমার সামান্য ভুল বক্তব্য তাঁদের কে বিপথে চালিত করলে সে দায়টুকু নেবার মতো ক্ষমতা/সামর্থ্য আমার মতো অধমের নেই। আর সে কারনেই গত তিন রাতে দশটা থেকে তিনটা অবদি একনিষ্ঠতা আর একাগ্রতার সাথে কিছু পড়াশুনা করে জ্ঞানের চোখ দুটোর দৃষ্টিশক্তিকে একটু বেশিই শক্তিশালী করতে হলো।

আজ ১৬ই ডিসেম্বর, ২০১২ইং, মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে আমাদের সবার প্রাণপ্রিয় এই বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূর্য্যটা সবার জন্য নিশ্চিত হয়েছিলো। স্বাধীনতার সবটুকু স্বাদ আজ চারটে দশক পেরিয়েও আমরা নিজেরাই নিজেদের জন্য নিশ্চিত করতে পারিনি। অনেকেই অনেকভাবে অনেক যুক্তিতে অনড় থাকলেও আমি আমার নিজেকেই দোষারোপ করতে চাইবো। কারন আমার স্বাধীনতা আমার কাছে। কেউ সেটা এনেও দেবে না আর আমি স্বাধীনতাটুকু অর্জন করে নেবার পর সেটা অন্য আর কেউ রক্ষাও করে দেবে না। সেটা নিশ্চিত করার সম্পূর্ন দ্বায়িত্ব আমার, আমার হাতে/বুদ্ধিতে/শিক্ষায়/মননে/চেতনায়।

বর্তমান বিশ্বে আন্তর্জালিক (ইন্টারনেট) যোগাযোগ দৈনন্দিন জীবনে প্রবলভাবে বিস্তার লাভ করেছে আর ক্রমাগত সেটার প্রভাব বেড়েই চলেছে আমাদের মতো বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও। মুঠোফোনের জগৎটায় বেশ কিছু উন্নত প্রযুক্তি ছোঁয়া লেগে তা এখন বাংলাদেশে এতটাই মহামারীর পর্যায়ে পৌঁছেছে যে হয়তোবা কিছু দিন বাদে ফুটপাতের ভিক্ষুক ভিক্ষা করতেও ইয়াহু আইডি খুলবে আর ফেসবুকের ফ্যানপেজ খুলে নিয়ে প্রচারণা চালাবে। আমার আজকের এই লেখার সাথে “বারবণিতা” কিভাবে যায়/যাচ্ছে সেটা নিয়ে হয়তোবা এরই মধ্যে পাঠকের মগজের নিউরনগুলো ক্রমাগত বিভিন্ন হিসেব কষছে। আর যাঁদের এই দশা এখনো শুরু হয়নি তাঁরা সেই দিকেই যাবার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ছোট বেলায় বাবা-মা আমাদের হাত থেকে অনেক সময়ই অনেক খেলনা কেড়ে রেখে দিতেন। সেটা কি আমাদেরকে খেলনা থেকে বিরত রাখতে, নাকি খেলনার অপব্যবহারে আমাদেরকে শারীরিক দূর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষা করতে? যদি কোন ছোট বাচ্চা কোন কারনে কোন খেলনা নিয়ে খেলতে গিয়ে আহত হয় আর পরে দেখা যায় যে খেলনাটা আসলেই বাচ্চাটার জন্য বিপদজনক ছিলো তবে তাঁর দায় কার ঘাড়ে গিয়ে পড়ে/চাপে? নিশ্চয়ই ঐ সময়ে উপস্থিত ঐ বাচ্চার মুরুব্বীদের উপরেই এই দায় বর্তায়। আবার ঐ বাচ্চাটাই যদি সঠিকভাবে নিজের কাজগুলো করতে শেখে, জীবন চলার পথে যোগ্যতা অর্জন করে তখন ঐ বাচ্চার সাথে সাথে বাচ্চার বাবা-মা/মুরব্বীজনরা সকলের প্রশংসা পেয়ে থাকেন। জীবনের দৈনন্দিন বিষয়গুলোর সবকিছুই যদি এই এক বাচ্চা কেন্দ্রিকতার মতোন করে ধরে নিই তবে আরো সহজে ব্যাখ্যা করা যাবে কি? এই প্রশ্নগুলো ভেবে দেখবার প্রয়াস পেলেই বোঝা যাবে আজকের এই লেখাটা আমি যে লিখলাম সেটার পেছনে আমার মনের দৃষ্টিটা কি ছিলো আর এঁর ভেতরের প্রকাশটুকু।

আমার আজকের লেখায় প্রযুক্তি জগতে আমার “স্বাধীনতা” কতটুকু, আসুন তা বুঝে নিতে চেষ্টা করি। প্রযুক্তি মানব জীবনকে একদিকে করে তুলছে সহজতর আবার একই সাথে ঐ প্রযুক্তির অনিরাপদ/অনৈিতক/অযাচিত ব্যবহার আমাদের জীবনকে করে তুলছে অসহায়, পাংশুবর্ণ। আমি যদি প্রযুক্তির ব্যবহার জেনে-শুনে-বুঝে না করি তবে যে কোন মূহুর্ত থেকেই আমি হয়ে যেতে পারি প্রযুক্তির খেলার পুতুল। কোন একটা প্রযুক্তির সুবিধা-অসুবিধাগুলো পরিষ্কারভাবে জেনে-বুঝে যথাযথভাবে ব্যবহার না করলে সেটা হয়ে উঠবে আমারই গড়া আমার নিজের ধ্বংসের মূল অস্ত্র। কিভাবে? আসুন একটা ছোট্ট, বাস্তব উদাহরন দিয়েই মিলিয়ে নিই। আমরা কি বিগত সপ্তাহেই অত্যন্ত আশ্চর্য্যের সাথে খেয়াল করিনি যে কিভাবে বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত আলাপচারিতা প্রযুক্তি জগতটায় কিভাবে নোরাংভাবে ব্যবহৃত হলো আর তাঁর পরিনতি কি হলো?

অনেকের কাছেই এই বিষয়টা শুধুই বিব্রতকর। আবার অনেকেই হয়তোবা বলে বসবেন এটা “হ্যাকিং”। অনেকে বলবেন এটা একান্তই ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।

আসুন এবারে একটু কঠিন কঠিন শব্দের প্রয়োগ চাক্ষুস করি। প্রযুক্তি জগতের একেবারে শুরু থেকে নিয়ে বর্তমান অবদি তিনটি ধারার প্রযুক্তি বিদ্যমান। প্রথম সারিতে রয়েছে মুক্তপ্রযুক্তি, দ্বিতীয় আংশিক মুক্তপ্রযুক্তি আর তৃতীয়ত বদ্ধ বা কুক্ষিগত করে রাখা প্রযুক্তি। তৃতীয় ধারার প্রযুক্তিটিই মানুষ/সাধারন প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদেরকে বেশী আকর্ষন করে আর এখানেই চলে আসছে সেই “বারবণিতা” প্রসংঙ্গ। একজন দেহ ব্যবসায়ী কখন তাঁর দেহটাকে ব্যবসায় কাজে লাগান সেই বিষয়ে বিতর্কে না গিয়ে অতি সাধারনত তিনটি কার্যকারন উল্লেখ করা যেতে পারে — ১। একান্তই কোন সঠিক আয়ের রাস্তা না পেয়ে, ২। ধোঁকায় পড়ে, ৩। নিজের ইচ্ছেয়। তিনটা কার্যকারনের যেটাই ঘটুক না কেন উক্ত বারবণিতার শারিরীক ও মানসিক কষ্ট কিন্তু একই থাকে।

মুক্তপ্রযুক্তি ভিত্তিক বা “ফ্রী” বা “মুক্ত” সফটওয়্যার গুলোর ভেতরকার কোড একেবারে নিম্নমানের সফটওয়্যার প্রস্তুতকারক থেকে শুরু করে একেবারে উপরের সারির মানোন্নয়কারীর কড়া নজরদারীতে থাকে বিধায় এগুলো একেবারেই নিরাপদ একটি প্রযুক্তির সফটওয়্যার এবং সম্পূর্নরূপে সাধারন ব্যবহারকারীদের স্বার্থ সংরক্ষন করে থাকে। কোন পুঁজিবাদী প্রতিষ্ঠান যদি এই প্রকল্পকে কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে উদ্যতও হয় তো সেই প্রতিষ্ঠানই বিপদে পড়ে যেতে বাধ্য থাকে কারন এই প্রকল্পগুলোর পেছনের মানুষগুলো আজীবনের জন্যেই উন্মাদ/উন্মাতাল মুক্তিকামী। এঁরা সংগে সংগে বিদ্রোহ ঘোষণা করে এ পুঁজিবাদের কবল থেকে বেরিয়ে আসে এবং নিজের স্বাধীনতাকে রক্ষা করে চলে।

আংশিক মুক্তপ্রযুক্তি ভিত্তিক সফটওয়্যারগুলো বিশ্বস্ত সুত্রের হয়ে থাকলে সেটা নিরাপদ হতে বাধ্য। কেননা সেটুকু নিশ্চিয়তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ যে কোন মানোন্নয়নকারী/প্রতিষ্ঠান এই জগতটা থেকে ছিটকে যাবে। তাঁর তৈরী করা যে কোন প্রযুক্তিই পরবর্তী সময়ে আর গ্রহনযোগ্যতাই পাবে না। বিশ্বস্ত সুত্র ব্যতীত এই জগতের অন্যান্য যে সকল সফটওয়্যার বদ্ধ বা কুক্ষিগত প্রযুক্তির কাছাকাছি ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি এবং প্রলোভনে সাধারন ব্যবহারকারীদেরকে কাছে টানে।

একেবারে বদ্ধ/কুক্ষিগত প্রযুক্তিগুলোকে আমার ভাষায় আমি “বারবণিতা”। অনেকেই এহেন কথায় মনে চরম আঘাত প্রাপ্ত হতে পারেন কিন্তু মূল ঘটনা আসলেই এক “বারবণিতা”র প্রলোভনে সর্বস্ব খোয়ানো এক সরল মানুষের কাহিনী। “বারবণিতা” যেমন খুব সহজেই সরল মানুষকে আকর্ষন করে, নিজের রূপে মুগ্ধ করে এবং পরবর্তীতে “খদ্দের” এ পরিনত করে এবং আরো পরে নিজ স্বার্থ হাসিল করতে ব্ল্যাকমেইল/খুন/গুম করে ঠিক একই কাজ করার ক্ষমতা রাখে কুক্ষিগত বা বদ্ধ প্রযুক্তির সফটওয়্যারগুলো। এঁদের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের অনৈতিক আচরন করে থাকে মাইক্রোসফট এবং এঁর প্রযুক্তি ব্যবহারেই সফটওয়্যােরর মানোন্নয়নকারী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।

আমার আজকের মূল আলোচনা যে সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশের “যুুদ্ধাপরাধের বিচার ট্রাইবুনালের বিচারপতির স্কাইপি ব্যবহারে কথোপকথন ফাঁস” হবার বিষয়ে সেটুুকু আশা করি ইতোমধ্যেই পাঠক বুঝে নিতে পেরেছেন। কিছু সংবাদপত্রে এই বিষয়ে পরবর্তী দিনগুলোতে আলোচনা/সমালোচনা/প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ (লাল, নীল, হলুদ, বাদামী বিভিন্ন টুপি পড়া .. .. ..) পড়লাম, গনমাধ্যমে কিছু সংবাদ প্রতিবেদন আর আমাদের বিশিষ্ট কিছু রাজনীতিবিদের সর্বজান্তা ধরনের মন্তব্যও শুনলাম/দেখলাম আবার কিছু “টকশো” (ঝাল শো দিলেই ভালো হতো) আয়োজনেও বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতাও দেখলাম ও শুনলাম। সব মিলিয়ে সবাই “হ্যাকিং” করার বিষয়টাকেই তুমুল পরিমানে পাদপ্রদীপের আলোয় টানতে চাইলেন।

বিগত দিনেও একটা জাতীয় আয়োজনে আমাদের তথ্য সচিব জনাব এন আই খান মহোদয় বক্তব্য দেবার সময় বলছিলেন — “আশা করি আমাদের মাঝে আজকে এখানে যাঁরা আছেন তাঁরা সবাই ভালো হ্যাকার” (স্যানিটেশন হ্যাকাথন ২০১২ — বাংলাদেশ)। আবার এই বক্তব্যটার সমর্থনে দুইদিন ব্যাপী আয়োজনের পুরোটা সময় আয়োজনের সঞ্চালকদ্বয় নিজেদেরকে বেশ স্মার্ট হিসেবে উপস্থাপন করলেও ঐ আয়োজনে উপস্থিত সব “হ্যাকার”কে আদর করে “কোডার” হিসেবে ডেকেছেন। এই দুই পর্যায়ের মানুষ ছাড়াও যাঁদের মনে আমার এই বাড়তি কথাগুলো বিরক্তিকর মনে হচ্ছে তাঁদের জন্য আরো একটু বিরক্তি অপেক্ষা করছে। “হ্যাকার” == অত্যন্ত দক্ষ ও চিন্তাশীল ব্যক্তি/বর্গ এবং যাঁর নৈতিকতা ও বিবেচনাবোধ তাঁদেরকে সার্বজনীন মঙ্গলমূলক কোন কাজ ছাড়া আর কিছু করতে বাধা দেয়। এর ঠিক বিপরীতার্থক শব্দ হলো “ক্র্যাকার” == হ্যাকারের ন্যায়ই দক্ষ ও চিন্তাশীল ব্যক্তি তবে ইনার নৈতিকতাবোধ ও বিবেচনাবোধটুকু শুধুই ক্ষতিকর কাজের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ, মঙ্গলময় কিছু এঁদের দ্বারা হয় না, শুধুমাত্রই নিজের স্বার্থের জন্য এঁরা নিজের দক্ষতা আর জ্ঞানকে অপব্যবহার করতে থাকেন।

“হ্যাকিং” বিষয়টাকে আমাদের দেশীয় প্রযুক্তিতে যদি ব্যাখ্যা করা হয় তবে উদাহরনটা হবে মোটামুটি এইরকম — আমি ভাত রান্না করতে জানি কিন্তু আপনি গ্যাস নেই, চুলা নেই, ম্যাচ নেই ইত্যাদি ছুতায় আমার বাড়িতে বসে, আমাকেই আমার আহারের জন্য ভাতটুকু রান্না করতে দিতে অনিচ্ছুক/বাধা দিচ্ছেন। এমতাবস্থায় যদি আমি রাইসকুকােরর ব্যবহারে যদি ভাত রান্না করে নিই তবে সেটাই হলো “হ্যাকিং”। আর যদি এই ভাত রান্না করতে গিয়েই যদি আপনার সাথে মারামারি/কাটাকাটি তে জড়িয়ে পড়ি তো সেটা হবে “ক্র্যাকিং”। দুই ক্ষেত্রেই ভাত রান্না করা যাচ্ছে কিন্তু একটাতে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বুদ্ধিবৃত্তিক আচরনের জন্য খুশি হচ্ছে আর পরেরটাতে পরিবারের হয়তো কিছু মানুষ পেশী শক্তির প্রয়োগে খুশি হবে কিন্তু অধিকাংশ মানুষই বিরক্ত হবে এবং একই সাথে নিজের জ্ঞান ও শারীরিক সক্ষমতার অপব্যবহার হলো। আশা করি সবাই বুঝতে পারছেন যে, “হ্যাকিং” করাটা সবসময়েই মঙ্গলার্থে ছিলো, আছে এবং আগামীতেও থাকবে। পক্ষান্তরে “ক্র্যাকিং” ক্ষতিকর, ক্ষতি করে গেছে এবং করছে। আর তাই “হ্যাকার”দেরকে “ক্র্যাকার” বলে সম্বোধন করাটা চরম অপমানজনক। আর ওই যে দুই ব্যক্তি হ্যাকাথনে হ্যাকারদেরকে কোডার কোডার বলে ডেকে গলার রগ
ফুলাচ্ছিলেন তাঁদের কেউ একনজনও যদি আমার এই লেখাটা পড়ে থাকেন তো একান্ত অনুরোধ করবো আগামীতে কোন আয়োজনে এভাবে নিজেকে নগ্নভাবে সবার সামনে উপস্থাপন না করতে। কারন “কোডার”রা প্রাথমিক পর্যায়ের কম্পিউটার প্রোগ্রামার। “হ্যাকাথন” এ আপনারা “হ্যাকার”দেরকে ডেকেছেন, “কোডার”দেরকে নয়। আর যদি আপনাদের মনে বদ্ধমূল ধারনা থেকেই থাকে যে ঐ “স্যানিটেশন হ্যাকাথন ২০১২” এ কোন “হ্যাকার” উপস্থিত ছিলেন না তবে অনুগ্রহ করে আয়োজনটা বন্ধ করে দিয়ে আমাদেরকে বললেই হতো, আমরা বেরিয়ে আসতাম আর নিজেদের জ্ঞানটাকে আরো শানদার করতে সচেষ্ট হবার প্রয়াস পেতাম। সচিব মহোদয়ের বক্তব্যের প্রতিবাদ ঐ আয়োনের ঐ মূহুর্তেই আমি করেছিলাম যে কারনে ঐ আয়োজনে প্রথম রাত্রেই সঞ্চালকদের একজন হালকা পঁচানি দেবার প্রয়াসও নিয়েছিলেন। এই রকম আচরন বিগত চৌদ্দ বছর যাবৎই সয়ে আসছি আরো সইবো, তবু সঠিক কথা বলতে পিছুপা হবো না। আজকের এই লেখার পরে যাঁরা আরেকটু “বিলা” হলেন আমার উপরে তাঁদের জন্যে শুভবুদ্ধির উদয়ের শুভকামনাটুকু করা ছাড়া আমার করার আর কিছুই নাই।

আমাদের দেশের গনমাধ্যমের সকল সাংবাদিক ও সম্পাদকগণ এই “অতি ক্ষুদ্র” বিষয়টাতে একটু সচেতন হলে আশা করি আগামীর বাংলাদেশ ডিজিটাল যুগে প্রবেশের সময় তাঁর সঠিক ও সুহৃদ বন্ধুদেরকেই পাশে পাবে।

“হ্যাকার” আর “হ্যাকিং” বিষয়ক জ্ঞান বিতরন শেষে আমি মূল আলোচনা প্রারম্ভেই কিছু হালকা তথ্য উপস্থাপন করে দিচ্ছি। দেখুন তো মস্তিষ্কের নিউরনে কিঞ্চিৎ অনুরনন ঘটে কি না?

@ আগষ্ট ২০০৩ — পি২পি নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনায় উপযোগী স্কাইপি এর প্রথম বেটা সংস্করন উন্মুক্ত করা হয়।

@ সেপ্টেম্বর, ২০০৫ — ই-বে ২.৬ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে কিনে নেয় স্কাইপি কে

@ জুলাই ২০০৮ — অস্ট্রিয়ান সরকারের আন্তরাষ্ট্রীয় মন্ত্রনালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই আলোচনা সবার সামনে উঠে আসে যে কোন সমস্যার সৃষ্টি করা ব্যতিরেকেই (আলাপচারীতায়রতদের মনে কোনরূপ সন্দেহের উদ্রেক না করেই) স্কাইপি থেকে স্কাইপির আলাপচারিতা স্পষ্টতই শোনা (আড়িপাতা) সম্ভব।

@ ফেব্রুয়ারী ২০০৯ — ইউরোপে বিভিন্ন দেশ স্কাইপির আভ্যন্তরীন নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে সরব হয়ে ওঠে। আর এটাকে স্কাইপি কর্তৃপক্ষ এই বলে ঢেকে দিতে চায় যে সরকারী দপ্তরগুলো তাঁদের সাথে চুক্তির মাধ্যমে নিজ নিজ দেশের ব্যবহারকারীদের তথ্যে আড়িপাততেই পারেন।

@ সেপ্টেম্বর ২০০৯ — ই-বে ঘোষনা দেয় স্কাইপি এর ৬৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে দেবার।

@ মে ২০১১ — মাইক্রোসফট কিনে নেয় স্কাইপিকে

@ অক্টোবর ২০১১ — মাইক্রোসফট স্কাইপি ডিভিশন পুরোপুরি স্বত্বঃবুঝে পায় স্কাইপি এর

@ মে ২০১২ — ফ্রান্সের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনের একটি পলিটেকনিকের যৌথ পরিচালনায় অক্টোবর ২০১১ তে পরিচালিত এক গবেষণায় ১০০০০ স্কাইপি ব্যবহারকারীর ২ সপ্তাহ যাবৎ তথ্য পর্যবেক্ষনে দেখা যায় যে স্কাইপির নিরাপত্তা ত্রুটিব্যবহার করে সংগৃহীত তথ্যে ব্যবহারকারীদের ভৌগলিক অবস্থান এবং আইপি ঠিকানা পর্যবেক্ষন করা সম্ভব এবং অতি সুক্ষভাবেও যাচাই করে মোটামুটি সঠিক অবস্থানেই ব্যবহারকারীকে পর্যবেক্ষন করা সম্ভব হচ্ছে। তথ্যটি এই সময়ে এসে তাঁরা পরিপূর্ন যাচাই বাছাই শেষে প্রকাশ করেন।

@ জুলাই ২০১২ — স্কাইপি ব্যবহারকারীদের পাসওয়ার্ড এনক্রিপশন বিনাই সংরক্ষন ও আন্তর্জালের (ইন্টারনেট) জগতে ব্যবহার করা হচ্ছে এই মর্মে অভিযোগ ওঠে আর এই ত্রুটির কারনে বেশ কিছু ব্যবহারকারী তাঁদের নিজেদের হিসাবটি(অ্যাকাউন্ট)র অধিকার হারিয়ে ফেলেন।

@ সেপ্টেবর ২০১২ — পুরো স্কাইপি নেটওয়ার্কে মাইক্রোসফটের করা নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়। মাত্র ছয়টি ধাপে একটি নমুনা স্বরূপ হিসাব (অ্যাকাউন্ট) সঞ্চালনার মাধ্যমে একটি কাংখিত ইমেইল আইডিতে বর্তমানে চলমান/সক্রিয় হিসাব বেদখল করে নেয়া সম্ভব। এই ত্রুটিটি ১৪ই নভেম্বর ২০১২ইং অবদি বজায় ছিলো।

এত কিছুর পরেও উপুর্যপুরি স্কাইপির ব্যবহারকারী খুব একটা কমেনি বরংচ বেড়েইছে। কারন এই তথ্যগুলো প্রযুক্তির সাগরে সার্ফিং করে বেড়ানো মানুষগুলো ছাড়া অন্যদের কাছে বিস্বাদময় আর তারউপর ছিলো এই পুরোটা সময় জুড়ে (২০০৯-২০১২) বিভিন্ন রকমের কলরেট অফার আর বিনামূল্যে কল করার সুবিধার ব্যবস্থা। ঐ যে শিরোনামে লিখে রেখেছি — “বারবণিতা”, সেই ক্যারিশমাটা উপভোগ করেছে সবাই এই সময়টাতেই আর এই প্ররোচনা আর প্রতারণাকে সাথী করেই।

উপরোক্ত তথ্যগুলোর উপরে বিশ্লেষণ সহ আরো কিছু বিষয়ে আলোচনা করবো আগামী পর্বে।

# পর্ব-২ : খদ্দের সমাচার — প্রকাশ করবার ইচ্ছে আছে আগামী ২১শে ডিসেম্বর রাতে।

Posted in খেয়াল করুন, জেনে রাখুন, দেশ ও জাতির প্রতি দ্বায়বদ্ধতা, প্রযুক্তি নিয়ে আউলা চিন্তা, ভালো লাগা, ভালোবাসা

“পেঙ্গুইন মেলা – ২০১২” – সিলেট বিভাগ এবং সংগঠনের ১ম বর্ষপূর্তি উদযাপন


মুক্ত সফটওয়্যার আন্দোলন একটি সামাজিক আন্দোলন যার উদ্দেশ্য কম্পিউটার ব্যবহারকারীর অধিকার সংরক্ষণ করা। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মুক্ত সফটওয়্যার আন্দোলন, মুক্ত সফটওয়্যার তৈরি করতে, ব্যবহার করতে এবং মানোন্নয়ন করতে উৎসাহ প্রদান করে। “সফটওয়্যার চোর” হিসেবে নিজের প্রানের প্রিয় এই বাংলাদেশকে কালিমামুক্ত করতে এবং সফটওয়্যার প্রযুক্তিতে স্বনির্ভর ও মুক্তপ্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মুক্ত সফটওয়্যার, লিনাক্স ও উন্মুক্ত সোর্স ভিত্তিক সফটওয়্যারকে ছড়িয়ে দেবার প্রত্যয়ে মুক্ত প্রযুক্তি ভিত্তিক সফটওয়্যার, লিনাক্স এবং বিভিন্ন সেবাসমূহ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে ফাউন্ডেশন ফর ওপেন সোর্স সলিউশনস বাংলাদেশ (এফওএসএস বাংলাদেশ)।

ফাউন্ডেশন ফর ওপেন সোর্স সলিউশনস বাংলাদেশ এর জনসচেতনতামূলক একটি আয়োজন “পেঙ্গুইন মেলা”। এ বছরের প্রথম আয়োজন “পেঙ্গুইন মেলা- ২০১২” অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৩শে ফেব্রুয়ারি ২০১২ইং, রোজ বৃহঃস্পতিবার। আয়োজনে সহযোগীতা করছে সিলেটের জিন্দাবাজারে অবস্থিত মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। সাংগঠনিকভাবে ১ম বর্ষ পূর্ন করায় একই সাথে সংগঠনের বর্ষপূর্তিও উদযাপন করা হবে।

উক্ত অনুষ্ঠানে সফটওয়্যার পাইরেসি, মুক্ত সফটওয়্যার, ওপেনসোর্স ও লিনাক্স ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি আরো রয়েছে অংশগ্রহনকারী দর্শকদের সাথে মতামত বিনিময় ও সরাসরি আলোচনার সুযোগ, ইন্সটলেশন এবং সাপোর্টের ব্যবস্থা এবং সন্ধ্যেয় সংগঠনের ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন আয়োজন। এছাড়াও অনুষ্ঠানস্থল থেকে ওপেনসোর্সড থ্রি-ডি গেমসহ লিনাক্স মিন্ট ১০ জুলিয়া’র সংকলিত ডিভিডি, মিন্ট ১১ ক্যাটিয়ার মূল সংস্করনের ডিভিডি, নপিক্স ৬.৭ এর সিডি এবং লিনাক্স ভিত্তিক বিভিন্ন ডিস্ট্রোর আইএসও পেনড্রাইভে কিংবা পছন্দের মিডিয়াতে সংগ্রহ ও ইন্সটল করিয়ে নেয়া যাবে।

অনুষ্ঠানের শিরোনামঃ “পেঙ্গুইন মেলা – ২০১২” – সিলেট বিভাগ।
তারিখ ও সময়ঃ ২৩শে ফেব্রুয়ারি ২০১২ইং, বৃহঃস্পতিবার। সকাল ১০:০০মিনিট থেকে সন্ধ্যে ৬:৩০ মিনিট
আয়োজন স্থলঃ সভাকক্ষ, মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়, জিন্দাবাজার, সিলেট।
আয়োজকঃ ফাউন্ডেশন ফর ওপেন সোর্স সলিউশনস বাংলাদেশ।
আয়োজন সহযোগীঃ ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়, জিন্দাবাজার, সিলেট।

আয়োজনের বিস্তারিত সূচী:
১। সকাল ১০টায় আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে নিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী ঘোষনা করা হবে এবং সাথে কিছু স্বাগত বক্তব্য দেবেন আয়োজক এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
২। সকাল সাড়ে দশটা থেকে শুরু হয়ে দিনব্যাপী আয়োজনে বিভিন্ন ধরনের মুক্ত সফটওয়্যার ও লিনাক্স ডিস্ট্রোর ইতিহাস আর চিত্রসহ ডঙ্গল, ফেস্টুন, ব্যানার নিয়ে প্রদর্শনী চলবে।
৩। দিনব্যাপী এ আয়োজনে আরো থাকছে ”সফটওয়্যার মুক্তি আন্দোলন” ও বিভিন্ন মুক্ত সফটওয়্যার এবং লিনাক্স নিয়ে তথ্যভিত্তিক ভিডিও চিত্র প্রদর্শনী।
৪। থাকছে ”ইন্সটলেশন ও সাপোর্ট বুথ”। যেখানে আমাদের স্বেচ্ছাসেবকগণ আয়োজনে অংশগ্রহনকারীদের পছন্দ অনুসারে তাঁদের ল্যাপটপ কিংবা নেটবুকে লিনাক্স ভিত্তিক বিভিন্ন ডিস্ট্রো ইন্সটল এবং ইন্সটল পরবর্তী নিত্য প্রয়োজনীয় সেটিংসগুলো করে দেবেন। (অনলাইনে ফর্মপূরনকারীরা অগ্রাধিকার পাবেন।)
৫। এছাড়াও আয়োজনস্থলে থাকবে বিভিন্ন জনপ্রিয় লিনাক্স ডিস্ট্রোগুলোর পেনড্রাইভে, পছন্দের মিডিয়াতে এবং সিডি/ডিভিডিতে বিতরনের ব্যবস্থা। লিনাক্স মিন্ট ১০ জুলিয়া সংকলিত সংস্করন ডিভিডি — ৩০ টাকা, লিনাক্স মিন্ট ১১ ক্যাটিয়া মূল সংস্করন ডিভিডি — ২০ টাকা এবং নপিক্স ৬.৭ সিডি — ১০টাকা প্রতিটি।
৬। সন্ধ্যে ৬টা থেকে আয়োজিত হবে এফওএসএস বাংলাদেশ এর ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে একটি ছোট্ট আলোচনা সভা এবং তৎপরবর্তী ছোট্ট একটি আনন্দ আয়োজন।

যেহেতু এই আয়োজনে সরাসরি লিনাক্স ডিস্ট্রো ইন্সটলেশন আর সাপোর্ট সেবা দেবার ব্যবস্থা থাকছে, তাই আগ্রহী সকলের জন্য এই সেবার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে এখানে তথ্য দিন ও আপনার নাম নিবন্ধন করুন। এছাড়াও উন্মুক্ত এ আয়োজনে আগ্রহী যে কেউই আয়োজন স্থলে সরাসরি নিজের নাম নিবন্ধন করিয়ে নিয়ে অংশগ্রহন করতে পারবেন।

[বিঃদ্রঃ — অগ্রীম নাম নিবন্ধন ব্যতীত ইন্সটলেশন ও সাপোর্ট সেবা সুবিধাটুকু পাবার নিশ্চয়তা দেয়া সম্ভব হবে না। যদি এই অগ্রীম নিবন্ধিতজনদের সেবাপ্রদান শেষে আমাদের হাতে কিছু সময় অতিরিক্ত থাকে তো সেই সময়ে আপনাদের নাম নিবন্ধনের সময় অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সেবা পাবেন।]

আয়োজন পরবর্তী প্রতিবেদন:

সকাল দশটায় আয়োজনের উদ্বোধন করে মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক চৌধুরী মোকাম্মেল ওয়াহিদ, মুক্তপ্রযুক্তি ও চোরাই সফটওয়্যারের বিষয়ে উপস্থিত ছাত্রদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি এবং ”পেঙ্গুইন মেলা”র বিষয়ে বক্তব্য দেন। সকাল সাড়ে দশটায় লিনাক্স মিন্ট ইন্সটল করার বিষয়ে উপস্থিত দর্শকের ডেমো দেখান ডঃ মিয়া মোহাম্মদ হুসাইনুজ্জামান শামীম এবং সালেহ আহমেদ। এর পরপরই জিএনইউ প্রজেক্ট, মুক্ত সফটওয়্যারের প্রয়োজনীয়তা, লিনাক্স এবং এই আন্দোলনের শুরুর দিককার কথা নিয়ে দর্শকদের সাথে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন সাজেদুর রহিম জোয়ারদার। বিকাল সাড়ে তিনটা থেকে লিব্রে অফিস এবং লিব্রে ক্যাড বিষয়ে সরাসরি কাজের মাধ্যমে আলোচনা করেন ডঃ মিয়া মোহাম্মদ হুসাইনুজ্জামান শামীম। বিকাল সাড়ে পাঁচটা থেকে শুরু হয় দর্শকের সাথে সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্ব।

দিনব্যাপী এই আয়োজনে ছিলো ”লিনাক্স ডিস্ট্রো ইন্সটলেশন এবং সাপোর্ট বুথ”, বিভিন্ন ধরনের মুক্ত সফটওয়্যার আর লিনাক্স ডিস্ট্রোর ইতিহাস আর চিত্রসহ ডঙ্গল, ফেস্টুন, ব্যানারের প্রদর্শনী এবং ওপেনসোর্সড থ্রি-ডি গেমসহ লিনাক্স মিন্ট ১০ জুলিয়া’র সংকলিত এবং মিন্ট ১১ ক্যাটিয়ার মূল সংস্করনের ডিভিডি, নপিক্স ৬.৭ সিডি এবং লিনাক্স ভিত্তিক বিভিন্ন ডিস্ট্রোর আইএসও পেনড্রাইভে কিংবা পছন্দের মিডিয়াতে সংগ্রহের ব্যবস্থা।

সন্ধ্যে ছয়টায় কেক কেটে এবং উপস্থিত দর্শক শ্রোতাদেরকে আপ্যায়নের মাধ্যমে ফাউন্ডেশন ফর ওপেন সোর্স সলিউশনস বাংলাদেশ এর প্রথম বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়।

আয়োজনের কিছু ছবি দেখুন এখানে

যেসব ব্লগ ও ফোরামে এই আয়োজনের সংবাদ পাবেন — শামীম ভাইয়ের ব্যক্তিগত ব্লগ (খিচুড়ী ব্লগ), প্রজন্ম ফোরাম , টেকটিউনস, আড্ডার আসর, রংমহল, আইটেক বাংলা, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের বাংলা ফোরাম (আরএমসি ফোরাম), লিনাক্সদেশ ফোরাম, রংধনু এবং ডিজিটাল দুনিয়া‘য়।

Posted in কিভাবে কিভাবে যেন লিখে ফেললাম, খেয়াল করুন, জেনে রাখুন, পরিচয় পর্ব, প্রযুক্তি নিয়ে আউলা চিন্তা, ভালো লাগা, ভালোবাসা

K ফর কাউয়া আর A ফর এটিএস


১৫ই ডিসেম্বর ২০১১ইং সকাল ৭:০০

কাঁ কাঁ, কাঁ কাঁ, কাকের কলরব। কোলকাতার কাকের কলকাকলীতে কর্নকুহর কম্পিত। কাকের এই KA KA শব্দ যে এই সকাল থেকেই জ্বালাতন শুরু করে দিলো তা বলাই বাহুল্য। জীবনে প্রথমবারে মতো ধনুষ্টংকারের আতংকে আতংকিত হবার মতো বিষয়খানি যে এই KA KA শব্দের বিস্তৃতির মধ্যেই অন্তর্নিহিত তা কে জানতো তখন? দুপুর না গড়াতেই ভাবসম্প্রসারন যোগে পরিষ্কার বোঝা গেলো K ফর কাউয়া আর A ফর এটিএস (ধনুষ্টংকার প্রতিষেধক টিকা) 🙂 ।

বুঝতে পারছি। আজকে আমার এই লেখার শুরুর অংশটুকু পড়বার পরে আপনাদের প্রত্যেকের মনে নানান রকম প্রশ্ন উঁকি-ঝুঁকি দিচ্ছে। আমি আবার সম্মান শ্রেনীতে পড়বার সময় আমার মূল বিষয় ইংরেজী সাহিত্যের সাথে সাথে অতি আহ্লাদের সাথে বেছে বেছে মনোবিজ্ঞান, দর্শন আর ইতিহাসকেই আঁকড়ে ধরেছিলাম (আমিই আঁকড়ে ধরে ছিলাম না স্বয়ংক্রিয় বাছাই প্রক্রিয়ায় ওঁরাই আমায় আঁকড়ে ধরেছিলো সেই নিয়ে আরেক কাহিনী বলতে হবে 😀 ) কি না ??? তো সেই ভয়াবহ জ্ঞানার্জনের বোধটুকু থেকেই আপনাদের মনের সেই উঁকিঝুঁকির ক্ষেত্রের বিস্তৃতি যতটুকু বুঝতে পারছি তা হলো —
আসুন অনুমান করি (১) — রিং ভাই মনে হয় কাকের KA KA ধ্বনিতে বিরক্ত হয়ে কোলকাতার কাকবাহিনীর কোন/কতিপয় বীর সেনানীকে গুলাতি/ঢিল অস্ত্রের আঘাতে আহত করেছেন। এবং সেই আঘাতের বদলা নিতে কাকবাহিনী ওনাকে সুকঠিন “কাকচঞ্চু” কি জিনিষ? তা বুঝিয়ে ছেড়েছে। অতঃপর . . .

আসুন অনুমান করি (২) — রিং ভাই মনে হয় এবারের কোলকাতা অভিযানের প্রথম নিরীক্ষা “কাক বাহিনীর আদ্যোপান্ত” বিষয়েই করছিলেন। হঠাৎই কাক বাহিনীর দুই পক্ষের মধ্যকার দ্বন্দ্ব যুদ্ধের ‘ক্রসফায়ারে’ পড়ে রিং ভাই আহত। অতঃপর . . .

আসুন অনুমান করি (৩) — ঢাকায় রিং ভাই নিজের গৃহে পালিত কবুতর (কবুতর আকৃতির মুরগী বলাই সমীচিন, বহু কষ্টে এঁরা কদাচিৎ ওড়াওড়ি করে) গুলোকে বাঁচাতে নিয়মিতই কাক বাহিনীর প্রতি গুলাতি ও বরই বিচির মর্টার নিক্ষেপ করেন। এবার ওরাই জরূরী তারবার্তা দিয়েছিলো কোলকাতা ব্যাটালিয়নে। অতঃপর . . .

আসুন অনুমান করি (৪) — রিং ভাইয়ের কোলকাতাইয়্যা কোন আত্নীয় বোধহয় রিং ভাইয়ের মতোনটাই দেখতে (মাথায় বিশাল টাক এবং ফিগার মাশাল্লাহ আড়াইমন চালের বস্তার চাইতে কম কিছু না)এবং ঐ ব্যক্তিটি কিছুদিন আগেই এই কাকবাহিনীর কোন সদস্যদের ষাটফুটি প্রাসাদ (নারকেল গাছের ডগায় . . .) তছনছ করেছেন। তো “কালা কালা উয়ো মেরা বাপকা শালা” সুত্র মতেই রিং ভাই প্রাতঃকালীন ভ্রমনকালে প্রথমে টার্গেটেড এবং পরে . . .। অতঃপর . . .

আসুন অনুমান করি (৫) — ‘রিং-দ্য ডন’ অবশেষে . . .। কাউয়ার ক্ষপ্পরে, তাও উনার নানাবাড়ির পালাপোষা কাউয়া। ব্যাটায় বাংলার “খিড়কী” ওএস ব্যবহারকারীদের আর লিনাক্স ব্যবহারকারী(চিংড়ি মার্কা)দের বহুত জ্বালাতন করে। দুমদাম কথার পিঠে কথা শোনায়, যথা-তথা, যহন-তহন। পাইরেটস (পাইরেসী করে যাঁরা) দের হালায় ‘ডাকাইত’ না কইয়া, কয় ‘চোর’? হালার দুঃসাহসডা দেখছোস? হালায় আমাগো লাহান সফটওয়্যার চোর (থুড়ি ডাকাইত)গো মান-ইজ্জত সব ফালুদা কইরা ফালাইলো!!! আরে আজিব, তুই নিজের দ্যাশরে ভালোবাসবি তো বাস, তোরে বাধা দিছে ক্যাডা? কিন্তু দেশের বেবাকরে সঠিক পথ দেখানোর ঠিকা কি তরে দিছে? আমাগোরে চুরি/ডাকাতি করবার থন বিরত রাখবার চায়!! দ্যাশের মান-ইজ্জত বাড়াইবার চায়। বহুত বাড়ছিলো হালায়। আমরা তো হালার বহুত হেরা ফেরী করছি এই বছরের শুরুর দিকেরথন, ঠেঙ্গানিও দিছি (অনলাইন), মুরুব্বীগোরে দিয়া হুমকি দিছি, শাসাইছি, বদনাম গাইছি(অনলাইন, অফলাইন)। মাগার হালায় সিধা হয় নাইক্ক্যা। হালায় এক্কেরে কুত্তার লেঞ্জার লাহান তেড়ি খাইয়্যা দেশের মান বাঁচাইবার লাইগ্যা লাগছে। সরকারী-বেসরকারী ভার্সিটিগুলানে ভিজিট দিয়া দিয়া ‘ইয়াং জেনারেশনের’ ব্রেইন ওয়াশ করতাছিলো। সবতেরে বুঝাইবার চাইছে কেমতে দ্যাশের তথ্য পাচার হওন ঠেকান যাইবো। কেমতে দ্যাশের নাম চোর-ডাকাইতের খাতার থন সম্মানের খাতায় তোলন যাইবো। আরে মর জ্বালা, এই চুরি-চোট্টামি-ডাকাতি এইগুলান না থাকলে আমাগোর লাহান ‘কাউয়া’রা করবোডা কি? এইগুলান তো আমরা উত্তরাধিকার সুত্রে পাইয়া আইছি। অখ্খন এইগুলান ছাইড়া যদি বেবাকতে ভালা মানুষের লাহান চলবার চাই, তো দ্যাশ টিকবো? হালারে বুঝাইবারই পারি নাইক্ক্যা যে আমাগো লাইগ্যাই মিডিয়ার বরাতে আমগো দ্যাশডারে বৈদেশিক দাতাগোর সামনে ঝুড়ির লাহান বিছাইবার পারে আর আমরা কাড়ি কাড়ি ডলার (শর্তযুক্ত ভিক্ষা) আনবার পারি। আরে হালায় “ঋণ কইরা ঘি” তুই খাবি না তো কি হইলো? আমরা তো খামু, না কি? এইবার !! এইবার হালায় !!! বিদেশী কাকবাহিনীর হাতে সাইজ হইছে। অতঃপর . . .

“কৌন বনেগা ক্রোড়পতি” বা বাংলায় “কে হতে চায় কোটিপতি”র চাইতেও আপনাদের হাতে এখন একটা অপশন বেশী। আর এগুলোর থেকে আপনার পছন্দেরটি বেছে নেবার অথবা নিজস্ব কোন মন্তব্য করার সময়সীমা আগামী ২১শে ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল ১০:১১:১০ অবদি। বেছে নিন এবং মন্তব্য করতঃ ফলাফলের অপেক্ষায় থাকুন। ২১ তারিখে লেখার বাকী অংশ প্রকাশিত হলে আপনার বেছে নেয়া অপশনটুকু অথবা মন্তব্যের সাথে মিলিয়ে নিন আমার নিজের অভিজ্ঞতা।

যদি মিলে যায় আংশিক কিংবা হুবহু, তো বিনিময়ে আপনি পাবেন, “আমার ডান বাহুতে প্রযুক্ত সেই ঐতিহাসিক ধনুষ্টংকার টীকা দেবার দৃশ্যে”র একখানি ঝকঝকা ফটুক (নোকিয়া ৭৬১০ সুপারনোভা’র ফ্ল্যাশযুক্ত ক্যামেরায় তোলা 😀 ) এবং হোটেল আমেনিয়া(পশ্চিববাংলা’র অধিবাসীদের জন্য)য় রুমালী রুটি ও মুরগীর ঝালফ্রাই সহযোগে অথবা চায়নাটাউনে(দিলকুশা, ঢাকা)র ফ্রাইড রাইস, ভেজিটেবল ও চিকেন কারী সহযোগে ইনশাল্লাহ আমার সাথে একত্রে দুপুরের খাবার উপভোগ করার সুযোগ। (এপার বাংলা ওপার বাংলা দুইপারের দুইজনকে বিজেতা করা হবে এই ঝালঝাড়া অনুমান অনুমান কুইজে, যিনি সবার আগে মূল ঘটনার সবচাইতে নিকটতম অনুমান/নিজ বক্তব্য করবেন তিনিই হবেন বিজয়ী)

লক্ষ্যনীয়ঃ পশ্চিমবঙ্গবাসী হলে উপহার বিজেতাকে আগামী ২৫শে ডিসেম্বরে এই পুরষ্কার গ্রহন করতে হবে। বাংলাদেশের বিজেতা বকেয়া থাকবেন, আমি দেশে ফেরবার আগে দিয়েই আপনার সাথে যোগাযোগ করবো।

আসুন মূল অভিজ্ঞতাটুকু জেনে নিই —
১৫ই ডিসেম্বর ২০১১ইং সকাল ১০:০০

মূল কাহিনীর প্রস্তুতি পর্বের শুরুটা অবশ্য আরো প্রায় দিন চল্লিশেক আগে। নিশ্চয়ই জানা আছে যে কোলকাতায় প্রায় দিন চল্লিশেক আগে সর্বশেষ বৃষ্টিপাত হয়েছিলো? তো সেই বৃষ্টির পানি আমার এক ফুপাতো বোনের বাসার ছাদে জমে গিয়ে কিঞ্চি শ্যাওলা উৎপন্ন করেছিলো। আর সেই শ্যাওলা শুকিয়ে চলটা ধরে রয়েছে এই দিন চল্লিশে। তো দিন সাতেক ধরে ভোরের কুয়াশায় সেই শ্যাওলা কিঞ্চিৎ ভিজে থাকে আর সকাল সাড়ে আটটা/নয়টা’র দিকে রোদ উঠলে সেগুলো বেশ সুন্দরই দেখায়। পায়ের নীচে পড়লে হালকা সুড়সুড়ি বোধের জন্ম দেয়। কোলকাতায় আসলে যে বাসায় আমি প্রায়শই অবস্থান করি আর যে ছাদটাতে আমি নিয়মিত সকাল বেলা হাঁটাহাটি করি। আর “ছাদটা” বললাম কেননা আমার এই বোনের বাড়ী তিনটে আর সবগুলোই চার তলা। এই ছাদটা ১নং বাড়ীর একটা ইউনিটের একতলার ছাদ। উপরের দিকে আর বাড়ায়নি বলে আমার খুব সুবিধে হয় এই ছাদটায় হাঁটতে (একটানা প্রায় ১২৫০ বর্গফুটের ছাদ), উপরি হিসেবে ছাদটা নিরাপদ, মানে চারদিকেতেই প্রায় চারফুট উঁচু দেয়ালে ঘেরা। (চারতলা গুলোর ছাদ অবদি উঠতে গেলে কলজেটা একেবারে শুকিয়ে যায়)

তো এই ১৫ই ডিসেম্বর সকালেও অন্যান্য দিনকার মতোই হাঁটাহাটির অভিপ্রায়ে ছাদে উঠেছি। বছর আষ্টেক এর এক নাতি এসে জুটলো (কোলকাতায় বর্তমানে আমার নাতি-নাতনির সংখ্যা মোটামুটি ১ ডজন :D)। “ও দাদা, এসো না ক্রিকেট খেলি?”। নাতির আবদার বলে কথা। লেগে গেলাম নাতিকে বল ছুঁড়ে মারতে। নাতি ব্যাট দুমদাম চালাচ্ছে আর আমি একটার পর একটা বল ছুঁড়ে মেরে বেশ মজা নিচ্ছি। তো পরপর নাতিকে ক্যাচ আউট করবার পর নাতি অফার দিলো ব্যাটটা হাতে নিতে। তো ব্যাটটা হাতে নিয়ে বেশ বাগিয়ে ধরে নাতির বোলিং মোকাবিলা করতে লাগলাম। কি সেলুকাস এখনো হালকা পাতলা মাটি কামড়ানো (আসলে হবে ঢালাই কামড়ানো) অফড্রাইভ, অনড্রাইভ করতে পারছি, বলের লাইনে পা যাচ্ছে মোটামুটি। মনটা বেশ চাঙ্গা হয়ে উঠছে। তো নাতি বেশ কটা বার ভালো বল করার পর একটা বল অফসাইডে স্কয়ার কাট করার মতো দিয়ে বসলো। আমার কি আর দেরী সয়? একেবারে সপাটে চালিয়ে দিলাম। সাঁ করে বল বাতাসে ভেসে ছাদের বাউন্ডারী দেয়ালে উপর দিয়ে গিয়ে আপার বাগানে গিয়ে পড়লো। নাতি ঝেড়ে এক দৌড় দিলো সিঁড়ির দিকে আর আমি ছাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়ে গেলাম। ত্রিশ সেকেন্ড বাদে নাতি বাগানের মধ্যে থেকে ছাদে বলটাকে ছুঁড়লো আর আমি সেটাকে ক্যাচ ধরতে পিছনের দিকে হাঁটতে লাগলাম। বলা নেই কওয়া নেই হুট করেই ডান পায়ে শুন্যতা অনুভব এবং শরীরের নিয়ন্ত্রন হারিয়ে পড়ে গেলাম ছাদের মেঝেতে। কি হলো কি ব্যাপারটা বুঝে নেবাই আগেই ডান পায়ের নীচে বেশ যন্ত্রনা অনুভূত হলো। ডান পা টাতে তখনো নিয়ন্ত্রন ফিরে আসেনি তাই হাত দিয়েই টেনে নিয়ে দেখি পায়ের তলায় ভেটকি মাছের মেরুদন্ডের তিনটে কশেরুকা একেবারে পুরোটা সেঁধিয়ে গেছে পায়ের তলা দিয়ে। প্রায় মিনিট ঘুরে যাবার পর মুখ দিয়ে বেরুলো — উহ!

ছাদে এতক্ষন যে দর্শকরা আমাদের দাদা-নাতির খেলা উপভোগ করছিলো তার প্রায় সবাইই আমার ভাগ্না-ভাগ্নী নইলে ভাতিজা-ভাতিজী। এর মধ্যে থেকে এক ভাগ্নী একেবারে চিলের মতো ছুটে এসে আমার পা টাকে তুলে ধরলো। তারপর দুমদাম বলা নেই কওয়া নেই দে হ্যাঁচটা টান (কাঁটাটাকে ধরে)। কাঁটা বেরিয়ে আসার বদলে ভেঙ্গে ওঁর হাতে চলে এলো (একটা কশেরুকা পুরোটাই বেরিয়ে এসেছে পুরো সোয়া ইঞ্চি সাইজে, আরেকটা ভেতরেই রয়ে গেছে গোড়া থেকে ভেঙ্গে) এবং ও পুরোই হাতে কাঁটার ভগ্নাংশটুকু ধরে হতভম্ব হয়ে বসে রইলো। এর মধ্যেই নীচ থেকে খবর পেয়ে আপা উপরে উঠে এসেছেন। উঠেই প্রথম দৃশ্য — “আমার পা থেকে রক্ত গলগলিয়ে ঝরছে”। আর যায় কোথা? ছাদ ঝাড়ু দেবার কথা বলেছিলেন সকালে যে কাজের লোকেদের তাঁদের দাবড়ে, বকাঝকা করে একাকার। এরই মধ্যে ঐ ভাগ্নী ধাতস্থ হয়েছে এবং বেশ খানদানী সাইজের একখানা সুঁচ ও শন (চিমটা) জোগাড় করে এনেছে। তারপর তুমুল উৎসাহে চললো আমার পায়ের তলায় অস্ত্রোপাচার। কাঁটার টুকরো ব্যাটা ধবধবে সাদা রং ধারন করে মাংসের সাথে মিশে থাকবার পরেও ভাগ্নীর চোখ তাকে ঠিকই খুঁজে পেলো আর চিমটার শক্ত ও মজবুত টানে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হলো।

মাগার এরই মধ্যে আমার ঠ্যাং আর আমার নেই। ব্যথায় টনটন করছে আর তা মাথার ব্যথাটাকে এমন বাড়িয়ে দিলো যে তা বলে বোঝানোর উপায় থাকলো না। বেলা এগারোটা নাগাদ জীবানুমুক্ত করে ব্যান্ডেজ বেঁধে ছেদে আমাকে নিশ্চিত করলো পাশের বাড়ীতে থাকা ডাক্তার। কিন্তু তাতে কি? ঠ্যাং এর তলা আপাতত ব্যথামুক্ত হলেও মাথার যন্ত্রনায় আমার তো ত্রাহি ত্রাহি দশা। যাই হোক কোনমতে বিকেল অবদি পার করলাম। তারপরেই হলো খেলা শুরু, গায়ে কাঁপুনি দেয়া শুরু হলো সাথে গা গরমের অনুভূতি আর হাতে পায়ে খিঁচ ধরে যাবার মতো অবস্থা। ডাক্তারকে ইমার্জেন্সী কল করা হলো। মাগরিবের নামাজ অবদি দেখলেন ডাক্তার তারপর বললেন — “করার কিচ্ছু নেই, এটিএস একটা ঢুকাতেই হবে।” যাই হোক বারো রুপি দিয়ে এটিএস অ্যাম্পুল কিনে আনা হলো সাথে পাঁচ রুপি মূল্যের ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ। দুই মিনিটে খেল খতম। ডাক্তার বাবু নিমিষেই আমার ডান বাহুতে প্রযুক্ত করে দিলেন আমার জীবনের প্রথম এটিএস (ধনুষ্টংকার প্রতিরোধক টীকা)।

এতক্ষন কাহিনীটা শোনবার পর আপনাদের মনে সেই আবারো সন্দেহ এবং ভুঁরু তিন/চার ভাঁজে কুঞ্চিত করে একটা প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছেন — “এখানে কাক (কাউয়া) এলো কোত্থেকে?”। দুশ্চিন্তার কিচ্ছু নেই উত্তর দেবার জন্য আমি এখনো বহাল তবিয়তেই আছি। তো শুনে নিন। কোলকাতার এই অঞ্চলের কাকেদের একটা বদভ্যাস হলো ও বাড়ীর হাড্ডি/এঁটোকাঁটা তুলে নিয়ে এসে এ বাড়ীর ছাদে ভক্ষন করা। তো সম্ভবত সেই রকমের একটা কাহিনী করেছে কোন কাক ১৪ই ডিসেম্বর সন্ধ্যেতেই (আমি এদিন বিকেলেই কোলকাতায় পৌঁছেছি)। আর ওই কাঁটাটা সেই শ্যাওলার মধ্যেই রয়ে গেছে যেটা ছাদ ঝাড়ু না দেবার কারনে পরিষ্কারভাবে দেখা যায়নি। আর তারপরের ঘটনা যে কি ঘটেছে তা তো দৃশ্য মিলিয়ে কল্পনার ফ্রেমে সাঁটালেই খাপে খাপে মিলে যাবে। তাই না? 😀

Posted in খেয়াল করুন, জেনে রাখুন, দেশ ও জাতির প্রতি দ্বায়বদ্ধতা, প্রযুক্তি নিয়ে আউলা চিন্তা, ভালো লাগা, ভালোবাসা

“বারক্যাম্প”??? !!! বিষয়ডা কি? খায়? মাথায় দেয়? নাকি…


‘ক্যাম্প’ শব্দটা শোনামাত্রই মিনিমাম কান্ডজ্ঞান সম্পন্ন আর সচেতন আম্রজনতার মগজের সিন্যাপসে ক্রমাগত রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ার ফলে যে চিত্রখানি ফুটিয়া উঠিবে তাহা হইলো — “একখানি মুক্ত এলাকায় কতকগুলি তাম্বু খাটাইয়া, কতকগুলি মানবছানার, একটানা কয়েকটি দিবা ও রাত্রি অতিবাহিত করন।” তবে আমাদের আজিকার আলোচ্য বিষয়ের শেষে ক্যাম্প থাকিলেও তাহার পূর্বে একখানি অতিরিক্ত শব্দ “বার” যুক্ত হইয়াছে। ইহার প্রতিক্রিয়া হইতে পারে কয়েকরকম। প্রথমত: “ইহা কি এমন একখানি ক্যাম্প যেখানে বার থাকিবে?” মানে হইতেছে যে, “এখানে কি জনগন পর্যাপ্ত পরিমানে অ্যালকোহল যুক্ত পানীয় সেবনের অধিকার পাইবে?” এবং দ্বিতীয়ত: “নাকি ইহা এমন ক্যাম্প যেখানে সারি সারি “বার” আইমিন দন্ড দন্ডায়মান থাকিবে? আর যদি দন্ডের দন্ডায়মান অবস্থাই মুখ্য হয় তো, ক্যাম্পের উদ্দেশ্যখানি কি? কোন বার কখন হেলিয়া, কাইত হইয়া কিংবা শুইয়া পড়িতেছে তাহার অবলোকন কিংবা দৃশ্যধারন করা?” তৃতীয়ত: “নাকি ইহা ১২ জন মানুষের ক্যাম্প?”

যাই হোক অত দুশ্চিন্তা, প্রশ্ন, পাল্টা প্রশ্ন, ব্যাখ্যা, যুক্তি/তর্কে মাথা চুল তুলে ফেলে টাক সৃষ্টি কিংবা সদ্য গজানো টাকখানি চকচকে করে তোলবার সাধ আমার নাই। সোজা মূল বিষয়ে চলে আসি। “বারক্যাম্প” হলো এমন একটা মিলনমেলা যেখানে কিছু সচেতন মানুষ একত্রিত হবেন এবং পূর্বনির্ধারিত কিছু বিষয়ে সরাসরি আলোচনা ও নিজ নিজ মতামত সবাই সবার সাথে ভাগাভাগি করবেন। প্রয়োজনে কিছু লাইভ ডেমো কিংবা তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করবেন এবং এই আয়োজনটা হবে একটানা কমপক্ষে ৪৮ ঘন্টাব্যাপী। ফলাস্বরুপ পূর্বনির্ধারিত বিষয়/বিষয় সমূহে কার্যকরী কিছু পদক্ষেপ, সমাধান, দিক নির্দেশনা বেরিয়ে আসবে খুব সহজ ও সামগ্রিকপন্থায়, যা কিনা সমগ্র বিশ্বের জন্যেই হতে পারে দৃষ্টান্তস্বরুপ।

ইতিহাসের পাতা ঘেঁটে আর অত্যাধুনিক প্রযুক্তির জ্ঞানভান্ডার আন্তর্জালের জগৎ থেকে কুড়িয়ে-কাড়িয়ে যতটুকু জ্ঞানার্জন করেছি, তাতে করে বলতে পারি যে “বারক্যাম্প” প্রথমবারের মতো পৃথিবীর বুকে আয়োজিত হয়েছিলো ক্যালিফোর্নিয়ার পাওলো অল্টো তে, ২০০৫ সালের আগষ্ট মাসের ১৯ থেকে ২১ তারিখ অবদি। আয়োজন স্থল ছিলো Socialtext এর অফিস কক্ষ। মাত্র ১ সপ্তাহের পরিকল্পনায় আয়োজিত এই আয়োজনে অংশ নেন প্রায় ২০০ শতাধিক মানুষ। ২০০৬ সালেই প্রথম বর্ষপূর্তিতে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় “বারক্যাম্প আর্থ” শিরোনাম নিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে, আগষ্ট মাসের ২৫-২৭ তারিখ ব্যাপী। ২০০৭ সালে এসে পুনরায় এই আয়োজন ফিরে আসে এর প্রথম আয়োজন স্থলে। কিন্তু এবার আর সেই ছোট্ট অফিস কক্ষে কুলায়নি। প্রায় তিনটা ব্লক ব্যাসের বৃত্তের আয়তন জুড়ে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে অংশ নেয় ৮০০ র অধিক আগ্রহী। আর আয়োজনটা চলে আগষ্ট মাসেরই ১৮-১৯ তারিখ জুড়ে। ২০১০ সালের জানুয়ারীতে মিয়ানমার(বার্মা) এ অনুষ্টিত “বারক্যাম্প ইয়াংগুন” ছিলো সাড়া জাগানো। প্রায় ২৭০০ (দুই হাজার সাত শত) আগ্রহী রেজিষ্ট্রেশনের মাধ্যমে নিশ্চিত করেন তাঁর অংশগ্রহন। আজ অবদি বিশ্বের প্রায় ৩৫০ টি শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই আয়োজন। সর্বোচ্চ আয়োজনটি ছিলো ২০১১ সালের জানুয়ারী মাসেই, এতে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ৪৭০০ (চার হাজার সাত শত) মানুষ এবং এ আয়োজনটিও মিয়ানমারে আয়োজিত হয়েছিলো।

“বারক্যাম্প’ কেন অনন্য?
# কেননা এই ক্যাম্পে অংশগ্রহনকারী প্রত্যেকেই পূর্বনির্ধারিত বিষয়সমূহ নিয়ে কথা বলতে/চিন্তা-চেতনা/ভাবনা/পরিকল্পনা ভাগাভাগি করতে আগ্রহী।
# তাঁরা একে অন্যের সাথে ব্যক্তিগত পরিচিতিতে বিশ্বাসী না হয়ে একত্রে অবস্থান ও কাজ করতে আগ্রহী।
# টানা ৪৮ ঘন্টা থেকে ৭২ ঘন্টা একটা নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে, কাজ করবার মতো যথেষ্ট ধৈর্য্য ও ক্ষমতা রাখেন অংশগ্রহনকারীরা।
# তথ্যের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে আয়োজন স্থলে অাবশ্যিক উপাদান হিসেবে ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক উপলভ্য হয়ে থাকে।
# এই সম্মেলনে আজ অবদি সামগ্রিক সিদ্ধান্তগ্রহন অতি সহজেই হয়ে এসেছে এবং আগামীতেও সে ধারা বজায় থাকবে বলে আশা করা যায়।

আরো বিস্তারিত জানতে উইকিপিডিয়া’র এই আর্টিকেলটি দেখতে পারেন।

তথ্য ও প্রযুক্তিপ্রেমী কিছু বাংলাদেশী তরুন ও যুবার উদ্যোগে বাংলাদেশে এই আয়োজন প্রথমবারের মতো আগামী ১১ ও ১২ই ডিসেম্বর রবি ও সোমবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ”বারক্যাম্প ২০১১, তথ্যপ্রযুক্তি’র বাংলাদেশ” শিরোনামে, পলাশীতে অবস্থিত ফ্রেপড (FREPD) মিলনায়তনে। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৮টা অবদি দুইদিনব্যাপী আয়োজনে তথ্যপ্রযুক্তি’র বিভিন্ন বিষয় সহ আরো নানান বিষয়েই আলোচনা করা হবে।

আয়োজনটি উন্মুক্ত হলেও অংশগ্রহনকারীদের জন্য আইডি ও বিভিন্ন আয়োজন চুড়ান্ত করতে অগ্রীম নাম নিবন্ধন করা জরুরী। আর তাই আয়োজকদেরকে সহযোগীতা করতে অনুগ্রহ করে এখানে আপনার তথ্য দিন।

আয়োজনটি কোথায় হচ্ছে? কিভাবে পৌঁছুবেন আয়োজন স্থলে? দুশ্চিন্তা না করে প্রথমে ম্যাপ দেখে নিন। তারপরেও মাথায় গিট্টু ছুটলে আমার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করুন। 🙂

Posted in খেয়াল করুন, জেনে রাখুন, দেশ ও জাতির প্রতি দ্বায়বদ্ধতা, প্রযুক্তি নিয়ে আউলা চিন্তা, ভালো লাগা, ভালোবাসা

“মুক্তপ্রযুক্তি” ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান


পাইরেসির কালিমামুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে লিনাক্স এবং ওপেন সোর্স ভিত্তিক সফটওয়্যারগুলোকে ছড়িয়ে দেয়ার প্রত্যয়ে বিভিন্ন পেশাজীবি, কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবীর সংগঠন ”ফাউন্ডেশন ফর ওপেন সোর্স সলিউশনস বাংলাদেশ” বা সংক্ষেপে ”এফওএসএস বাংলাদেশ” এর আয়োজনে আগামী ১১ই অক্টোবর, মঙ্গলবার আমাদের সাংগঠনিক ফোরাম ”মুক্তপ্রযুক্তি”র উদ্বোধন হতে যাচ্ছে ।

বিকাল সাড়ে চারটা থেকে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক, বাংলাদেশের প্রযুক্তিপ্রেমীগণ মিলিত হবেন এ আয়োজনে এবং ছোট্ট একটা আলোচনা অনুষ্ঠান ও মত বিনিময় সভা শেষে সন্ধ্যে ছয়টায় কেক কেটে ফোরামের উদ্বোধনী আয়োজন পালন করা হবে।

আমাদের এ আয়োজনে আপনাকে স্ব-বান্ধবে উপস্থিত হতে আমন্ত্রন জানাচ্ছি।


রিং
মহাসচিব
ফাউন্ডেশন ফর ওপেন সোর্স সলিউশনস বাংলাদেশ

আপডেট: আয়োজনের কিছু ছবি