Posted in কিভাবে কিভাবে যেন লিখে ফেললাম, নির্বাক যন্ত্রনা, ভালো লাগা, ভালোবাসা

সাধের ময়না


বছরের শুরুতেই দেশের রাজনীতিতে আকাট অস্থিরতা। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় চরম বিভ্রাট। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উপরে পরীক্ষার খড়গের সাথে সাথে জীবন নাশ এবং নানান অনিশ্চয়তার মরণকামড়। সুযোগে ফায়দা লোটা রক্তচোষাদের কামড়ে কৃষিনির্ভর অর্থনীতির শ্রমকান্ডারি চাষীদের হাহাকার-কান্না-মরণদশা। মাঠে ফসলের দাম কম অথচ বাজারে শীতের সবজি আর মাছে অগ্নিমূল্য। সরকারী চাকুরেদের বেতন বাড়ার সুসংবাদের সাথে সাথেই জ্বালানী-বিদ্যুৎ এর দাম বৃদ্ধি। অর্থমন্ত্রী কর্তৃকই চকলেট কিংবা চুইংগামের সর্বনিম্ন খুচরা মূল্য পাঁচ টাকা নির্ধারন, অর্থাৎ সরকারী সমর্থনে জনগনের অর্থের হরিলুট বা পকেটকাটা চালু। দেশের একজন অতি সাধারণ নাগরিক হিসেবে কিছুতেই অনেকগুলো হিসেব মিলছে না, মিলিয়ে নিতে পারিনি-পারছিনা। বাধ্য হয়েই আঙ্গুলগুলো একটানা কিছুক্ষণ চালিয়ে দিলাম কি-বোর্ডের উপর দিয়ে। আর যা উৎপন্ন হলো —

মনের ময়না
ধরা, দেয়না
যত আশা মনে মনে
কথা হবে তারই সনে
আমি তাঁরে, প্রেম ডোরে
বাঁধবো রে, চিরতরে।

চোখে চোখে রাখবো তাঁরে
দূরে আর যাবে নারে
দিনে-রাতে, একসাথে
হরেক রকম বায়না
আহ রে! সাধের ময়না।

Posted in কিভাবে কিভাবে যেন লিখে ফেললাম, নির্বাক যন্ত্রনা, ভালো লাগা, ভালোবাসা

বেলা বয়ে যায়


অনেকগুলো দিন হয়ে গিয়েছিলো ব্লগটাতে কোন নতুন লেখা হচ্ছে না। কাজের চাপে সময়ই তো বের করে উঠতে পারছি না গত মাস ছ’য়েক, লিখবো কি করে। মনটাও বেশ ছন্নছাড়া হয়ে রয়েছিলো। হুট করেই এখন এই সময়ে এসে কী-বোর্ডে আঙ্গুল বসাতেই নীচের কথাগুলো মনের মাঝে ঝড় তুলে দিলো। ব্যস! লিখলাম আর সোজা এখানে ঝেড়ে দিলাম। 😉

শ্রাবণ মেঘের দিন
স্বপ্নরা রঙ্গীন,
খোলা নীল আকাশ
মুক্ত বাতাস,
পাখিদের ডাক
ঢিলে ভাঙ্গা মৌচাক,
তালগাছের ডগায়
বাবুইয়ের বাসা,
পিঁপড়ের ডিমের টোপে
ছিপে মাছের আশা।

বয়ে যাওয়া সময়
ফিরে পাওয়া যাবে না,
ফেরারী মনে একাকী রবে
বারে বারে আর আসা হবে না।

Posted in কিভাবে কিভাবে যেন লিখে ফেললাম, নির্বাক যন্ত্রনা, ভালো লাগা, ভালোবাসা

পাঁচমিশেলী রং


মাঝে মাঝেই আমার অদ্ভুত সব খেয়াল চেপে বসে। মাথার ভেতরে হুটহাট কি যেনো ঘটে যায়। খুব করে ইচ্ছে করে ছন্দ নিয়ে, শব্দ নিয়ে, কথা নিয়ে খেলতে। আজকেও তেমনটাই ঘটেছে। প্রকাশ আপনাদের সামনেই করলাম। দেখুন কি মানের জগাখিচুড়ী হলো। 😀

লাল-নীল কষ্টগুলো সব
ধূলোয় মেশাও একসাথে
এক ফুঁকেতে উড়িয়ে দাও আজ
মিলিয়ে যাক সব জীবন থেকে।

সৃষ্টি আর কৃষ্টি মাঝে
ডুবাও তুমি জীবনটারে
সৃষ্টি মাঝে হারিয়ে গিয়ে
ফের খুঁজে নাও আপনারে।

হেলায় কেন হারাবে তোমার
জীবনের সব রংগুলো
সৃষ্টি দিয়ে দুঃখ ঢাকো
মনটাকে করো সৃষ্টিভুলো।

বোকা থাকো আর
থাকো শিশু
জানাবার খিদেয় জীবন কাটাও
বাড়তে দিয়ো না, জ্ঞান-পশু।

Posted in কিভাবে কিভাবে যেন লিখে ফেললাম, নির্বাক যন্ত্রনা, বেদনার নীল রং, ভালো লাগা, ভালোবাসা

অচিনপুর


কিছু কথা, কিছু গান,
কিছু পরিচয়, অন্তঃপ্রাণ।
ছুটলো সবাই, সময়পারে,
ফেলেই আমায়, অন্ধকারে।
শুধুই একা, শুধুই আমি,
কেউ শুধায় না, একটুখানি।
শুধাবার কাল ফুরালো মোর
যেতে হবে দূর, বহুদূর
অচিনপুর।

[শরীর প্রচন্ড পরিমানে খারাপ থাকায় বিগত কয়েকটা দিন ধরেই নিজেরই একটা জরুরী বিষয় নিয়ে ধারাবাহিক, যেটা সবার সচেতনতার জন্য লিখছিলাম, তা আটকে আছে। এই কারনে মনটাও বসে গেছে। কি লিখবো, কি লিখি করে এটা বেরুলো আঙ্গুলের ডগা দিয়ে কী-বোর্ডের বোতামগুলো চেপে চেপে।]

Posted in নির্বাক যন্ত্রনা, বেদনার নীল রং

বেদনার নীল রং কতটা নীল?


১লা আগষ্ট ১৯৯৭ইং রোজ শুক্রবার, সন্ধ্যে ৬টা ২৫মিনিট
সারাটা দিন যে ভয়টা পাচ্ছিলাম ছিলাম তা অতিবাস্তব করে দিয়ে চলে গেলেন আমার দাদাজান আব্দুর রহিম জোয়ারদার। দিন সাতেক আগেই আমার এসএসসি’র ফলাফল শুনে যে দাদাজান, বাবাকে বারবার বলছিলেন, “ওকে ডাক্তার বানাস বাবুল, ওকে ডাক্তার বানাস। ওর মাথা খুব শার্প।” সেই দাদাজান নির্বাক হয়ে গেলেন আজীবনের জন্য। আমার কথাটা একটা বারের জন্যেও ভাবলেন না?

শেষের দেড় মাসে আপনার সাথে যে মধুর সময় গুলো কাটিয়েছিলাম তা বোধহয় আপনার আর কোন নাতি-নাতনিই পারেনি। আপনার আর দাদীজানের যুগলবন্দী জীবনের প্রথম দিককার কথাগুলো বোধহয় শুধুমাত্র আমার সাথেই মজার মজার কথায় ভাগ করে নিয়েছিলেন। আপনাকে বদরাগী বলে জ্ঞান করেই আপনার বড় ছেলে, আমার বাবা আজীবন আপনার থেকে দূরে দূরেই থেকে গেলেন। কিন্তু আমি জানি আপনি কতটা মজার মানুষ ছিলেন। কতটা বড় ছিলো আপনার মন আর মনের জোর। আপনার থেকে পাওয়া সেই শক্তিটাকে সম্বল করেই আজো আমি জীবনের পথে সচল। আপনি আমাকে কিছু না বলেই হুট করে চলে যেতে পারেন, কিন্তু আপনাকে আমি ভুলি কি করে বলতে পারেন?

৬ই আগষ্ট ২০১১ইং রোজ শনিবার, রাত ১১টা ৩৫মিনিট
বাসায় ঢুকলাম এই একটু আগেই। নেয়ে-খেয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়েছি মাত্রই। ফুপাতো ভাই আওরঙ্গজেব মুঠোফোনে বাবাকে গ্রামের বাড়ীতে যাবার অনুরোধ জানাচ্ছেন। রাত তিনটার দিকে বাসা থেকে বেরিয়ে আরিচা রোডে দাঁড়ালে গাড়ীতে তুলে নেবেন বলছেন। বুঝলাম মাথার উপর থেকে আরো একজন মুরুব্বীর স্নেহের-আদরের-ভালোবাসার-মমতার চিরশীতল ছায়াটা সরে গেলো।

বছর পাঁচেক হলো, বাবা সাধারনত এ ধরনের সংবাদ সরাসরি আমাকে দেন না, কমসে কম ঘন্টা চারেক পর করে মা’কে দিয়ে অনেক ভাবে বুঝিয়ে বুঝিয়ে বলান। আজো তাই। চুপচাপ বারান্দায় এসে হাঁটছিলেন। মাঝে আমার জানালায় বার দু’য়েক ঊঁকিঝুঁকি দিলেন। বাবাকে আমিই সহজ করে দিলাম — “আব্বা, কে মারা গেলেন?”

না ফেরার দেশে চলে গেলেন আমার বাবার চাচাতো বড় ভাই, আমার প্রিয় চাচাদের একজন আকমল চাচাজান, আকমল জোয়ারদার। চার বছর আগে দাদাজানের কবরে জিয়ারত করতে গিয়েছিলাম, আপনি অতি আদরে কাছে ডেকে নিয়ে আমার খোঁজ নিয়েছিলেন… খুউব মনে আছে। কাছে বসিয়ে দুপুরের খাবার খেতে বলছিলেন বারবার। আপনার আম্মা, দাদীজান তখনো বেঁচে। দু’জনেই আমার বাবাকে বাবুল নামে একডাকে চিনতে পারছিলেন কিন্তু আমার সাথে কি যেনো মেলাতে পারছিলেন না। বারবার বলছিলেন ২০০১ এ আপনাদের দেখা আমি আর ২০০৭ এর আমি নাকি এক নই। মাথার ঘন চুল গিয়ে সেখানে বিশাল চকচকে টাক, হাঁটাচলায় স্থবির আর নিস্তেজ ভাব, শারীরিক ভঙ্গিমায় অবসাদ সব মিলিয়ে আমি যেনো কেমন হয়ে গিয়েছি, ঠিক যেনো আমার বড় দাদাজানের (দাদার বড়ো ভাই) মতো হয়ে গিয়েছি।

দাদা কে তাঁর মায়ের পায়ের নীচে সেই ৯৭তে শায়িত করে আসার পরপর বড় দাদাজানও তিন মাসের বেশী টেকেননি। রোজ নিজের ছোটভাই(আমার দাদাজান)য়ের কবরে এসে দাঁড়িয়ে থাকতেন, কাঁদতেন, নাওয়া-খাওয়া হতো না।

হয়তো আমার দাদাজানের পাশাপাশি না হয়ে বরং খুব কাছাকাছিই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন প্রিয় আকমল চাচাজান। কেননা দাদাজানের পাশের জায়গাটুকু আমার প্রিয় দাদীজানের জন্য রাখা ছিলো। ঠিক তার আট বছর পর, আমার স্ট্রোকের পরপর দাদীজান সেটার স্বত্বঃত্যাগ করে দিয়েছেন, যদি আমিই তাঁর আগে বিদায় নেই তো ওটা …।
…..
শারীরিক কারনেই ওই সাক্ষাতের পরে আপনার সাথে আর দেখা করা হয়ে ওঠেনি, তাই বলে কি আমাকে এভাবেই ফাঁকি দিলেন?
…..
খুব কষ্ট পাচ্ছি চাচাজান। খুব কষ্ট। বাহিরে অঝোরে ঝরছে বারিষধারা, সাথে আমার চোখেও। জল নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থাতেও কোন গন্ডগোল হচ্ছে মনে হয়।
…..
আল্লাহ আপনাকে ওপারে চিরশান্তিতে রাখুন। …