Posted in খেয়াল করুন, জেনে রাখুন, দেশ ও জাতির প্রতি দ্বায়বদ্ধতা, ভালো লাগা, ভালোবাসা

বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ৮)


তারিখ: ২৯শে-জুন-২০১২ইং

অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে “উইন্ডোজ” অপারেটিং সিস্টেম কে আমি “খিড়কী” বা “জানালা” নামে ডাকতেই স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করি। আমার এ লেখায়ও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। ব্যক্তিগতভাবে কেউ যদি লেখাটা পড়ে আহত হোন বা কষ্ট পেয়ে থাকেন তো সেইজন্যে আমি আন্তরিকভাবেই দুঃখিত। কিন্তু করার ও তো কিছু নেই। আমার লেখায় যদি আমিই শান্তি না পাই তো লিখবো কি করে‍‍? এই কাজটুকু করাই হতো না যদি না “প্রজন্ম ফোরাম” আর “উবুন্টু বাংলাদেশ” এর মেইলিং লিস্টে কিছু মানুষের ভুল ধারনা কে ভেঙ্গে দিতে কিছু কঠিন মন্তব্য না করতাম আর সেখানে আমাদের গৌতম দা আমাকে এই বিষয়ে বিশদভাবে লেখার জন্য উৎসাহ না দিতেন। গৌতম রয় কে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার ভেতরের আমি কে টেনে-হেঁচড়ে বের করে নিয়ে আসবার জন্য।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ লেখাটি আমি পর্ব আকারে বিগত ২৯শে ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী প্রতিটি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে প্রকাশ করতে চেষ্টা করেছি। শারীরিক অসুস্থতার কারনে মাঝের কিছু পর্বের প্রকাশকাল আমার পক্ষে ঠিক রাখা সম্ভব হয়নি। এজন্যে আমি আমার লেখার সকল পাঠকের কাজে আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি। আজ প্রকাশিত হলো লেখার অষ্টম ও শেষ পর্ব। পাঠক সমালোচনা এবং মতামতের ভিত্তিতে আমার নিজ বক্তব্যের প্রকাশ নিয়ে এই পর্ব রচিত হলো।

আপনার আগ্রহ থাকলে একটু সময় করে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম [ক] ও সপ্তম [খ] পর্বের লেখাগুলো পড়ে নিতে পারেন।

আমার এই লেখার পূর্বে প্রকাশিত পর্বগুলো —
বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ১) প্রকাশিত হয়েছিলো বিগত ২৯শে ডিসেম্বর ২০১১ইং, বৃহস্পতিবার রাত্রে।
বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ২) প্রকাশিত হয়েছিলো বিগত ৫ই জানুয়ারী ২০১২ইং, বৃহস্পতিবার রাত্রে।
বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ৩) প্রকাশিত হয়েছিলো বিগত ১২ই জানুয়ারী ২০১২ইং, বৃহস্পতিবার রাত্রে।
বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ৪) প্রকাশিত হয়েছিলো বিগত ১৯শে জানুয়ারী ২০১২ইং, বৃহস্পতিবার রাত্রে।
বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ৫) প্রকাশিত হয়েছিলো বিগত ৩১শে জানুয়ারী ২০১২ইং, মঙ্গলবার রাত্রে।
বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ৬) প্রকাশিত হয়েছিলো বিগত ১৬ই ফেব্রুয়ারী ২০১২ইং, শুক্রবার রাত্রে।
বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ৭[ক]) প্রকাশিত হয়েছিলো বিগত ৩১শে মার্চ ২০১২ইং, শনিবার রাত্রে।
বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ৭[খ]) প্রকাশিত হয়েছিলো বিগত ১৪ই মে ২০১২ইং, সোমবার রাত্রে।

আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন যে, ফাউন্ডেশন ফর ওপেন সোর্স সলিউশনস বাংলাদেশ (Foundation for Open Source Solutions Bangladesh বা FOSS Bangladesh) বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে মুক্তপ্রযুক্তি’র প্রসার ও প্রচারের লক্ষ্যেই বিভিন্ন ধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে বিগত ২০১১ইং সালের জানুয়ারী মাস থেকেই। আজ অবদি আমরা দেশের পাঁচটি বিভাগীয় শহর সহ বারোটি জেলা শহরে আমাদের “পেঙ্গুইন মেলা” আয়োজন নিয়ে গিয়েছি আর ছড়িয়ে দিয়েছি সাধারন প্রযুক্তিব্যবহারকারীদের মাঝে প্রযুক্তিগত জ্ঞানের আলো আর শিক্ষনীয় সচেতনতার বিচ্ছুরনকে। প্রায় দেড় হাজার নতুন কম্পিউটার ব্যবহারকারী আমাদের এই সকল আয়োজনের মাধ্যমে মুক্ত প্রযুক্তি আর মুক্ত সফটওয়্যারের বিষয়ে জানতে পেরেছেন। নতুন এবং পুরানো মিলিয়ে প্রায় আড়াই হাজার ব্যবহারকারীকে আমরা দিয়েছি জিএনইউ/লিনাক্স ব্যবহারে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবহার সহায়তা সেবা।

সামাজিক জীব হিসেবে মানুষ নিজের সামাজিক দায়বদ্ধতা আর কর্তব্যের জায়গা থেকে অনেক কিছুই করে। অত্যন্ত ক্ষুদ্র একজন মানুষ হিসেবে আমার করনীয় কাজের অনেকগুলোই করা হয়ে ওঠে না শারীরিক নানান জটিলতা/প্রতিবন্ধকতার কারনে। আর ২০০৬ইং সালের শুরু থেকে আজ অবদি হয়তোবা খুব বেশী একটা কলম ধরবার সুযোগই পাইনি। তবে যখন যেখানে প্রযুক্তির কলম (কার্সর) ধরেছি প্রযুক্তির জগতে ব্যবহারকারীদের প্রতি বিভিন্ন সময়ে অন্যায়-অবিচার আর অসচেতনতা নিয়ে কথা বলেছি, বলছি আর বলে যাবো ইনশাল্লাহ।

আমি এই লেখাটা লিখতে শুরু করেছিলাম মূলতঃ কোলকাতার মুকুন্দপুরের আরটিআইআইসিএস হাসপাতালের বিছানা থেকে। সারাটা দিন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বসে কাটাতে খুব কষ্ট হতো। একই সাথে দেশে থাকাকালীন আমার দুরন্ত জীবনটাকে বড্ড বেশী মনে পড়তো। দেশ – দেশের মানুষের জন্য আমার কিছু করার সামর্থ্য তো খুব সামান্য। তবে প্রযুক্তি জগতে মুনাফালোভীরা আগামী দিনে আমাদেরকে কিভাবে করায়ত্ত আর দখল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তা প্রকাশ করার চেষ্টাটুকু ব্যক্ত করতেই আমার ডাক্তার খুব কম সময়ের জন্য (দৈনিক ১ঘন্টা) নেটবুক অনুমোদন করলেন। ভাগ্নেকে বলে জোগাড় করলাম টাটা ফোটনের মডেম। ব্যস! আমাকে আর পায় কে? আন্তর্জালের জগতে কিছু লেখা লিখে মানুষের জন্য কিছু বিষয় যুক্তি-তথ্য-প্রমাণ সহ তুলে ধরতে চেষ্টাটুকু তো করলাম। দেখা যাক, সময়েই বলে দেবে আমার এই সাবধানবানী কতটুকু কার্যকরী হলো।

আমি খুব ভালো করেই জানি আমি কি লিখেছি এবং লিখছি। প্রতিটা মানুষই নিজের মত প্রকাশ করে এবং সেটাকে ব্যক্তিগত মতামতই বলে। আর আমার এই লেখার আগে আমার প্রযুক্তি জীবনের প্রায় ১৪টা বছর আমি এই ধরনের কাজের সাথেই ব্যয় করে এসেছি, অভিজ্ঞতা নিয়েছি আর প্রতিটা লেখাতেই তথ্য প্রমান সহ লিখছি যেগুলো আমার নিজের মনগড়া কিছু নয়, বাস্তবতা। আজকের দিনে যখন মুক্ত সফটওয়্যারের সার্বিক সাফল্যের মুকুট পরবার সময় প্রায় হয়ে এসেছে তখনই আমি এই আন্দোলনটাকে বেগবান করতে বার্তা ছড়াচ্ছি পুরো বাংলায় (বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ উভয় বাংলাতেই)। আমি সফটওয়্যারের মুক্তি বা মুক্ত সফটওয়্যার নিয়ে কথা বলছি শুধুমাত্র সোর্স ওপেন করবার বিষয়ে নয়।

অনেকের মনেই ভ্রান্ত একটা ধারনা রয়েছে/সৃষ্টি হয়েছে যে, “ওপেন সোর্সড পন্যের মানোন্নয়নকারী (ডেভেলপার)গণ খুব দামী (কস্টলি) বা কোন একটা পর্যায়ে এসে এই সব সফটওয়্যারের মানোন্নয়নে (ডেভেলপমেন্ট)র জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয়িত হয়।” এই ভ্রান্ত ধারনাটুকু ভাঙ্গবার সহজ উপায় হলো সারা বিশ্বের উন্মুক্ত সফটওয়্যার গুলোর দিকে একটু নজর বুলানো। যদি এই উন্মুক্ত সফটওয়্যারের ডেভেলপমেন্ট খুব খরুচেই হতো তবে সারা বিশ্ব এটাকে নিতে এত মাতামাতি করতো না। এমনকি আপনাদের বিখ্যাত মাইক্রোসফটও এটাকে ছুঁয়েও দেখতো না। মাইক্রোসফট নিজের প্রযুক্তি পন্যগুলোয় বর্তমানে ওপেন সোর্স প্রযুক্তির ব্যবহার করছে। আর সেইজন্যে কিছু ওপেন প্রোডাক্টের ডেভেলপমেন্টেও সে নিজেই কিছু অবদানও রাখে। নিজের প্রয়োজনে যেখানে মাইক্রোসফট পয়সাগুনে ডেভেলপার রেখে নতুন করে সবকিছুই তৈরী করাতে পারতো সেখানে সে এই কাজটা কেন করে বলুন দেখি? কারন একটাই যে পয়সা দিতে তাঁকে এমন একটা পুরো পন্য প্রস্তুত করাতে হতো সেই পয়সায় সে শুধু বর্তমান অবস্থা থেকে মানোন্নয়ন করিয়েই নিজের কার্যোদ্ধার করে নিতে পারছে। যদি আপনি নিজে মানোন্নয়ন (ডেভেলপমেন্ট) আর খরচ নিয়ন্ত্রন (কস্ট ম্যানেজমেন্ট) না বুঝেই কোন প্রজেক্ট শুরু করে দেন তবে সেটা মুখ থুবড়ে পড়ে যেতে বাধ্য। সেজন্যে একটা উন্মুক্ত সফট বা এই প্রযুক্তিকে দুষে লাভ নেই। আরো বেশী জানতে হলে পড়ে নিতে পারেন — http://msdn.microsoft.com/en-us/library/aa338205%28v=office.12%29.aspx, http://www.networkworld.com/community/blog/microsoft-uses-open-source-make-outlook-data-

উন্মুক্ত প্রযুক্তির পন্য “লিনাক্স কার্নেল”কে একটা সময়ে ক্যান্সার বলে আখ্যায়িত করা মাইক্রোসফট ইদানিংকালে নিজের প্রয়োজনেই “লিনাক্স কার্নেল” ব্যবহার করছে নিজের পন্যে আর শুধু তো ব্যবহারই নয় নিজের স্বার্থেই এটার মানোন্নয়নেও অবদান রাখতে শুরু করেছে। আরো বেশী জানতে হলে — http://www.linuxfoundation.org/news-media/announcements/2012/04/linux-foundation-releases-annual-linux-development-report পড়ে নিন।

অনেকেই জানেন না যে তিনি নিজেও আজকাল যে ফোরাম/ব্লগে কথা বলছেন/মত প্রকাশ করছেন, এটার সার্ভার থেকে শুরু করে আপনার পর্যন্ত আসা সার্ভিসের প্রতিটা অংশই কিন্তু মুক্ত সফটওয়্যারের কল্যানেই। আজকে বাংলার ছেলেরা যে আউটসোর্সিং করে দেশের অর্থনীতিতে অবদানের পাশাপাশি নিজের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাচ্ছে সেগুলো যদি উন্মুক্ত সফটওয়্যার না হয়ে প্রথমে কিনে, তারপর জ্ঞানার্জন করে, তারপর কামাই করতে হতো তো পরিস্থিতিটুকু বুঝে দেখেন তো কি হতো?

মজা করে “ঘি’ খাবো কিন্তু ঘোষের গায়ে “ঘি’ এর তৈলাক্তভাব আর গন্ধটুকু লেগে থাকে বলে তাকে ঘৃনা করবো এমন মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে।

আবার অনেকের মনেই ভ্রান্ত একটা ধারনা রয়েছে/সৃষ্টি হয়েছে যে, “ওপেন সোর্সড পন্যের ব্যবহারকারীগণ বিশেষ কোন গোত্রের মানুষ। হয় তাঁরা খুব উঁচু স্তরের জ্ঞানী মানুষজন কিংবা অন্য গ্রহের কোন প্রাণী (এলিয়েন)।” অতি সাধারন ও সহজ একটা উদাহরন টানি — আমার এক নাতির বয়েস সাড়ে তিন বছর। ও এই সাম্প্রতিক সময়ে মাত্র ১৫ দিন (আমার এই ধারাবাহিকটির লেখা শুরু করবার পূর্বেই) আমার ল্যাপটপ ব্যবহার করেই কম্পিউটারে মজা পেয়ে গিয়েছে এবং বেশ মজা করেই ও সেটাকে চালনা/নিয়ন্ত্রন করতে পারে। আজ অবদি ওকে কোন ভুল বাটনে ক্লিক করতে আমি দেখিনি। ও এখন নিজে নিজে শিক্ষনীয় কার্টুন গুলো বের করে, গেমস খেলে এবং কাজ শেষ কম্পিউটার বন্ধও করে নিয়মমাফিক। আর এসবই করে ও আমার ল্যাপীর ওএস “লিনাক্স মিন্ট ১০ জুলিয়া” ব্যবহার করেই।

অনেকের আমার লেখায় মন্তব্য করতে চেষ্টা করেছেন যে, “কেন এইভাবে উন্মুক্ত ব্লগে নতুন আসা একটা প্রযুক্তি নিয়ে এত ঝড় তুলছি? কেন এতদিন পরে এসে এই সব কথা লিখছি/বলছি? কে আমাকে বিশেষভাবে ভাড়া করে এনে ব্লগে এইসব লিখতে দিয়েছে? ………..ইত্যাদি” প্রত্যুত্তর আমি করেছি আমার লেখার শুরুতেই। অারো বলবো — “ভাড়া করা মুক্তিযোদ্ধা দেখেছেন কোন দেশে? কিংবা ভাড়া করা ভাষা সৈনিক? যাঁরা কি না অকাতরে নিজের দেশ আর ভাষার জন্য জান কুরবার করতে দ্বিধান্বিত নয়।” জেনে রাখুন — “ভাড়ায় সব পাওয়া গেলেও সচেতন মানুষ পাবেন না।” ভাইরে! আমি নিজে যেহেতু এই প্রযুক্তির ব্যবহারে উপকার পাচ্ছি, দেশের জন্য, আমজনতার জন্য উপকার দেখতে পাচ্ছি তাই এটা নিয়ে বলছি, সাথে আছি এবং থাকবোও ইনশাল্লাহ।

অনেকেই বলতে চেয়েছেন, “আমি যে প্রতিষ্টানে চাকুরী করি সেটার মালিকও নাকি আমি, আবার শ্রমিকের বেতন ভাতা সময়মতো হয় কিনা কিংবা কমবেশী হয় কি না তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। অফিসে নাকি ‘খিড়কী’ ব্যবহার করে, পাইরেটেড সফট ব্যবহার করে আর এই ব্লগে এসে মুক্ত প্রযুক্তি নিয়ে ফড়ফড় করি সেটাও বলতে চেষ্টা করলেন।” এঁদেরকে কিছু বলবার দরকার মনে করি না। কারন এঁরা দুই লাইন বেশী বোঝা পাবলিক। যতটুকু জানেন তার চাইতে বোঝেন বেশী আর মন্তব্য করেন তার চাইতেও বেশী। আরে ভাই যদি এতই মনে খুঁত-খুঁতানি থাকে তো ব্যক্তিগত/রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অনুসন্ধান পরিচালনা করে দেখুন আমি ও উন্মুক্ত প্রযুক্তির আন্দেলনে আমার অংশগ্রহণ নিয়ে। দুমদাম মন্তব্য করে নিজেকে বোকার প্রমাণ করবার দরকার কি? এভাবে নিজেই নিজেকেই অপমানিত করবেন না।

অনেকেই আবার “পশ্চিমা গন্ডি ভাঙ্গবার ডাক দিয়েছেন। কেউ কেউ তো আবার অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট নামক আন্দোলনের সাথে উন্মুক্ত প্রযুক্তিকে গুলিয়েও ফেলেছেন।” উন্মুক্ত প্রযুক্তি নতুন কমিউনিজম বা বামপন্থী রাজনীতির কোন ফসল নয়, কিংবা ঐ ধারনাপ্রসুত ও নয়। আমরা সবাই স্কুল জীবনে টিফিন আমাদের বন্ধুদের সাথে ভাগাভাগি (শেয়ার) করতাম। নিজের বই, লেখা এমনকি জামা-জুতো অবদি এই ভালোবাসা প্রকাশ পেতো। আর আজ এসে যদি আমাকে হুট করেই কেউ বলে বসে যে ভাই তোমার কাছে আমি যে সফটওয়্যার বেচেছি তা শুধুই তোমার জন্য তোমার বাবা-মা-ভাই-বোন কারো জন্যেই নয়। আর বন্ধু-বান্ধব সে তো বহুত দূর। বলুন দেখি এটা মানি কিভাবে? আর এই ধারনা ভেঙ্গে দিতেই আমাদের এই উন্মুক্ত প্রযুক্তির আন্দোলন। এটা কোনভাবেই কোনরূপ রাজনীতি নয় বরংচ আমার অধিকার আদায় করে নেবার একটা আন্দোলন। আমরা যেহেতু আমাদের নিজেদের জন্য নিজেদের সফটওয়্যার গুলো তৈরী করে নিচ্ছি, নিতে শিখছি এবং শেখাচ্ছি তাই এমনিতেই এই প্রযুক্তির প্রভাবে আমরা আমাদের সফটওয়্যারের স্বাধীনতা বা মুক্তি নিশ্চিত করতে পারছি। আরো বেশি করে জানতে হলে জেটিএস ম্যুর পরিচালিত “আরওএস” বা “রেভুল্যুশন ওএস” চলচ্চিত্রটি আগ্রহী সবাইকে দেখে-শুনে-বুঝে নেবার আহ্বান জানাবো।

বেশ কিছু মন্তব্য পেয়েছিলাম যে, “আমি নিজে কম্পিউটারে হাতেখড়ি নিয়েছি কি দিয়ে/কোন সফটওয়্যার/ওএস ব্যবহার করে? যদি “খিড়কী” না থাকতো তবে আমি কি করতাম/করেছি? নতুন একটা ওএস তৈরী করে নিয়েছি কি না।” এইরূপ প্রশ্নের উত্তর আমি দিয়েছি বিভিন্ন বাংলা ফোরামে। তদুপরি এই মন্তব্যকারীদেরকে বলতেই হচ্ছে যে, অনুগ্রহ করে “লিনাক্স” কার্নেলের জন্মকথাটা বিভিন্ন বাংলা ব্লগ/ফোরামে পেয়ে যাবেন। একটু দেখে/পড়ে আসুন। আর আমি নিজে কম্পিউটার ব্যবহার করা শিখেছি ১৯৯৭ সাল থেকে আর ১৯৯১ সালেই জন্ম নিয়েছিলো “লিনাক্স কার্নেল”।

কাউকে কাউকে দেখলাম প্রচন্ড মাত্রার উৎসাহী এবং বলতে যে, “সারা বিশ্বে মাইক্রোসফটের পন্য ব্যতীত আর কোন পন্য নাকি কর্পোরেট দুনিয়া-স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবহৃত হয়ই না। আর তাই আমার এই মতামতগুলো শুধুই বিরূপ মন্তব্য। পশ্চিমা কর্পোরেট দুনিয়ার দাপটেই নাকি আমাদের এই আন্দোলন মুখ থুবড়ে পড়ছে।” এই উৎসাহী জনতার জন্য ছোট্ট কুইজ — বলুন দেখি লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার বা এলএইচসি প্রকল্পের জন্য ব্যবহৃত ওএস/অপারেটিং সিস্টেম কোনটি/কোন প্রযুক্তির? কিংবা ফ্রান্সের পুলিশ বিভাগ, জার্মান সরকারের দপ্তর আর ভারতের আইন বিভাগের দপ্তরগুলোতে ব্যবহৃত ওএস/অপারেটিং সিস্টেমটা কি/কোন প্রযুক্তির?। বাংলাতেই লেখা একটা ফোরাম টপিকের লিংক দিচ্ছি — http://forum.projanmo.com/topic26412.html আশা করি যে আপনারা সময় করে পড়ে নিবেন। আরো বেশী জানতে হলে ঐ লেখার শেষেই উইকিপিডিয়ার লিংক পেয়ে যাবেন। আশা রাখি যে তাতে আপনাদের ভ্রান্ত কিছু ধারনা পুরোপুরিই ভাঙ্গবে।

অনেকে আমাকে বলতে চেষ্টা করেছেন যে, “আমি নাকি মাইক্রোসফটের প্রতি ঘৃনা থেকে কিংবা হিংসাপ্রসুত হয়ে এই লেখা লিখেছি।” কিন্তু মূলত বিষয়টা হলো আমরা কিভাবে মনোপলি বা একচেটিয়া ব্যবসায়িক মুনাফা লোভীদের বলি হতে চলেছি তা নিয়ে সাধারনকে সচেতন করতে চেষ্টা চালিয়েছি আমার এই লেখায়। এখন যদি তথ্য-প্রমাণের বেশির ভাগই চলে যায় মাইক্রোসফট আর তাঁর পন্যের বিরুদ্ধে তাহলে তাঁকে তো আমি পছন্দ করতে পারি না তাই না? আর যেহেতু এই জগতের সাথে আমার সম্পর্ক প্রায় এক যুগেরও বেশী তাই এই জগতটার নোংরামি আর ভালো দিক দুটোই আমার তুলে ধরা কর্তব্য মনে করেছি এবং এই লেখাটা লিখেছি। মাইক্রোসফটকে সফটওয়্যার জায়ান্ট বলে মুখে ফেণা তুলে ফেললেই হবে না, তাঁর অপকর্মের সমালোচনা/নিন্দা করাটাও তাঁর অন্যায়গুলোকে প্রতিরোধ করবার একটা ভাষা/আন্দোলনের পদক্ষেপ। আর এটুকু করতে গিয়ে যদি “চোর কে চোর বললে যদি চোর/চোরের সাগরেদরা মাইন্ড করে” তাহলে তো সেখানে আমার করার কিছুই নাই। আমি “চোর” কে “চোর”, “ডাকাত” কে “ডাকাত”ই বলবো। আর বলবার সাথে সাথে আমি তো তথ্য-প্রমাণও উপস্থাপন করে দিচ্ছি, পারলে সেগুলো মাইক্রোসফট কিংবা তাঁর সহযোগীগণ খন্ডন করুন।

আপনারা জানেন যে, “এইডস” একটি মহামারী। যা একসময় বানর থেকে ছড়িয়েছিলো মানুষে আর এখন মানুষ জাতিকে নিজের স্বেচ্ছাচারী জীবনযাপনের মাসূল একেবারে সুদে-আসলে দিতে হচ্ছে। সচেতনতা আর নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনই পেরেছে এই মহামারীকে প্রতিহত করতে, মানুষের নিয়ন্ত্রনে আনতে।

ঠিক তেমনি আমার এবং বিশ্বের সচেতন সফটওয়্যার প্রকৌশলী, তথ্যপ্রযুক্তিবিদ আর তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের নজরে ঐরূপ একটা মহামারী হচ্ছে “মাইক্রোসফট” আর এঁর পন্য। চটকদার পন্য বিপনন ব্যবস্থা আর নতুন নতুন ষড়যন্ত্র আর প্রতারনার ফাঁদসমূহ, যা ধ্বংস করছে জ্ঞানের বিকাশ মাধ্যমগুলোকে। জোরপূর্বক/অবৈধ পন্থায় করায়ত্ত করতে চাইছে আমাদের প্রযুক্তি জীবনের আনন্দ-সুখ-স্বাচ্ছ্যন্দকে। আর তাই আসুন নিজে সচেতন হই, অপরকে সচেতন করি।

সুদীর্ঘ ছয়টি মাস ধরে এই লেখা পড়ে, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মন্তব্যের মাধ্যমে আমার লেখাকে এগিয়ে নিতে সহায়তাকারী সকল পাঠক-সমালোচনদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। রিপন মজুমদার ভাইয়ের অনুরোধে এই লেখাটির একটা বুকলেট তৈরী করবো ইনশাল্লাহ আসন্ন ২০১৩ইং সালের ‘অমর একুশে’র বইমেলাতেই। আগামীতে এইরূপ আন্দোলনের সাথে যেনো নিজেকে সর্বক্ষন জড়িয়ে রাখতে পারি আর তথ্য-উপস্থাপনার মাধ্যমে দেশের জনগনের জন্য নিজের সীমিত সামর্থ্যের ব্যবহার করে কিছু করতে পারি সে দোয়াই চাইছি আপনাদের সকলের কাছ থেকে।

আজকে এই পর্বটি প্রকাশ করার মাধ্যমে আমি এই ধারাবাহিকের ইতি টানছি এবং একই সাথে সবাইকে নিজ নিজ ব্লগে এবং ওয়েব সাইটে আমার এই লেখাটি অন্য সবার সাথে ভাগ করে নেবার অনুমতি দিচ্ছি (পাবলিক ফোরামগুলোয় লেখাটা শেয়ার করবার পূর্বে সতর্ক থাকুন, ব্যক্তিগত আক্রমনের শিকার হতে পারেন)। তবে শর্ত হলো মূল লেখা এবং লেখক সত্ত্বঃটুকু হুবহু বজায় রেখে পুরো লেখাটুকু (প্রথম থেকে অষ্টম পর্ব অবদি পর্বাকারে না হয়ে বরংচ একত্রিতকরণপূর্বক একক লেখা হিসেবে)ই প্রকাশ করতে হবে এবং তা আমার এই ব্লগের ন্যায় ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সের নন কমার্শিয়াল-শেয়ার অ্যালাইক ধারা-উপধারার অধীনেই প্রকাশ করতে হবে। কোন কিছু বুঝতে অসুবিধা হলে সরাসরি আমার সাথে মুঠোফোন এবং ইমেইলে যোগাযোগে দ্বিধা করবেন না যেনো।

Advertisements

লেখক:

রান্না করা, মোবাইল প্রোগ্রামিং, কম্প্যুটিং, ক্রিকেট

One thought on “বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ৮)

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s