Posted in খেয়াল করুন, জেনে রাখুন, দেশ ও জাতির প্রতি দ্বায়বদ্ধতা, ভালো লাগা, ভালোবাসা

বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ৫)


তারিখ: ৩১শে-জানুয়ারী-২০১২ইং

অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে “উইন্ডোজ” অপারেটিং সিস্টেম কে আমি “খিড়কী” বা “জানালা” নামে ডাকতেই স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করি। আমার এ লেখায়ও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। ব্যক্তিগতভাবে কেউ যদি লেখাটা পড়ে আহত হোন বা কষ্ট পেয়ে থাকেন তো সেইজন্যে আমি আন্তরিকভাবেই দুঃখিত। কিন্তু করার ও তো কিছু নেই। আমার লেখায় যদি আমিই শান্তি না পাই তো লিখবো কি করে‍‍? এই কাজটুকু করাই হতো না যদি না “প্রজন্ম ফোরাম” আর “উবুন্টু বাংলাদেশ” এর মেইলিং লিস্টে কিছু মানুষের ভুল ধারনা কে ভেঙ্গে দিতে কিছু কঠিন মন্তব্য না করতাম আর সেখানে আমাদের গৌতম দা আমাকে এই বিষয়ে বিশদভাবে লেখার জন্য উৎসাহ না দিতেন। গৌতম রয় কে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার ভেতরের আমি কে টেনে-হেঁচড়ে বের করে নিয়ে আসবার জন্য।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ লেখাটি আমি পর্ব আকারে বিগত ২৯শে ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী প্রতিটি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে প্রকাশ করছি এবং করবো ইনশাল্লাহ। তবে বিগত বৃহস্পতিবারে (২৬শে জানুয়ারী) পঞ্চম পর্বটি প্রকাশ করতে পারিনি। কেননা আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং অতিরিক্তমাত্রার যন্ত্রনাভোগ করেছি এই কটা দিন। তাই আমি আপনাদের সবার কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আজ একটু সুস্থবোধ করছি আর তাই প্রকাশ করলাম লেখার পঞ্চম পর্ব। অষ্টম পর্বে লেখার উপসংহার প্রকাশ করার ইচ্ছে রয়েছে। আপনার আগ্রহ থাকলে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ পর্বের লেখাগুলো একটু সময় করে পড়ে নিতে পারেন।

আজকের লেখায় আমি, মাইক্রোসফট কর্তৃক ৫। আদর্শমানসমূহের অপব্যবহার (Abusing Standards) বিষয়ে যথা সম্ভব সহজ ভাষায় কিছু কথা বলতে চেষ্টা করেছি। আশা রাখি আজকে কিছু বিষয় চিরস্থায়ী রূপে আপনাদের মনে গেঁথে দিতে সক্ষম হবো।

“আদর্শমান” কি? আমি জানি আমার আজকের এই লেখারটুকুর বিষয়বস্তু দেখেই অনেকেরই মনে এই প্রশ্নটা জেগে উঠেছে। মাইক্রোসফটকে সবাই প্রযুক্তির জগতে একটা মহীরূহ ধরে নেন এবং তাই একান্ত মনেই হয়তোবা এটাও কল্পনা করে থাকেন যে মাইক্রোসফটই হলো আসলে নতুন নতুন সব প্রযুক্তির পথপ্রদর্শক, সৃষ্টির সূতিকাগার। কিন্তু আসলে বিষয়টা ঠিক উল্টো। “মাইক্রোসফট” এর পন্যগুলোর চেহারা থেকে শুরু করে সুবিধা/বৈশিষ্ট্য আর বিপননের ইতিহাস ঘাঁটলেই দেখতে পাবেন যে আসলে মাইক্রোসফট সব সময়েই কোন একটি প্রতিষ্ঠানের পন্যকে নকল করেছে কিংবা প্রযুক্তি ধার করে এনে খুবই লোভনীয় মূল্যে আর স্বল্পতম সময়ে বাজারজাতের খেলায় মেতেছে। আর এই স্বল্প সময়ে যেহেতু সে প্রযুক্তিটা সে বাজারে ছাড়ছে এবং যেহেতু প্রযুক্তিটা তাঁর তৈরীকৃত নয় তাই এই প্রযুক্তির ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো তাঁর সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার পন্যগুলোতে রয়েই গেছে, সেই শুরু থেকে আজ অবদি।

আমরা তো সবাই নিশ্চয়ই জানি যে, খাদ্যবস্তুর মানদন্ডের বিচারে “দুধ (Milk)” কে বলা হয় আদর্শ খাবার। কেননা একজন পূর্ন বয়স্ক মানুষের দৈহিক পুষ্টিচাহিদার প্রায় সবটুকুই এই দুধে পাওয়া সম্ভব। তাই যখন দুধকে আদর্শ খাবার বলা হয় তাহলে —

১. নিশ্চয়ই গরু কিংবা ছাগল কিংবা ভেড়া কিংবা উট কিংবা এই রকম দুগ্ধদানকারী প্রানীগুলোকেই আদর্শখাবারের ভান্ডার হিসেবে ধরে নেয়া যায়?

২. যদি মানব শিশু কিংবা অন্য কোন প্রানীর বাচ্চার বিষয়ে দুধ কে খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয় তো সেক্ষেত্রে নিশ্চয়ই ঐ শিশু কিংবা প্রানীর বাচ্চাটার মায়ের বুকের দুধকেই বেশী প্রাধান্য দেয়া হবে?

৩. যদি মায়ের বুকের দুধই বাচ্চার জন্য প্রধান এবং আদর্শ খাদ্য হয় একটা নির্দিষ্ট সময় অবদি আর যদি কোন কারনে সেটার অভাব ঘটে তাহলে কি বাচ্চাটার শারীরিক আর মানসিক বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না?

৪. যদি এমনটাই হয় যে মা এই সদ্যজাত বাচ্চাটাকে নিজের অসুস্থতার কারনে অন্য কোন বাইরের খাবার কিংবা অন্য কোন প্রানীর দুধ খাওয়ালেন, তাহলে কি ঐ বাচ্চা তাঁর জন্য নির্ধারিত পুষ্টিটুকু পেয়ে যাবে?

৫. গোয়ালা বা দুধওয়ালা যদি আপনাকে খাঁটি দুধ না দিয়ে ভেজাল দুধ দেয় তো সেক্ষেত্রে বাচ্চাটার উপকারের স্থলে কি বিরাট ক্ষতি হবার সম্ভবনা থাকে না?

৬. আর যদি সেই পুষ্টিটুকু পূরন করা না যায় কিংবা মা যদি বাইরের কোন খাবার কিনতে অক্ষম হন আর বাচ্চাকে নিজের সেই অসুস্থ শরীরের দুধই বাচ্চাটাকে দিতে থাকেন তো বাচ্চাটার জন্য সেটা কি উপকারী না অপকারী?

এবারে যদি সেই “মা” এর স্থলে “সাধারন কম্পিউটার ব্যবহারকারী বা আপনার নিজেকে”, “বাচ্চা”র স্থলে “আপনার প্রিয় ডেস্কটপ/ল্যাপটপ/নেটবুক/ট্যাবলেট”কে, “গোয়ালা/দুধওয়ালা” হিসেবে “মাইক্রোসফট” কে, আর “দুধ” হিসেবে “সফটওয়্যার”কে বিবেচনা করা হয় তো আপনি নিজেই পরিস্থিতিগুলো বিবেচনা করে দেখুন তো “দুধের” ভেজাল বা ত্রুটির ঘটনার ফলাফল অবশেষে কি দাঁড়াচ্ছে? আর পরিস্থিতি সামাল দিতে তাহলে বর্তমানে আপনার করনীয় কি? আশা রাখি এই সমস্যাগুলোর সবচাইতে কার্যকরী ও সহজতর সমাধান এই লেখার বাকি অংশ পড়তে পড়তেই পেয়ে যাবেন। 🙂

প্রযুক্তির দুনিয়ায় “আদর্শমান” সমূহ কি? খুব সহজ-সরল ভাষায় বললে — প্রযুক্তির বিষয়গুলোকে ব্যাখ্যা করা এবং যান্ত্রিকরূপে একে সামগ্রিকভাবে সব প্রতিষ্ঠানকর্তৃক একইভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে সকল প্রযুক্তিপন্য ব্যবহারকারীদেরকেই একে অপরের সাথে তথ্যের আদান-প্রদান এবং ব্যবহার সহজীকরণের জন্য যে নীতিমালা করা হয় সেটাই “প্রযুক্তির দুনিয়ায় আদর্শমান”রূপে চিহ্নিত হয়ে থাকে।

তার মানে হলো এই আদর্শমান সকল প্রযুক্তিপন্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের জন্য সমান ব্যবসাক্ষেত্র সৃষ্টি করে থাকে। এবং সকল প্রযুক্তিব্যবহারকারীদেরকে বেছে নেবার সুযোগ সৃষ্টি করে যেনো তাঁরা নিজের পছন্দমতো নিজের পছন্দের সফটওয়্যার/হার্ডওয়্যারটি কিনতে/ব্যবহার করতে পারেন। একই সাথে এই আদর্শমান নিশ্চিত করে থাকে তথ্যের সুরক্ষা এবং আগামীদিনের প্রযুক্তির সাথে তথ্যের সামঞ্জস্যতাকে। যেনো আগামীতে ঐ ব্যবহারকারী একই প্রতিষ্ঠানের হার্ডওয়্যার কিংবা সফটওয়্যার ব্যবহার না করেও নিজের প্রয়োজনীয় তথ্যটুকু পূর্নব্যবহার করতে সফল হন।

প্রযুক্তির দুনিয়ায় “আদর্শমান” সমূহের অপব্যবহার কি? যদি উপরোক্ত নীতিমালা বা আদর্শমান লংঘন করে কোন প্রতিষ্ঠান কোন পন্য তৈরী এবং বাজারজাত করে এবং সেটা ব্যবহারকারীদেরকে বাধ্যগত করে নতুন আসা প্রযুক্তিতে সমন্বয় কিংবা নতুন করে ব্যবহারে তো সেটাকেই সহজ ভাষায় আমরা বলবো — প্রযুক্তির দুনিয়ায় “আদর্শমান সমূহের অপব্যবহার”। আমার লেখার পরবর্তী অংশটুকু পড়বার আগে, নিজেকে অধিকতর তথ্যসমৃদ্ধ করে নিতে চাইলে পড়তে পারেন — http://www.gnu.org/philosophy/categories.html#ProprietarySoftware

“আদর্শমান” সমূহের অপব্যবহারের শীর্ষতালিকায় মাইক্রোসফটের নামটা সর্বোচ্চ অবস্থানে কেন? এটা জানতে চাইলে আসুন দেখি মাইক্রোসফট নিজের তৈরী পন্যের মাধ্যমে সে এ অবদি কি কি অ-কাজ/কু-কাজ/কুপ্রচেষ্টায় লিপ্ত ছিলো এবং রয়েছে। আপনারা তো নিশ্চয়ই বর্তমান সময়ের ইন্টারনেটের দুনিয়া সম্পর্কে বেশ ভালোরকম অবগত আছেন। আচ্ছা বলুন তো দেখি বর্তমানে ইন্টারনেটের জগতে সবচাইতে জনপ্রিয় ওয়েব ব্রাউজার কি? আমি জানি যে, এ পশ্নের উত্তরে কেউ বলবেন গুগল ক্রোম আবার কেউ বা বলবেন ফায়ারফক্সের নাম। মজার বিষয় হচ্ছে ঠিক এই রকমই দুটো ব্রাউজার হলো সাফারী আর ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার। সাফারী আর গুগল ক্রোম এর এর জাতটা মোটামুটি একই রকম। এবং কার্যপ্রনালীও প্রায় একই ধরনের। তবে গুগল ক্রোম আর ফায়ারফক্স এ দুটো ব্রাউজারই কোন সফটওয়্যার বিক্রেতা বিক্রয় করার মতো ক্ষমতা রাখে না। সাফারী বিক্রয় করে থাকে অ্যাপল আর ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার বিপনন করে থাকে মাইক্রোসফট। তবে প্রাথমিক জনপ্রিয়তার পার্থক্যের জায়গাটুকু এই বিনামূল্যের কারনে নয়। মূল কারনটাই হলো সেই “আদর্শমান”, আর সেই মতে কোন ওয়েব ব্রাউজার কোন ক্রমেই মূল ওএসএর ফাইলসিস্টেমকে পড়ার কিংবা ওএস এর সাথে এমবেডেড হতে পারবে না। কেননা এতে করে কম্পিউটারে রক্ষিত গুরুত্বপূর্ন তথ্যের ক্ষতি সাধন হবার সম্ভবনা অনেক বেশী। অত্যন্ত গুরুত্বের বিষয় হলো একমাত্র ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারটাই এই দোষে দুষ্ট এবং ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার মূল ওএস এর সাথে এমবেডেড। কি রকম? সেটা তো আমার লেখার তৃতীয় পর্বে বলেইছিলাম। তবু আজকে আপনার চাক্ষুষ প্রমাণের জন্য আরেকটু বলি। আপনি যদি “খিড়কী” কিংবা “জানালা” ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন তো আপনি আপনার পিসির মাইকম্পিউটার আইকনে ক্লিক করুন। যে উইন্ডো পেলেন তাতে অ্যাড্রেসবারে যে কোন ড্রাইভ লেটার লিখে কোলন চিহ্ন [:] দিয়ে এন্টার চাপুন। দেখবেন আপনার পিসির ঐ ড্রাইভটা ফাইল ব্রাউজারে প্রদর্শিত হয়ে গেছে। এবারে ঐ ঠিকানারবক্সটাতেই একটা ওয়েব ঠিকানা লিখুন। যেমন — http://www.google.com এবং এন্টার চাপুন। দেখবেন আপনার ফাইল ব্রাউজারটাই সংগে সংগে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারে পরিনত হয়ে গেলো এবং ঐ ওয়েব ঠিকানায় আপনাকে নিয়ে গেলো। ঠিক এই ক্রটিটুকুই মাইক্রোসফট তাঁর প্রতিটা “খিড়কী” সংস্করনের সাথে বজায় রেখে চলেছে এবং এ নিয়ে যতই আদর্শমানের অপব্যবহার হোক না কেন তা পাশ কাটাতে সে নানান ছলনার আশ্রয় অতীতে নিয়েছে, বর্তমানে নিচ্ছে এবং আগামীতেও নিতে সচেষ্ট থাকবে। আপনারা যাঁরা “সপ্তম জানালা” বা উইন্ডোজ সেভেন ব্যবহার করে থাকেন তাঁরা নিশ্চয়ই কখনো নিজ কম্পিউটারে ওএসটা ইন্সটল করার সময়ে কোন ব্রাউজার ব্যবহার করতে চান তা জানতে বা জানাতে চাইতে পারেন না? তবে এটা জেনে রাখুন যে ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন ভুক্ত দেশগুলোতে মাইক্রোসফটকে এই একচেটিয়া ত্রুটিপূর্ন আচরন বারবার করতে দেয়া থেকে বর্তমানে রহিত করা হয়েছে এবং সেখানে এই “সপ্তম জানালা” পিসিতে ইন্সটল করার সময়েই মাইক্রোসফট কম্পিউটার ব্যবহারকারীর পছন্দানুযায়ী ওয়েব ব্রাউজার পছন্দ করে নেবার বার্তা দেখাতে বাধ্য। অন্যথায় ঐ বাজারে তাঁর পন্য চিরতরে নিষিদ্ধ হয়ে যাবে এবং বর্তমান পন্যগুলোর জন্য তাঁকে জরিমানা গুনতে হবে। ওয়েব ব্রাউজার নিয়ে মাইক্রোসফটের অনৈতিকতার কিছু আপডেট পাবেন এখানে — http://www.opera.com/press/releases/2007/12/13/

আসুন ওএস এর দুনিয়া ছেড়ে মাইক্রোসফটের অফিস প্যাকেজের পন্যের ঘোটলাগুলো একটু ঘাঁটিয়ে নিই। ওপেন অফিস এবং লিব্রে অফিস হলো মুক্ত অফিস প্যাকেজের প্রকৃষ্ট উদাহরন। যা বর্তমানের প্রায় সব প্রজাতির অপারেটিং সিস্টেমে চলতে সক্ষম। এই অফিস প্যাকেজগুলো নিজের নথিগুলোর তথ্যগুলো এক্সএমএল (XML) ফরম্যাটে সংরক্ষন করে থাকে এবং একটা ভার্সনে কিংবা একটা প্যাকেজে তৈরী করা নথি অপরটিতে অতি সহজেই পড়া যায় এবং সম্পাদনা করে প্রয়োজনটুকু মিটিয়ে নেয়া যায়। মাইক্রোসফটের অফিস সফটওয়্যারের ভেতরেও নথিগুলোর তথ্য সংরক্ষন এক্সএমএল ফরম্যাটেই করা হয় তবে সেটা “আদর্শমান” কে পাশ কাটিয়ে, মাইক্রোসফটের নিজস্ব পন্থায়। ফলে মাইক্রোসফটের অফিস ডকুমেন্টের মাইক্রোসফটেরই অন্য একটা অফিস প্যাকেজের সংস্করনের সাথে কাজ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ে, অনেক ক্ষেত্রে নথিটি সম্পূর্নই পুরাতন এমএস অফিসে অকার্যকর হয়ে যায়। মাইক্রোসফট নিজের অফিস প্যাকেজে যে এক্সএমএল ফরম্যাটটা ব্যবহার করে তা উন্মুক্ত এবং অন্যদের জন্য ব্যবহার উপযোগী রাখাটা উন্নত দেশগুলোর সফটওয়্যার নীতিমালা অনুযায়ী বাধ্যতামূলক। তবে এই বিষয়টাকে সে টেকনিক্যালি বেশ চমৎকারভাবে পাশ কাটাতে নিজের তৈরী এই “অনাদর্শিক” অফিস এক্সএমএল (OOXML) ফরম্যাটে ব্যবহারের জন্য যে সহায়িকা দিয়েছে তা প্রায় ৬০০০ (ছয় হাজার) পৃষ্ঠার, যা মাইক্রোসফট ব্যতীত অন্যদের জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহারকে জটিলতম করে তুলেছে। তদুপরি ওপেন ডকুমেন্টের আদর্শমানে তৈরী করা নথিপত্রগুলো এমএস অফিসে পড়া ও সম্পাদনার ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে জটিলতা সৃষ্টি করে থাকে মাইক্রোসফট। ফলে এখানেও মাইক্রোসফট নিজের ব্যবহারকারীদেরকে নিজের নতুন পন্যগুলোর দিকে প্ররোচিত এবং অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে থাকে, একই সাথে নিজের পন্য ব্যতীত সাধারন ব্যবহারকারীর জন্য পছন্দের বিষয়টাকে সম্পূর্নই অবহেলা করে থাকে। ওপেন ডকুমেন্ট এর “আদর্শমান” কে প্রভাবিত করতে মাইক্রোসফট বিভিন্ন কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে, এমনকি প্রযুক্তির জগতের “আদর্শমান” নির্ধারন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদেরকে ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে প্রভাবিত করতে ও চেষ্টা করেছে। এ বিষয়ে আরো অধিকতর জ্ঞানার্জনের জন্য পড়ে নিতে পারেন — http://www.marketwatch.com/story/story/print?guid=C0D943C4-4ADC-471C-8F87-9181A4EC3E7B

দুষ্ট গরু নাকি শুন্য গোয়াল ? !!! সাধারন কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের মতদ্বৈততার ঠিক এই অবস্থানটুকুর কারনেই মাইক্রোসফট নিজে কোন নতুন প্রযুক্তিতে গবেষণার পেছনে ব্যয় করে খুব কম। তার চাইতে ঐ অর্থের ব্যবহার করে যদি অন্য কারো প্রযুক্তির কার্বন কপি তৈরী করিয়ে/জবর-দখল করে এনে/কোনমতে একটা কিছু তৈরী করে সাধারন ব্যবহারকারীদেরকে চটকদার আর মনোলোভা বিজ্ঞাপনের ভেলকি দেখিয়ে বোকা বানানো যায় তো তাতে অতি অল্প সময়েই নিজের ভাঁড়ারে পয়সা আসবে ভালোই। ঠিক এমনি কিছু কাজা করে যাচ্ছে ইদানিংকার চাইনিজ মুঠোফোন প্রস্তুতকারকগণ। এতো সস্তায় এখন বাজারে মুঠোফোন সেট পাওয়া যাবে যে তা মনে হয় “মুড়ি খাইলে ঠোঙ্গা ফ্রী” এর মতো একটা ব্যাপার। তবে মাইক্রোসফট কিন্তু নিজের বিপননের হিসেবে বেশ কড়া এবং পন্য যাই হোক না কেন তাঁর ক্রেতা সৃষ্টি করতে সে কিন্তু শুধুই বিপনন ব্যবস্থার ওপরে ভরসা করে না। বরংচ তাঁর কিছু পোষা প্রানী, যাঁরা আমাদের মানব সমাজের বেশ উঁচু স্তরে আসীন এবং এঁদেরকে বেশ মনভোলানো খেতাব (এমএসপি, এমসিপি ইত্যাদি) দিয়ে, বিভিন্ন আয়োজনে পুরষ্কার ও নানান রকম উপহারের মাধ্যমে এমনকি নিজের কিছু যাচ্ছেতাই মানের পন্যের বিনামূল্যের স্বত্তঃপ্রদানের মাধ্যমে (ফ্রী অব কস্ট লাইসেন্সিং) নিজের পন্যের বিপননের পক্ষে কাজ করাতে ব্যবহার করে থাকে। আর এঁরাই কিছু বুঝুক চাই না বুঝুক, যে কোন প্রযুক্তি পন্যের বিষয়ে মাইক্রোসফটের পক্ষে দালালীটুকু ঠিকঠাক করে দিতে আত্মপ।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী যেভাবে একসময় আমাদেরকে এই ভারতীয় উপমহাদেশে এসে উন্নত জীবন, শিক্ষা, প্রগতি ইত্যাদির মনভোলানো কথায় সমাজের কিছু মানুষকে কব্জা করার মাধ্যমে জনসাধারনকে বাধ্য করেছিলো গোলামী করতে ঠিক একই পন্থা বেছে নিয়ে মাইক্রোসফট ও। তবে পার্থক্য এটুকুই যে ঐ সময়ের ভুলগুলো শুধরে নিতে আমাদের প্রায় দুইশত বছর আর প্রায় কোটিপ্রানের বিসর্জন দিতে হয়েছিলো আর বর্তমান সময়ে আমাদের শিক্ষিত সচেতন তরুন প্রযুক্তিবিদদের মাধ্যমে যে ভুল আমরা করেছি, করছি এবং করতে যাচ্ছি কোন ভালো-মন্দ যাচাই-বাছাই না করে, অন্ধের মতো পথ চলতে গিয়ে আর প্রকারান্তরে পড়ছি এই বেনিয়া প্রতিষ্ঠানের খপ্পরে তার সংশোধনী আমার পরবর্তী কতো প্রজন্ম পরে হবে তা সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন।

আমার বক্তব্য পরিষ্কার — হয় মাইক্রোসফট নিজের এই অনৈতিক আচরনগুলো থেকে সরে আসবে এবং ব্যবহারকারীদেরকে নিজের পছন্দানুযায়ী কাজকর্ম করার সুযোগটুকু করে দেবে অথবা আমি নিজেই নিজের কম্পিউটারে কাজের জন্য নিজের পছন্দের সফটওয়্যার সৃষ্টি করতে চেষ্টা চালাবো। আর এই চেষ্টার শুরু আজ আমিই করতে যাচ্ছি এমনটা নয়। আমার মতো এই রকম মুক্ত আর স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য প্রাথমিক কাজটুকু সহ একটা যৌক্তিক আর সুগঠিত অবস্থান তৈরী করে দিয়েছেন রিচার্ড স্টলম্যান (http://www.stallman.org), তাঁর Free Software Foundation বা মুক্ত সফটওয়্যার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে। সাথে ১৯৯১ সালে এই আন্দোলনে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে খুব কম সময়েই নতুন এই আলোকময় পথের কান্ডারীর ভূমিকায় অবতীর্ন হন লিনুস বেনেডিক্ট টরভ্যাল্ডস (http://en.wikipedia.org/wiki/Linus_Torvalds), যাঁকে আমরা সবাই জানি/চিনি “লিনুস” নামে এবং “লিনাক্স (Linux)” কার্নেলের জনক হিসেবে।

নিজেকে আরো সচেতন করে তুলতে, প্রযুক্তির বিষয়গুলোতে আপনার অবস্থান সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে এবং শুধুমাত্র অর্থের লিপ্সাকে চরিতার্থ না করেও কিভাবে জনসেবার মাধ্যমে জীবনধারন আর ব্যবসায়িক কুটিল মনোভাবের বদলে মহৎভাবের বিকাশে মানবতার উন্নতি সাধন করা সম্ভব সে নিয়ে আরো বিস্তারিত জানতে ঘুরে আসতে পারেন — http://www.fsf.org থেকে।

আমার নিজের জ্ঞান খুবই সীমিত তবে তাতে নিজের ভালো-মন্দ বিচারের যে ক্ষমতাটুকু মহান আল্লাহ তা’য়ালা আমায় দিয়েছেন সেটুকুর ব্যবহার আর নিজ দ্বায়িত্ববোধেই আমাদের আগামী প্রজন্মের উদ্দেশ্যে কিছু সতর্কতা, কিছু সচেতনতা সৃষ্টির জন্যেই আমার এই লেখা। কবে, কখন, কার কতটুকু উপকার হবে তা জানি না। তবে আগামী প্রজন্মের জন্য আমার ছোট্ট এই প্রয়াস, যেনো সঠিক পথের শুরুর দিকের একটা আলোক নির্দেশিকা হয় সেই চেষ্টা চালাতে থাকবো।

বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ৬) প্রকাশিত হবে আগামী ২রা ফেব্রুয়ারী ২০১২ইং, বৃহস্পতিবার রাত্রে।

বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ১) প্রকাশিত হয়েছিলো বিগত ২৯শে ডিসেম্বর ২০১১ইং, বৃহস্পতিবার রাত্রে।
বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ২) প্রকাশিত হয়েছিলো বিগত ৫ই জানুয়ারী ২০১২ইং, বৃহস্পতিবার রাত্রে।
বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ৩) প্রকাশিত হয়েছিলো বিগত ১২ই জানুয়ারী ২০১২ইং, বৃহস্পতিবার রাত্রে।
বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ৪) প্রকাশিত হয়েছিলো বিগত ১৯শে জানুয়ারী ২০১২ইং, বৃহস্পতিবার রাত্রে।

Advertisements

লেখক:

রান্না করা, মোবাইল প্রোগ্রামিং, কম্প্যুটিং, ক্রিকেট

4 thoughts on “বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ৫)

  1. “জাগো বাহে, কোনঠে সবাই”- বলে এই যে লোকটা আমাদের ডেকে যাচ্ছেন, প্রতিনিয়ত- তার শারীরিক অবস্থা ভাল নয়। দীর্ঘদিন ধরে ভারতে চিকিৎসার নিচ্ছেন। আজ তাঁর শারীরিক আপডেট দেখুনঃ-

    “মাথার ব্যথাটা বেড়ে গিয়েছে। মাথার বামপাশে একটা নির্দিষ্ট স্থানেই ব্যথা করে। ডান কানে কেউ কথা বললে শুনতেই পাচ্ছি না। বাম কান ঘুরিয়ে শুনতে হচ্ছে। ডান চোখেও আস্তে আস্তে রক্ত জমছে গত পরশু থেকে। মনে হচ্ছে চোখেও কিছু একটা হবে। ডাক্তারের কাছে যাবার মতো শারীরিক পরিস্থিতিই নাই। তাই ডাক্তারকেই বাসায় আসতে বলেছিলাম। এসে, টুকটাক দেখে কিছু ঔষধ দিয়ে গেলেন। খাচ্ছি সেগুলো। দেখা যাক। দোয়া রাখেন।”

    আমাদের সকলের দোয়াই হয়তো তাঁকে সুস্থ করে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারে।

  2. হুম, আমরা অসতর্কতাবশত আমাদের অনেক ক্ষতি করছি। এজন্য কিছুটা দোষারোপ করবো আমাদের অগ্রজদের। তারা আমাদের সঠিক পথের সন্ধান দিতে ব্যার্থ হয়েছে। আমাদেরো কিছু দায়িত্ব রয়েছে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে সঠিক পথের সন্ধান দেয়ার। নয়তো তারাও একদিন আমাদের দোয়ারোপ করবে …………………

  3. ধন্যবাদ রিপন ভাইকে তার শারীরিক অবস্থা তুলে ধরার জন্য।

    আর রিং ভাইকে ধন্যবাদ এত সুন্দর করে বিষয়গুলোকে তুলে ধরার জন্য। আশা করি সবাই বাঁচতে পারবে।

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s