নির্ভীক, দৃঢ় আর স্বাধীন চেতনায় বিশ্বের যে কোন প্রান্তে


অনুকথন: মস্তিষ্ক, চোখ, কান সহ শারীরিক বিভিন্ন সমস্যায় বিরাট যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি বিগত দু’মাস যাবৎ। সেই কারনে এটা আমার ২০১৩ইং সালের প্রথম ব্লগ প্রকাশনা। বিগত বছরে (২০১২ইং) এই লেখাটা লিখেছিলাম আজকের এই বিশেষ দিবসকে উদ্দেশ্য করে। দিন দু’য়েক আগে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পথে, ট্রেনে বসে, মননের ছন্দপ্রেমিক পোকাটা নিউরনে আবারো কুটকুট করে কামড়াতে শুরু করে দিলো আর হাতে ধরে থাকা ট্রেনের টিকিটের উপরেই নিচের লেখাটুকু ঝেড়ে দিলাম। :)

ভালোবাসা ভালোবাসা
অজানা অচেনা আশা
পেতে চেয়ে আরাধনা,
সময়ের আনাগোনা।

ভালোবাসা ভালোবাসা
চামে-চিকনে কাছে আসা,
বিভ্রান্তিতে?
সর্বানাশা!

ভালোবাসা ভালোবাসা
যুক্তিতে বিরহ… দূরাশা,
আবেগে ঠাসা,
চিকিমিকি স্বপ্নে ভাসা।

ভালোবাসা ভালোবাসা
পূর্ণতা, আনন্দ, আশা,
ভ্যালেন্টাইন দিবসে তোমাকেই,
একান্তে পাশে পাওয়া।


পর্ব-১ : অতঃপর বারবণিতা

বিগত বছরের এই সময়টাতেই একটা ভয়াবহ ধারাবাহিক লেখার শুরু করেছিলাম। ধারাবাহিকটাতে দেশের প্রযুক্তি জগতের বর্তমান অবস্থা আর আগামীর ভয়াবহতাকে জ্ঞানের দৃষ্টিতে দৃশ্যায়ন করবার একটা ক্ষুদ্র প্রয়াস ছিলো। হয়তোবা আমার লেখার হাত তেমনটা নয় বিধায় আমার বক্তব্যগুলো অনেকেই বুঝে উঠতে পারেননি আবার যাঁরা বুঝেছেন তাঁদের অনেকেই হয়তোবা নিজের মানসিকতার কারনে কিংবা অন্য যে কোন কারনেই হোক এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন। কিছু কিছু মানুষ ছিলেন যাঁরা সচেতনভাবেই আমার লেখাটার গূঢ়ার্থ বোঝবার প্রয়াসে আরো বেশী পড়াশুনা করেছেন এবং নিজেরা নিজেদের প্রযুক্তিগত স্বাধীনতাকে সঠিকভাবে নিশ্চিত করতে/বজায় রাখতে সচেষ্ট হয়েছেন।

পূর্বের ধারাবাহিক লেখাটায় আমি বারংবার মাইক্রোসফট সহ অন্যান্য সফটওয়্যার জায়ান্টদের অনৈতিক আচরনের কথাগুলো তুলে ধরেছিলাম আর এবারকার এই লেখায় সেই আচরনের শিকার বা লক্ষ্যবস্তু হবার নিদারুন কাহিনীগুলো কার্যকারন সহই প্রকাশ করতে চেষ্টা করবো।

দেশের প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের জগৎটায় বিশাল এক সুনামী বয়ে গেলো এইতো মাত্র কিছুদিন আগেই। কিন্তু আসন্ন আগামীতে এই সুনামী থেকে নিজেদেরকে বাঁচাবার জন্যেই “ইচ্ছামাফিক শ্রম বিক্রয়” করবার ফাঁকে ফাঁকে লেখাটা লিখতে হাতের আঙ্গুলগুলো নিষপিষ করছিলো। কিন্তু সময়ই জোটাতে পারছিলাম না। একটা লেখা লিখে ফেলা সহজ কিন্তু তার সাথে উপস্থাপনা, তথ্যের যাচাই-বাছাই, উপযুক্ততা সব মিলিয়ে যে বিশাল হ্যাপা তা সামলে ওঠার মতো সময় কি যে কষ্টকর বিষয় তা আমাদের মতো “চিরায়ত বেকার”রা ভালোই উপলব্ধি করবেন।

যে বিষয়টা নিয়ে লিখবো সেটা শুধুই যে ব্যক্তিগত আবেগ আর প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়েই এমনটা নয়। এঁর সাথে এই দেশ তথা বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী প্রায় সকল প্রযুক্তি পন্য/সেবা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিতথ্য নিরাপত্তা জড়িয়ে আছে। আমার সামান্য ভুল বক্তব্য তাঁদের কে বিপথে চালিত করলে সে দায়টুকু নেবার মতো ক্ষমতা/সামর্থ্য আমার মতো অধমের নেই। আর সে কারনেই গত তিন রাতে দশটা থেকে তিনটা অবদি একনিষ্ঠতা আর একাগ্রতার সাথে কিছু পড়াশুনা করে জ্ঞানের চোখ দুটোর দৃষ্টিশক্তিকে একটু বেশিই শক্তিশালী করতে হলো।

আজ ১৬ই ডিসেম্বর, ২০১২ইং, মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে আমাদের সবার প্রাণপ্রিয় এই বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূর্য্যটা সবার জন্য নিশ্চিত হয়েছিলো। স্বাধীনতার সবটুকু স্বাদ আজ চারটে দশক পেরিয়েও আমরা নিজেরাই নিজেদের জন্য নিশ্চিত করতে পারিনি। অনেকেই অনেকভাবে অনেক যুক্তিতে অনড় থাকলেও আমি আমার নিজেকেই দোষারোপ করতে চাইবো। কারন আমার স্বাধীনতা আমার কাছে। কেউ সেটা এনেও দেবে না আর আমি স্বাধীনতাটুকু অর্জন করে নেবার পর সেটা অন্য আর কেউ রক্ষাও করে দেবে না। সেটা নিশ্চিত করার সম্পূর্ন দ্বায়িত্ব আমার, আমার হাতে/বুদ্ধিতে/শিক্ষায়/মননে/চেতনায়।

বর্তমান বিশ্বে আন্তর্জালিক (ইন্টারনেট) যোগাযোগ দৈনন্দিন জীবনে প্রবলভাবে বিস্তার লাভ করেছে আর ক্রমাগত সেটার প্রভাব বেড়েই চলেছে আমাদের মতো বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও। মুঠোফোনের জগৎটায় বেশ কিছু উন্নত প্রযুক্তি ছোঁয়া লেগে তা এখন বাংলাদেশে এতটাই মহামারীর পর্যায়ে পৌঁছেছে যে হয়তোবা কিছু দিন বাদে ফুটপাতের ভিক্ষুক ভিক্ষা করতেও ইয়াহু আইডি খুলবে আর ফেসবুকের ফ্যানপেজ খুলে নিয়ে প্রচারণা চালাবে। আমার আজকের এই লেখার সাথে “বারবণিতা” কিভাবে যায়/যাচ্ছে সেটা নিয়ে হয়তোবা এরই মধ্যে পাঠকের মগজের নিউরনগুলো ক্রমাগত বিভিন্ন হিসেব কষছে। আর যাঁদের এই দশা এখনো শুরু হয়নি তাঁরা সেই দিকেই যাবার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ছোট বেলায় বাবা-মা আমাদের হাত থেকে অনেক সময়ই অনেক খেলনা কেড়ে রেখে দিতেন। সেটা কি আমাদেরকে খেলনা থেকে বিরত রাখতে, নাকি খেলনার অপব্যবহারে আমাদেরকে শারীরিক দূর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষা করতে? যদি কোন ছোট বাচ্চা কোন কারনে কোন খেলনা নিয়ে খেলতে গিয়ে আহত হয় আর পরে দেখা যায় যে খেলনাটা আসলেই বাচ্চাটার জন্য বিপদজনক ছিলো তবে তাঁর দায় কার ঘাড়ে গিয়ে পড়ে/চাপে? নিশ্চয়ই ঐ সময়ে উপস্থিত ঐ বাচ্চার মুরুব্বীদের উপরেই এই দায় বর্তায়। আবার ঐ বাচ্চাটাই যদি সঠিকভাবে নিজের কাজগুলো করতে শেখে, জীবন চলার পথে যোগ্যতা অর্জন করে তখন ঐ বাচ্চার সাথে সাথে বাচ্চার বাবা-মা/মুরব্বীজনরা সকলের প্রশংসা পেয়ে থাকেন। জীবনের দৈনন্দিন বিষয়গুলোর সবকিছুই যদি এই এক বাচ্চা কেন্দ্রিকতার মতোন করে ধরে নিই তবে আরো সহজে ব্যাখ্যা করা যাবে কি? এই প্রশ্নগুলো ভেবে দেখবার প্রয়াস পেলেই বোঝা যাবে আজকের এই লেখাটা আমি যে লিখলাম সেটার পেছনে আমার মনের দৃষ্টিটা কি ছিলো আর এঁর ভেতরের প্রকাশটুকু।

আমার আজকের লেখায় প্রযুক্তি জগতে আমার “স্বাধীনতা” কতটুকু, আসুন তা বুঝে নিতে চেষ্টা করি। প্রযুক্তি মানব জীবনকে একদিকে করে তুলছে সহজতর আবার একই সাথে ঐ প্রযুক্তির অনিরাপদ/অনৈিতক/অযাচিত ব্যবহার আমাদের জীবনকে করে তুলছে অসহায়, পাংশুবর্ণ। আমি যদি প্রযুক্তির ব্যবহার জেনে-শুনে-বুঝে না করি তবে যে কোন মূহুর্ত থেকেই আমি হয়ে যেতে পারি প্রযুক্তির খেলার পুতুল। কোন একটা প্রযুক্তির সুবিধা-অসুবিধাগুলো পরিষ্কারভাবে জেনে-বুঝে যথাযথভাবে ব্যবহার না করলে সেটা হয়ে উঠবে আমারই গড়া আমার নিজের ধ্বংসের মূল অস্ত্র। কিভাবে? আসুন একটা ছোট্ট, বাস্তব উদাহরন দিয়েই মিলিয়ে নিই। আমরা কি বিগত সপ্তাহেই অত্যন্ত আশ্চর্য্যের সাথে খেয়াল করিনি যে কিভাবে বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত আলাপচারিতা প্রযুক্তি জগতটায় কিভাবে নোরাংভাবে ব্যবহৃত হলো আর তাঁর পরিনতি কি হলো?

অনেকের কাছেই এই বিষয়টা শুধুই বিব্রতকর। আবার অনেকেই হয়তোবা বলে বসবেন এটা “হ্যাকিং”। অনেকে বলবেন এটা একান্তই ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।

আসুন এবারে একটু কঠিন কঠিন শব্দের প্রয়োগ চাক্ষুস করি। প্রযুক্তি জগতের একেবারে শুরু থেকে নিয়ে বর্তমান অবদি তিনটি ধারার প্রযুক্তি বিদ্যমান। প্রথম সারিতে রয়েছে মুক্তপ্রযুক্তি, দ্বিতীয় আংশিক মুক্তপ্রযুক্তি আর তৃতীয়ত বদ্ধ বা কুক্ষিগত করে রাখা প্রযুক্তি। তৃতীয় ধারার প্রযুক্তিটিই মানুষ/সাধারন প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদেরকে বেশী আকর্ষন করে আর এখানেই চলে আসছে সেই “বারবণিতা” প্রসংঙ্গ। একজন দেহ ব্যবসায়ী কখন তাঁর দেহটাকে ব্যবসায় কাজে লাগান সেই বিষয়ে বিতর্কে না গিয়ে অতি সাধারনত তিনটি কার্যকারন উল্লেখ করা যেতে পারে — ১। একান্তই কোন সঠিক আয়ের রাস্তা না পেয়ে, ২। ধোঁকায় পড়ে, ৩। নিজের ইচ্ছেয়। তিনটা কার্যকারনের যেটাই ঘটুক না কেন উক্ত বারবণিতার শারিরীক ও মানসিক কষ্ট কিন্তু একই থাকে।

মুক্তপ্রযুক্তি ভিত্তিক বা “ফ্রী” বা “মুক্ত” সফটওয়্যার গুলোর ভেতরকার কোড একেবারে নিম্নমানের সফটওয়্যার প্রস্তুতকারক থেকে শুরু করে একেবারে উপরের সারির মানোন্নয়কারীর কড়া নজরদারীতে থাকে বিধায় এগুলো একেবারেই নিরাপদ একটি প্রযুক্তির সফটওয়্যার এবং সম্পূর্নরূপে সাধারন ব্যবহারকারীদের স্বার্থ সংরক্ষন করে থাকে। কোন পুঁজিবাদী প্রতিষ্ঠান যদি এই প্রকল্পকে কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে উদ্যতও হয় তো সেই প্রতিষ্ঠানই বিপদে পড়ে যেতে বাধ্য থাকে কারন এই প্রকল্পগুলোর পেছনের মানুষগুলো আজীবনের জন্যেই উন্মাদ/উন্মাতাল মুক্তিকামী। এঁরা সংগে সংগে বিদ্রোহ ঘোষণা করে এ পুঁজিবাদের কবল থেকে বেরিয়ে আসে এবং নিজের স্বাধীনতাকে রক্ষা করে চলে।

আংশিক মুক্তপ্রযুক্তি ভিত্তিক সফটওয়্যারগুলো বিশ্বস্ত সুত্রের হয়ে থাকলে সেটা নিরাপদ হতে বাধ্য। কেননা সেটুকু নিশ্চিয়তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ যে কোন মানোন্নয়নকারী/প্রতিষ্ঠান এই জগতটা থেকে ছিটকে যাবে। তাঁর তৈরী করা যে কোন প্রযুক্তিই পরবর্তী সময়ে আর গ্রহনযোগ্যতাই পাবে না। বিশ্বস্ত সুত্র ব্যতীত এই জগতের অন্যান্য যে সকল সফটওয়্যার বদ্ধ বা কুক্ষিগত প্রযুক্তির কাছাকাছি ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি এবং প্রলোভনে সাধারন ব্যবহারকারীদেরকে কাছে টানে।

একেবারে বদ্ধ/কুক্ষিগত প্রযুক্তিগুলোকে আমার ভাষায় আমি “বারবণিতা”। অনেকেই এহেন কথায় মনে চরম আঘাত প্রাপ্ত হতে পারেন কিন্তু মূল ঘটনা আসলেই এক “বারবণিতা”র প্রলোভনে সর্বস্ব খোয়ানো এক সরল মানুষের কাহিনী। “বারবণিতা” যেমন খুব সহজেই সরল মানুষকে আকর্ষন করে, নিজের রূপে মুগ্ধ করে এবং পরবর্তীতে “খদ্দের” এ পরিনত করে এবং আরো পরে নিজ স্বার্থ হাসিল করতে ব্ল্যাকমেইল/খুন/গুম করে ঠিক একই কাজ করার ক্ষমতা রাখে কুক্ষিগত বা বদ্ধ প্রযুক্তির সফটওয়্যারগুলো। এঁদের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের অনৈতিক আচরন করে থাকে মাইক্রোসফট এবং এঁর প্রযুক্তি ব্যবহারেই সফটওয়্যােরর মানোন্নয়নকারী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।

আমার আজকের মূল আলোচনা যে সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশের “যুুদ্ধাপরাধের বিচার ট্রাইবুনালের বিচারপতির স্কাইপি ব্যবহারে কথোপকথন ফাঁস” হবার বিষয়ে সেটুুকু আশা করি ইতোমধ্যেই পাঠক বুঝে নিতে পেরেছেন। কিছু সংবাদপত্রে এই বিষয়ে পরবর্তী দিনগুলোতে আলোচনা/সমালোচনা/প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ (লাল, নীল, হলুদ, বাদামী বিভিন্ন টুপি পড়া .. .. ..) পড়লাম, গনমাধ্যমে কিছু সংবাদ প্রতিবেদন আর আমাদের বিশিষ্ট কিছু রাজনীতিবিদের সর্বজান্তা ধরনের মন্তব্যও শুনলাম/দেখলাম আবার কিছু “টকশো” (ঝাল শো দিলেই ভালো হতো) আয়োজনেও বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতাও দেখলাম ও শুনলাম। সব মিলিয়ে সবাই “হ্যাকিং” করার বিষয়টাকেই তুমুল পরিমানে পাদপ্রদীপের আলোয় টানতে চাইলেন।

বিগত দিনেও একটা জাতীয় আয়োজনে আমাদের তথ্য সচিব জনাব এন আই খান মহোদয় বক্তব্য দেবার সময় বলছিলেন — “আশা করি আমাদের মাঝে আজকে এখানে যাঁরা আছেন তাঁরা সবাই ভালো হ্যাকার” (স্যানিটেশন হ্যাকাথন ২০১২ — বাংলাদেশ)। আবার এই বক্তব্যটার সমর্থনে দুইদিন ব্যাপী আয়োজনের পুরোটা সময় আয়োজনের সঞ্চালকদ্বয় নিজেদেরকে বেশ স্মার্ট হিসেবে উপস্থাপন করলেও ঐ আয়োজনে উপস্থিত সব “হ্যাকার”কে আদর করে “কোডার” হিসেবে ডেকেছেন। এই দুই পর্যায়ের মানুষ ছাড়াও যাঁদের মনে আমার এই বাড়তি কথাগুলো বিরক্তিকর মনে হচ্ছে তাঁদের জন্য আরো একটু বিরক্তি অপেক্ষা করছে। “হ্যাকার” == অত্যন্ত দক্ষ ও চিন্তাশীল ব্যক্তি/বর্গ এবং যাঁর নৈতিকতা ও বিবেচনাবোধ তাঁদেরকে সার্বজনীন মঙ্গলমূলক কোন কাজ ছাড়া আর কিছু করতে বাধা দেয়। এর ঠিক বিপরীতার্থক শব্দ হলো “ক্র্যাকার” == হ্যাকারের ন্যায়ই দক্ষ ও চিন্তাশীল ব্যক্তি তবে ইনার নৈতিকতাবোধ ও বিবেচনাবোধটুকু শুধুই ক্ষতিকর কাজের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ, মঙ্গলময় কিছু এঁদের দ্বারা হয় না, শুধুমাত্রই নিজের স্বার্থের জন্য এঁরা নিজের দক্ষতা আর জ্ঞানকে অপব্যবহার করতে থাকেন।

“হ্যাকিং” বিষয়টাকে আমাদের দেশীয় প্রযুক্তিতে যদি ব্যাখ্যা করা হয় তবে উদাহরনটা হবে মোটামুটি এইরকম — আমি ভাত রান্না করতে জানি কিন্তু আপনি গ্যাস নেই, চুলা নেই, ম্যাচ নেই ইত্যাদি ছুতায় আমার বাড়িতে বসে, আমাকেই আমার আহারের জন্য ভাতটুকু রান্না করতে দিতে অনিচ্ছুক/বাধা দিচ্ছেন। এমতাবস্থায় যদি আমি রাইসকুকােরর ব্যবহারে যদি ভাত রান্না করে নিই তবে সেটাই হলো “হ্যাকিং”। আর যদি এই ভাত রান্না করতে গিয়েই যদি আপনার সাথে মারামারি/কাটাকাটি তে জড়িয়ে পড়ি তো সেটা হবে “ক্র্যাকিং”। দুই ক্ষেত্রেই ভাত রান্না করা যাচ্ছে কিন্তু একটাতে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বুদ্ধিবৃত্তিক আচরনের জন্য খুশি হচ্ছে আর পরেরটাতে পরিবারের হয়তো কিছু মানুষ পেশী শক্তির প্রয়োগে খুশি হবে কিন্তু অধিকাংশ মানুষই বিরক্ত হবে এবং একই সাথে নিজের জ্ঞান ও শারীরিক সক্ষমতার অপব্যবহার হলো। আশা করি সবাই বুঝতে পারছেন যে, “হ্যাকিং” করাটা সবসময়েই মঙ্গলার্থে ছিলো, আছে এবং আগামীতেও থাকবে। পক্ষান্তরে “ক্র্যাকিং” ক্ষতিকর, ক্ষতি করে গেছে এবং করছে। আর তাই “হ্যাকার”দেরকে “ক্র্যাকার” বলে সম্বোধন করাটা চরম অপমানজনক। আর ওই যে দুই ব্যক্তি হ্যাকাথনে হ্যাকারদেরকে কোডার কোডার বলে ডেকে গলার রগ
ফুলাচ্ছিলেন তাঁদের কেউ একনজনও যদি আমার এই লেখাটা পড়ে থাকেন তো একান্ত অনুরোধ করবো আগামীতে কোন আয়োজনে এভাবে নিজেকে নগ্নভাবে সবার সামনে উপস্থাপন না করতে। কারন “কোডার”রা প্রাথমিক পর্যায়ের কম্পিউটার প্রোগ্রামার। “হ্যাকাথন” এ আপনারা “হ্যাকার”দেরকে ডেকেছেন, “কোডার”দেরকে নয়। আর যদি আপনাদের মনে বদ্ধমূল ধারনা থেকেই থাকে যে ঐ “স্যানিটেশন হ্যাকাথন ২০১২” এ কোন “হ্যাকার” উপস্থিত ছিলেন না তবে অনুগ্রহ করে আয়োজনটা বন্ধ করে দিয়ে আমাদেরকে বললেই হতো, আমরা বেরিয়ে আসতাম আর নিজেদের জ্ঞানটাকে আরো শানদার করতে সচেষ্ট হবার প্রয়াস পেতাম। সচিব মহোদয়ের বক্তব্যের প্রতিবাদ ঐ আয়োনের ঐ মূহুর্তেই আমি করেছিলাম যে কারনে ঐ আয়োজনে প্রথম রাত্রেই সঞ্চালকদের একজন হালকা পঁচানি দেবার প্রয়াসও নিয়েছিলেন। এই রকম আচরন বিগত চৌদ্দ বছর যাবৎই সয়ে আসছি আরো সইবো, তবু সঠিক কথা বলতে পিছুপা হবো না। আজকের এই লেখার পরে যাঁরা আরেকটু “বিলা” হলেন আমার উপরে তাঁদের জন্যে শুভবুদ্ধির উদয়ের শুভকামনাটুকু করা ছাড়া আমার করার আর কিছুই নাই।

আমাদের দেশের গনমাধ্যমের সকল সাংবাদিক ও সম্পাদকগণ এই “অতি ক্ষুদ্র” বিষয়টাতে একটু সচেতন হলে আশা করি আগামীর বাংলাদেশ ডিজিটাল যুগে প্রবেশের সময় তাঁর সঠিক ও সুহৃদ বন্ধুদেরকেই পাশে পাবে।

“হ্যাকার” আর “হ্যাকিং” বিষয়ক জ্ঞান বিতরন শেষে আমি মূল আলোচনা প্রারম্ভেই কিছু হালকা তথ্য উপস্থাপন করে দিচ্ছি। দেখুন তো মস্তিষ্কের নিউরনে কিঞ্চিৎ অনুরনন ঘটে কি না?

@ আগষ্ট ২০০৩ — পি২পি নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনায় উপযোগী স্কাইপি এর প্রথম বেটা সংস্করন উন্মুক্ত করা হয়।

@ সেপ্টেম্বর, ২০০৫ — ই-বে ২.৬ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে কিনে নেয় স্কাইপি কে

@ জুলাই ২০০৮ — অস্ট্রিয়ান সরকারের আন্তরাষ্ট্রীয় মন্ত্রনালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই আলোচনা সবার সামনে উঠে আসে যে কোন সমস্যার সৃষ্টি করা ব্যতিরেকেই (আলাপচারীতায়রতদের মনে কোনরূপ সন্দেহের উদ্রেক না করেই) স্কাইপি থেকে স্কাইপির আলাপচারিতা স্পষ্টতই শোনা (আড়িপাতা) সম্ভব।

@ ফেব্রুয়ারী ২০০৯ — ইউরোপে বিভিন্ন দেশ স্কাইপির আভ্যন্তরীন নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে সরব হয়ে ওঠে। আর এটাকে স্কাইপি কর্তৃপক্ষ এই বলে ঢেকে দিতে চায় যে সরকারী দপ্তরগুলো তাঁদের সাথে চুক্তির মাধ্যমে নিজ নিজ দেশের ব্যবহারকারীদের তথ্যে আড়িপাততেই পারেন।

@ সেপ্টেম্বর ২০০৯ — ই-বে ঘোষনা দেয় স্কাইপি এর ৬৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে দেবার।

@ মে ২০১১ — মাইক্রোসফট কিনে নেয় স্কাইপিকে

@ অক্টোবর ২০১১ — মাইক্রোসফট স্কাইপি ডিভিশন পুরোপুরি স্বত্বঃবুঝে পায় স্কাইপি এর

@ মে ২০১২ — ফ্রান্সের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনের একটি পলিটেকনিকের যৌথ পরিচালনায় অক্টোবর ২০১১ তে পরিচালিত এক গবেষণায় ১০০০০ স্কাইপি ব্যবহারকারীর ২ সপ্তাহ যাবৎ তথ্য পর্যবেক্ষনে দেখা যায় যে স্কাইপির নিরাপত্তা ত্রুটিব্যবহার করে সংগৃহীত তথ্যে ব্যবহারকারীদের ভৌগলিক অবস্থান এবং আইপি ঠিকানা পর্যবেক্ষন করা সম্ভব এবং অতি সুক্ষভাবেও যাচাই করে মোটামুটি সঠিক অবস্থানেই ব্যবহারকারীকে পর্যবেক্ষন করা সম্ভব হচ্ছে। তথ্যটি এই সময়ে এসে তাঁরা পরিপূর্ন যাচাই বাছাই শেষে প্রকাশ করেন।

@ জুলাই ২০১২ — স্কাইপি ব্যবহারকারীদের পাসওয়ার্ড এনক্রিপশন বিনাই সংরক্ষন ও আন্তর্জালের (ইন্টারনেট) জগতে ব্যবহার করা হচ্ছে এই মর্মে অভিযোগ ওঠে আর এই ত্রুটির কারনে বেশ কিছু ব্যবহারকারী তাঁদের নিজেদের হিসাবটি(অ্যাকাউন্ট)র অধিকার হারিয়ে ফেলেন।

@ সেপ্টেবর ২০১২ — পুরো স্কাইপি নেটওয়ার্কে মাইক্রোসফটের করা নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়। মাত্র ছয়টি ধাপে একটি নমুনা স্বরূপ হিসাব (অ্যাকাউন্ট) সঞ্চালনার মাধ্যমে একটি কাংখিত ইমেইল আইডিতে বর্তমানে চলমান/সক্রিয় হিসাব বেদখল করে নেয়া সম্ভব। এই ত্রুটিটি ১৪ই নভেম্বর ২০১২ইং অবদি বজায় ছিলো।

এত কিছুর পরেও উপুর্যপুরি স্কাইপির ব্যবহারকারী খুব একটা কমেনি বরংচ বেড়েইছে। কারন এই তথ্যগুলো প্রযুক্তির সাগরে সার্ফিং করে বেড়ানো মানুষগুলো ছাড়া অন্যদের কাছে বিস্বাদময় আর তারউপর ছিলো এই পুরোটা সময় জুড়ে (২০০৯-২০১২) বিভিন্ন রকমের কলরেট অফার আর বিনামূল্যে কল করার সুবিধার ব্যবস্থা। ঐ যে শিরোনামে লিখে রেখেছি — “বারবণিতা”, সেই ক্যারিশমাটা উপভোগ করেছে সবাই এই সময়টাতেই আর এই প্ররোচনা আর প্রতারণাকে সাথী করেই।

উপরোক্ত তথ্যগুলোর উপরে বিশ্লেষণ সহ আরো কিছু বিষয়ে আলোচনা করবো আগামী পর্বে।

# পর্ব-২ : খদ্দের সমাচার — প্রকাশ করবার ইচ্ছে আছে আগামী ২১শে ডিসেম্বর রাতে।


তারিখ: ২৯শে-জুন-২০১২ইং

অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে “উইন্ডোজ” অপারেটিং সিস্টেম কে আমি “খিড়কী” বা “জানালা” নামে ডাকতেই স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করি। আমার এ লেখায়ও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। ব্যক্তিগতভাবে কেউ যদি লেখাটা পড়ে আহত হোন বা কষ্ট পেয়ে থাকেন তো সেইজন্যে আমি আন্তরিকভাবেই দুঃখিত। কিন্তু করার ও তো কিছু নেই। আমার লেখায় যদি আমিই শান্তি না পাই তো লিখবো কি করে‍‍? এই কাজটুকু করাই হতো না যদি না “প্রজন্ম ফোরাম” আর “উবুন্টু বাংলাদেশ” এর মেইলিং লিস্টে কিছু মানুষের ভুল ধারনা কে ভেঙ্গে দিতে কিছু কঠিন মন্তব্য না করতাম আর সেখানে আমাদের গৌতম দা আমাকে এই বিষয়ে বিশদভাবে লেখার জন্য উৎসাহ না দিতেন। গৌতম রয় কে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার ভেতরের আমি কে টেনে-হেঁচড়ে বের করে নিয়ে আসবার জন্য।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ লেখাটি আমি পর্ব আকারে বিগত ২৯শে ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী প্রতিটি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে প্রকাশ করতে চেষ্টা করেছি। শারীরিক অসুস্থতার কারনে মাঝের কিছু পর্বের প্রকাশকাল আমার পক্ষে ঠিক রাখা সম্ভব হয়নি। এজন্যে আমি আমার লেখার সকল পাঠকের কাজে আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি। আজ প্রকাশিত হলো লেখার অষ্টম ও শেষ পর্ব। পাঠক সমালোচনা এবং মতামতের ভিত্তিতে আমার নিজ বক্তব্যের প্রকাশ নিয়ে এই পর্ব রচিত হলো।

আপনার আগ্রহ থাকলে একটু সময় করে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম [ক] ও সপ্তম [খ] পর্বের লেখাগুলো পড়ে নিতে পারেন।

আমার এই লেখার পূর্বে প্রকাশিত পর্বগুলো –
বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ১) প্রকাশিত হয়েছিলো বিগত ২৯শে ডিসেম্বর ২০১১ইং, বৃহস্পতিবার রাত্রে।
বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ২) প্রকাশিত হয়েছিলো বিগত ৫ই জানুয়ারী ২০১২ইং, বৃহস্পতিবার রাত্রে।
বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ৩) প্রকাশিত হয়েছিলো বিগত ১২ই জানুয়ারী ২০১২ইং, বৃহস্পতিবার রাত্রে।
বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ৪) প্রকাশিত হয়েছিলো বিগত ১৯শে জানুয়ারী ২০১২ইং, বৃহস্পতিবার রাত্রে।
বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ৫) প্রকাশিত হয়েছিলো বিগত ৩১শে জানুয়ারী ২০১২ইং, মঙ্গলবার রাত্রে।
বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ৬) প্রকাশিত হয়েছিলো বিগত ১৬ই ফেব্রুয়ারী ২০১২ইং, শুক্রবার রাত্রে।
বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ৭[ক]) প্রকাশিত হয়েছিলো বিগত ৩১শে মার্চ ২০১২ইং, শনিবার রাত্রে।
বাঁচতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে (পর্ব – ৭[খ]) প্রকাশিত হয়েছিলো বিগত ১৪ই মে ২০১২ইং, সোমবার রাত্রে।

আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন যে, ফাউন্ডেশন ফর ওপেন সোর্স সলিউশনস বাংলাদেশ (Foundation for Open Source Solutions Bangladesh বা FOSS Bangladesh) বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে মুক্তপ্রযুক্তি’র প্রসার ও প্রচারের লক্ষ্যেই বিভিন্ন ধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে বিগত ২০১১ইং সালের জানুয়ারী মাস থেকেই। আজ অবদি আমরা দেশের পাঁচটি বিভাগীয় শহর সহ বারোটি জেলা শহরে আমাদের “পেঙ্গুইন মেলা” আয়োজন নিয়ে গিয়েছি আর ছড়িয়ে দিয়েছি সাধারন প্রযুক্তিব্যবহারকারীদের মাঝে প্রযুক্তিগত জ্ঞানের আলো আর শিক্ষনীয় সচেতনতার বিচ্ছুরনকে। প্রায় দেড় হাজার নতুন কম্পিউটার ব্যবহারকারী আমাদের এই সকল আয়োজনের মাধ্যমে মুক্ত প্রযুক্তি আর মুক্ত সফটওয়্যারের বিষয়ে জানতে পেরেছেন। নতুন এবং পুরানো মিলিয়ে প্রায় আড়াই হাজার ব্যবহারকারীকে আমরা দিয়েছি জিএনইউ/লিনাক্স ব্যবহারে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবহার সহায়তা সেবা।

সামাজিক জীব হিসেবে মানুষ নিজের সামাজিক দায়বদ্ধতা আর কর্তব্যের জায়গা থেকে অনেক কিছুই করে। অত্যন্ত ক্ষুদ্র একজন মানুষ হিসেবে আমার করনীয় কাজের অনেকগুলোই করা হয়ে ওঠে না শারীরিক নানান জটিলতা/প্রতিবন্ধকতার কারনে। আর ২০০৬ইং সালের শুরু থেকে আজ অবদি হয়তোবা খুব বেশী একটা কলম ধরবার সুযোগই পাইনি। তবে যখন যেখানে প্রযুক্তির কলম (কার্সর) ধরেছি প্রযুক্তির জগতে ব্যবহারকারীদের প্রতি বিভিন্ন সময়ে অন্যায়-অবিচার আর অসচেতনতা নিয়ে কথা বলেছি, বলছি আর বলে যাবো ইনশাল্লাহ।

আমি এই লেখাটা লিখতে শুরু করেছিলাম মূলতঃ কোলকাতার মুকুন্দপুরের আরটিআইআইসিএস হাসপাতালের বিছানা থেকে। সারাটা দিন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বসে কাটাতে খুব কষ্ট হতো। একই সাথে দেশে থাকাকালীন আমার দুরন্ত জীবনটাকে বড্ড বেশী মনে পড়তো। দেশ – দেশের মানুষের জন্য আমার কিছু করার সামর্থ্য তো খুব সামান্য। তবে প্রযুক্তি জগতে মুনাফালোভীরা আগামী দিনে আমাদেরকে কিভাবে করায়ত্ত আর দখল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তা প্রকাশ করার চেষ্টাটুকু ব্যক্ত করতেই আমার ডাক্তার খুব কম সময়ের জন্য (দৈনিক ১ঘন্টা) নেটবুক অনুমোদন করলেন। ভাগ্নেকে বলে জোগাড় করলাম টাটা ফোটনের মডেম। ব্যস! আমাকে আর পায় কে? আন্তর্জালের জগতে কিছু লেখা লিখে মানুষের জন্য কিছু বিষয় যুক্তি-তথ্য-প্রমাণ সহ তুলে ধরতে চেষ্টাটুকু তো করলাম। দেখা যাক, সময়েই বলে দেবে আমার এই সাবধানবানী কতটুকু কার্যকরী হলো।

আমি খুব ভালো করেই জানি আমি কি লিখেছি এবং লিখছি। প্রতিটা মানুষই নিজের মত প্রকাশ করে এবং সেটাকে ব্যক্তিগত মতামতই বলে। আর আমার এই লেখার আগে আমার প্রযুক্তি জীবনের প্রায় ১৪টা বছর আমি এই ধরনের কাজের সাথেই ব্যয় করে এসেছি, অভিজ্ঞতা নিয়েছি আর প্রতিটা লেখাতেই তথ্য প্রমান সহ লিখছি যেগুলো আমার নিজের মনগড়া কিছু নয়, বাস্তবতা। আজকের দিনে যখন মুক্ত সফটওয়্যারের সার্বিক সাফল্যের মুকুট পরবার সময় প্রায় হয়ে এসেছে তখনই আমি এই আন্দোলনটাকে বেগবান করতে বার্তা ছড়াচ্ছি পুরো বাংলায় (বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ উভয় বাংলাতেই)। আমি সফটওয়্যারের মুক্তি বা মুক্ত সফটওয়্যার নিয়ে কথা বলছি শুধুমাত্র সোর্স ওপেন করবার বিষয়ে নয়।

অনেকের মনেই ভ্রান্ত একটা ধারনা রয়েছে/সৃষ্টি হয়েছে যে, “ওপেন সোর্সড পন্যের মানোন্নয়নকারী (ডেভেলপার)গণ খুব দামী (কস্টলি) বা কোন একটা পর্যায়ে এসে এই সব সফটওয়্যারের মানোন্নয়নে (ডেভেলপমেন্ট)র জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয়িত হয়।” এই ভ্রান্ত ধারনাটুকু ভাঙ্গবার সহজ উপায় হলো সারা বিশ্বের উন্মুক্ত সফটওয়্যার গুলোর দিকে একটু নজর বুলানো। যদি এই উন্মুক্ত সফটওয়্যারের ডেভেলপমেন্ট খুব খরুচেই হতো তবে সারা বিশ্ব এটাকে নিতে এত মাতামাতি করতো না। এমনকি আপনাদের বিখ্যাত মাইক্রোসফটও এটাকে ছুঁয়েও দেখতো না। মাইক্রোসফট নিজের প্রযুক্তি পন্যগুলোয় বর্তমানে ওপেন সোর্স প্রযুক্তির ব্যবহার করছে। আর সেইজন্যে কিছু ওপেন প্রোডাক্টের ডেভেলপমেন্টেও সে নিজেই কিছু অবদানও রাখে। নিজের প্রয়োজনে যেখানে মাইক্রোসফট পয়সাগুনে ডেভেলপার রেখে নতুন করে সবকিছুই তৈরী করাতে পারতো সেখানে সে এই কাজটা কেন করে বলুন দেখি? কারন একটাই যে পয়সা দিতে তাঁকে এমন একটা পুরো পন্য প্রস্তুত করাতে হতো সেই পয়সায় সে শুধু বর্তমান অবস্থা থেকে মানোন্নয়ন করিয়েই নিজের কার্যোদ্ধার করে নিতে পারছে। যদি আপনি নিজে মানোন্নয়ন (ডেভেলপমেন্ট) আর খরচ নিয়ন্ত্রন (কস্ট ম্যানেজমেন্ট) না বুঝেই কোন প্রজেক্ট শুরু করে দেন তবে সেটা মুখ থুবড়ে পড়ে যেতে বাধ্য। সেজন্যে একটা উন্মুক্ত সফট বা এই প্রযুক্তিকে দুষে লাভ নেই। আরো বেশী জানতে হলে পড়ে নিতে পারেন — http://msdn.microsoft.com/en-us/library/aa338205%28v=office.12%29.aspx, http://www.networkworld.com/community/blog/microsoft-uses-open-source-make-outlook-data-

উন্মুক্ত প্রযুক্তির পন্য “লিনাক্স কার্নেল”কে একটা সময়ে ক্যান্সার বলে আখ্যায়িত করা মাইক্রোসফট ইদানিংকালে নিজের প্রয়োজনেই “লিনাক্স কার্নেল” ব্যবহার করছে নিজের পন্যে আর শুধু তো ব্যবহারই নয় নিজের স্বার্থেই এটার মানোন্নয়নেও অবদান রাখতে শুরু করেছে। আরো বেশী জানতে হলে — http://www.linuxfoundation.org/news-media/announcements/2012/04/linux-foundation-releases-annual-linux-development-report পড়ে নিন।

অনেকেই জানেন না যে তিনি নিজেও আজকাল যে ফোরাম/ব্লগে কথা বলছেন/মত প্রকাশ করছেন, এটার সার্ভার থেকে শুরু করে আপনার পর্যন্ত আসা সার্ভিসের প্রতিটা অংশই কিন্তু মুক্ত সফটওয়্যারের কল্যানেই। আজকে বাংলার ছেলেরা যে আউটসোর্সিং করে দেশের অর্থনীতিতে অবদানের পাশাপাশি নিজের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাচ্ছে সেগুলো যদি উন্মুক্ত সফটওয়্যার না হয়ে প্রথমে কিনে, তারপর জ্ঞানার্জন করে, তারপর কামাই করতে হতো তো পরিস্থিতিটুকু বুঝে দেখেন তো কি হতো?

মজা করে “ঘি’ খাবো কিন্তু ঘোষের গায়ে “ঘি’ এর তৈলাক্তভাব আর গন্ধটুকু লেগে থাকে বলে তাকে ঘৃনা করবো এমন মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে।

আবার অনেকের মনেই ভ্রান্ত একটা ধারনা রয়েছে/সৃষ্টি হয়েছে যে, “ওপেন সোর্সড পন্যের ব্যবহারকারীগণ বিশেষ কোন গোত্রের মানুষ। হয় তাঁরা খুব উঁচু স্তরের জ্ঞানী মানুষজন কিংবা অন্য গ্রহের কোন প্রাণী (এলিয়েন)।” অতি সাধারন ও সহজ একটা উদাহরন টানি — আমার এক নাতির বয়েস সাড়ে তিন বছর। ও এই সাম্প্রতিক সময়ে মাত্র ১৫ দিন (আমার এই ধারাবাহিকটির লেখা শুরু করবার পূর্বেই) আমার ল্যাপটপ ব্যবহার করেই কম্পিউটারে মজা পেয়ে গিয়েছে এবং বেশ মজা করেই ও সেটাকে চালনা/নিয়ন্ত্রন করতে পারে। আজ অবদি ওকে কোন ভুল বাটনে ক্লিক করতে আমি দেখিনি। ও এখন নিজে নিজে শিক্ষনীয় কার্টুন গুলো বের করে, গেমস খেলে এবং কাজ শেষ কম্পিউটার বন্ধও করে নিয়মমাফিক। আর এসবই করে ও আমার ল্যাপীর ওএস “লিনাক্স মিন্ট ১০ জুলিয়া” ব্যবহার করেই।

অনেকের আমার লেখায় মন্তব্য করতে চেষ্টা করেছেন যে, “কেন এইভাবে উন্মুক্ত ব্লগে নতুন আসা একটা প্রযুক্তি নিয়ে এত ঝড় তুলছি? কেন এতদিন পরে এসে এই সব কথা লিখছি/বলছি? কে আমাকে বিশেষভাবে ভাড়া করে এনে ব্লগে এইসব লিখতে দিয়েছে? ………..ইত্যাদি” প্রত্যুত্তর আমি করেছি আমার লেখার শুরুতেই। অারো বলবো — “ভাড়া করা মুক্তিযোদ্ধা দেখেছেন কোন দেশে? কিংবা ভাড়া করা ভাষা সৈনিক? যাঁরা কি না অকাতরে নিজের দেশ আর ভাষার জন্য জান কুরবার করতে দ্বিধান্বিত নয়।” জেনে রাখুন — “ভাড়ায় সব পাওয়া গেলেও সচেতন মানুষ পাবেন না।” ভাইরে! আমি নিজে যেহেতু এই প্রযুক্তির ব্যবহারে উপকার পাচ্ছি, দেশের জন্য, আমজনতার জন্য উপকার দেখতে পাচ্ছি তাই এটা নিয়ে বলছি, সাথে আছি এবং থাকবোও ইনশাল্লাহ।

অনেকেই বলতে চেয়েছেন, “আমি যে প্রতিষ্টানে চাকুরী করি সেটার মালিকও নাকি আমি, আবার শ্রমিকের বেতন ভাতা সময়মতো হয় কিনা কিংবা কমবেশী হয় কি না তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। অফিসে নাকি ‘খিড়কী’ ব্যবহার করে, পাইরেটেড সফট ব্যবহার করে আর এই ব্লগে এসে মুক্ত প্রযুক্তি নিয়ে ফড়ফড় করি সেটাও বলতে চেষ্টা করলেন।” এঁদেরকে কিছু বলবার দরকার মনে করি না। কারন এঁরা দুই লাইন বেশী বোঝা পাবলিক। যতটুকু জানেন তার চাইতে বোঝেন বেশী আর মন্তব্য করেন তার চাইতেও বেশী। আরে ভাই যদি এতই মনে খুঁত-খুঁতানি থাকে তো ব্যক্তিগত/রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অনুসন্ধান পরিচালনা করে দেখুন আমি ও উন্মুক্ত প্রযুক্তির আন্দেলনে আমার অংশগ্রহণ নিয়ে। দুমদাম মন্তব্য করে নিজেকে বোকার প্রমাণ করবার দরকার কি? এভাবে নিজেই নিজেকেই অপমানিত করবেন না।

অনেকেই আবার “পশ্চিমা গন্ডি ভাঙ্গবার ডাক দিয়েছেন। কেউ কেউ তো আবার অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট নামক আন্দোলনের সাথে উন্মুক্ত প্রযুক্তিকে গুলিয়েও ফেলেছেন।” উন্মুক্ত প্রযুক্তি নতুন কমিউনিজম বা বামপন্থী রাজনীতির কোন ফসল নয়, কিংবা ঐ ধারনাপ্রসুত ও নয়। আমরা সবাই স্কুল জীবনে টিফিন আমাদের বন্ধুদের সাথে ভাগাভাগি (শেয়ার) করতাম। নিজের বই, লেখা এমনকি জামা-জুতো অবদি এই ভালোবাসা প্রকাশ পেতো। আর আজ এসে যদি আমাকে হুট করেই কেউ বলে বসে যে ভাই তোমার কাছে আমি যে সফটওয়্যার বেচেছি তা শুধুই তোমার জন্য তোমার বাবা-মা-ভাই-বোন কারো জন্যেই নয়। আর বন্ধু-বান্ধব সে তো বহুত দূর। বলুন দেখি এটা মানি কিভাবে? আর এই ধারনা ভেঙ্গে দিতেই আমাদের এই উন্মুক্ত প্রযুক্তির আন্দোলন। এটা কোনভাবেই কোনরূপ রাজনীতি নয় বরংচ আমার অধিকার আদায় করে নেবার একটা আন্দোলন। আমরা যেহেতু আমাদের নিজেদের জন্য নিজেদের সফটওয়্যার গুলো তৈরী করে নিচ্ছি, নিতে শিখছি এবং শেখাচ্ছি তাই এমনিতেই এই প্রযুক্তির প্রভাবে আমরা আমাদের সফটওয়্যারের স্বাধীনতা বা মুক্তি নিশ্চিত করতে পারছি। আরো বেশি করে জানতে হলে জেটিএস ম্যুর পরিচালিত “আরওএস” বা “রেভুল্যুশন ওএস” চলচ্চিত্রটি আগ্রহী সবাইকে দেখে-শুনে-বুঝে নেবার আহ্বান জানাবো।

বেশ কিছু মন্তব্য পেয়েছিলাম যে, “আমি নিজে কম্পিউটারে হাতেখড়ি নিয়েছি কি দিয়ে/কোন সফটওয়্যার/ওএস ব্যবহার করে? যদি “খিড়কী” না থাকতো তবে আমি কি করতাম/করেছি? নতুন একটা ওএস তৈরী করে নিয়েছি কি না।” এইরূপ প্রশ্নের উত্তর আমি দিয়েছি বিভিন্ন বাংলা ফোরামে। তদুপরি এই মন্তব্যকারীদেরকে বলতেই হচ্ছে যে, অনুগ্রহ করে “লিনাক্স” কার্নেলের জন্মকথাটা বিভিন্ন বাংলা ব্লগ/ফোরামে পেয়ে যাবেন। একটু দেখে/পড়ে আসুন। আর আমি নিজে কম্পিউটার ব্যবহার করা শিখেছি ১৯৯৭ সাল থেকে আর ১৯৯১ সালেই জন্ম নিয়েছিলো “লিনাক্স কার্নেল”।

কাউকে কাউকে দেখলাম প্রচন্ড মাত্রার উৎসাহী এবং বলতে যে, “সারা বিশ্বে মাইক্রোসফটের পন্য ব্যতীত আর কোন পন্য নাকি কর্পোরেট দুনিয়া-স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবহৃত হয়ই না। আর তাই আমার এই মতামতগুলো শুধুই বিরূপ মন্তব্য। পশ্চিমা কর্পোরেট দুনিয়ার দাপটেই নাকি আমাদের এই আন্দোলন মুখ থুবড়ে পড়ছে।” এই উৎসাহী জনতার জন্য ছোট্ট কুইজ — বলুন দেখি লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার বা এলএইচসি প্রকল্পের জন্য ব্যবহৃত ওএস/অপারেটিং সিস্টেম কোনটি/কোন প্রযুক্তির? কিংবা ফ্রান্সের পুলিশ বিভাগ, জার্মান সরকারের দপ্তর আর ভারতের আইন বিভাগের দপ্তরগুলোতে ব্যবহৃত ওএস/অপারেটিং সিস্টেমটা কি/কোন প্রযুক্তির?। বাংলাতেই লেখা একটা ফোরাম টপিকের লিংক দিচ্ছি — http://forum.projanmo.com/topic26412.html আশা করি যে আপনারা সময় করে পড়ে নিবেন। আরো বেশী জানতে হলে ঐ লেখার শেষেই উইকিপিডিয়ার লিংক পেয়ে যাবেন। আশা রাখি যে তাতে আপনাদের ভ্রান্ত কিছু ধারনা পুরোপুরিই ভাঙ্গবে।

অনেকে আমাকে বলতে চেষ্টা করেছেন যে, “আমি নাকি মাইক্রোসফটের প্রতি ঘৃনা থেকে কিংবা হিংসাপ্রসুত হয়ে এই লেখা লিখেছি।” কিন্তু মূলত বিষয়টা হলো আমরা কিভাবে মনোপলি বা একচেটিয়া ব্যবসায়িক মুনাফা লোভীদের বলি হতে চলেছি তা নিয়ে সাধারনকে সচেতন করতে চেষ্টা চালিয়েছি আমার এই লেখায়। এখন যদি তথ্য-প্রমাণের বেশির ভাগই চলে যায় মাইক্রোসফট আর তাঁর পন্যের বিরুদ্ধে তাহলে তাঁকে তো আমি পছন্দ করতে পারি না তাই না? আর যেহেতু এই জগতের সাথে আমার সম্পর্ক প্রায় এক যুগেরও বেশী তাই এই জগতটার নোংরামি আর ভালো দিক দুটোই আমার তুলে ধরা কর্তব্য মনে করেছি এবং এই লেখাটা লিখেছি। মাইক্রোসফটকে সফটওয়্যার জায়ান্ট বলে মুখে ফেণা তুলে ফেললেই হবে না, তাঁর অপকর্মের সমালোচনা/নিন্দা করাটাও তাঁর অন্যায়গুলোকে প্রতিরোধ করবার একটা ভাষা/আন্দোলনের পদক্ষেপ। আর এটুকু করতে গিয়ে যদি “চোর কে চোর বললে যদি চোর/চোরের সাগরেদরা মাইন্ড করে” তাহলে তো সেখানে আমার করার কিছুই নাই। আমি “চোর” কে “চোর”, “ডাকাত” কে “ডাকাত”ই বলবো। আর বলবার সাথে সাথে আমি তো তথ্য-প্রমাণও উপস্থাপন করে দিচ্ছি, পারলে সেগুলো মাইক্রোসফট কিংবা তাঁর সহযোগীগণ খন্ডন করুন।

আপনারা জানেন যে, “এইডস” একটি মহামারী। যা একসময় বানর থেকে ছড়িয়েছিলো মানুষে আর এখন মানুষ জাতিকে নিজের স্বেচ্ছাচারী জীবনযাপনের মাসূল একেবারে সুদে-আসলে দিতে হচ্ছে। সচেতনতা আর নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনই পেরেছে এই মহামারীকে প্রতিহত করতে, মানুষের নিয়ন্ত্রনে আনতে।

ঠিক তেমনি আমার এবং বিশ্বের সচেতন সফটওয়্যার প্রকৌশলী, তথ্যপ্রযুক্তিবিদ আর তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের নজরে ঐরূপ একটা মহামারী হচ্ছে “মাইক্রোসফট” আর এঁর পন্য। চটকদার পন্য বিপনন ব্যবস্থা আর নতুন নতুন ষড়যন্ত্র আর প্রতারনার ফাঁদসমূহ, যা ধ্বংস করছে জ্ঞানের বিকাশ মাধ্যমগুলোকে। জোরপূর্বক/অবৈধ পন্থায় করায়ত্ত করতে চাইছে আমাদের প্রযুক্তি জীবনের আনন্দ-সুখ-স্বাচ্ছ্যন্দকে। আর তাই আসুন নিজে সচেতন হই, অপরকে সচেতন করি।

সুদীর্ঘ ছয়টি মাস ধরে এই লেখা পড়ে, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মন্তব্যের মাধ্যমে আমার লেখাকে এগিয়ে নিতে সহায়তাকারী সকল পাঠক-সমালোচনদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। রিপন মজুমদার ভাইয়ের অনুরোধে এই লেখাটির একটা বুকলেট তৈরী করবো ইনশাল্লাহ আসন্ন ২০১৩ইং সালের ‘অমর একুশে’র বইমেলাতেই। আগামীতে এইরূপ আন্দোলনের সাথে যেনো নিজেকে সর্বক্ষন জড়িয়ে রাখতে পারি আর তথ্য-উপস্থাপনার মাধ্যমে দেশের জনগনের জন্য নিজের সীমিত সামর্থ্যের ব্যবহার করে কিছু করতে পারি সে দোয়াই চাইছি আপনাদের সকলের কাছ থেকে।

আজকে এই পর্বটি প্রকাশ করার মাধ্যমে আমি এই ধারাবাহিকের ইতি টানছি এবং একই সাথে সবাইকে নিজ নিজ ব্লগে এবং ওয়েব সাইটে আমার এই লেখাটি অন্য সবার সাথে ভাগ করে নেবার অনুমতি দিচ্ছি (পাবলিক ফোরামগুলোয় লেখাটা শেয়ার করবার পূর্বে সতর্ক থাকুন, ব্যক্তিগত আক্রমনের শিকার হতে পারেন)। তবে শর্ত হলো মূল লেখা এবং লেখক সত্ত্বঃটুকু হুবহু বজায় রেখে পুরো লেখাটুকু (প্রথম থেকে অষ্টম পর্ব অবদি পর্বাকারে না হয়ে বরংচ একত্রিতকরণপূর্বক একক লেখা হিসেবে)ই প্রকাশ করতে হবে এবং তা আমার এই ব্লগের ন্যায় ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সের নন কমার্শিয়াল-শেয়ার অ্যালাইক ধারা-উপধারার অধীনেই প্রকাশ করতে হবে। কোন কিছু বুঝতে অসুবিধা হলে সরাসরি আমার সাথে মুঠোফোন এবং ইমেইলে যোগাযোগে দ্বিধা করবেন না যেনো।

Tag Cloud

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 94 other followers

%d bloggers like this: